প্রতিবেদন শুরু করা যাক সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে।
ভারতের সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা শাখার এক প্রতিনিধিদল গিয়েছিল বাংলাদেশে। তারা সেনাপ্রধান ওয়াকারের সঙ্গে বৈঠক করেন। তার হাতে তুলে দেন বেশ কিছু স্যাটেলাইট ইমেজ। যেখানে ধরা পড়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে জঙ্গি শিবির। এর পর বাংলাদেশ সফরে যান পাকিস্তান সেনার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্তা তথা সে দেশের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামসাদ মির্জা। তিনি তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠক নিয়ে ঢাকার তরফে একটা বাঁধা গতের বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক স্তরের বাণিজ্য,যোগাযোগ এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়েছে।
যদিও অন্য একটি সূত্র বলছে, পাক সেনাকর্তার বাংলাদেশ সফরের আসল কারণ, সে দেশের মাটি ব্যবহার করে ভারত বিরোধী কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়া। ইতিমধ্যে আমরা জেনে গিয়েছি যে ঢাকায় পাকিস্তান দূতাবাসে আইএসআই একটি সেল খুলেছে। খুব মহানকাজের উদ্দেশ্য নিয়ে যে তাদের এই পদক্ষেপ নয়, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যে কারণে ভারতীয় সেনা গোয়েন্দা শাখার চার কর্তার সফরের উল্লেখ করতে হল তা হল, বাংলাদেশকে এই বার্তা দেওয়া যে তারা যেন পাকিস্তানকে তাদের দেশে মাটির ভারত-বিরোধী কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করতে না দেয়। পাশাপাশি বার্তা দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানকেও। সেটা খানিকটা এরকম। ভারত যদি বাংলাদেশকে চাপে রাখতে পারে, তাহলে পাকিস্তান তাদের কাছে কিছুই না।
এবার চাপ আরও বাড়তে গুজরাত-রাজস্থান মধ্যবর্তী এলাকায় ভারত-পাক সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চল স্যর ক্রিক সীমান্তে শুরু হল তিন বাহিনীর যৌথ মহড়া। চলবে ১০ নভেম্বর। এর জন্য ভারত পাঁচটি নোটাম (নোটিশ টু এয়ার মিশন, আগে এর পূর্ণ রূপ ছিল নোটিশ টু এয়ারম্যাম।) জারি করেছে। যে এলাকায় এই মহড়া চলবে, সেই এলাকার ওপর দিয়ে বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই পাঁচটি নোটামের মধ্যে তিনটি আরব সাগরের জন্য, একটি মধ্য ভারতের আকাশের জন্য, আর একটি বঙ্গোপসাগরের ওপর বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছাকাছি এলাকার জন্য। পাকিস্তান ইতিমধ্যে তার আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। এই বছর মে মাসে পাকিস্তান এবং অধিকৃত কাশ্মীর অঞ্চলে সন্ত্রাসী পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ভারতীয় সেনা চালায় অপারেশন সিঁদুর। এর কয়েক মাসের মধ্যে এবার সীমান্ত শুরু হল অপারেশন সিঁদুর। অনেকে বলছেন, দিল্লির সাউথব্লক এবং নর্থব্লক থেকে আগাম বার্তা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হল যে ভারত প্রস্তুত। এই যুদ্ধ অনুশীল পাকিস্তানের রাতে ঘুম কেড়ে নেওয়ার পক্ষে যথেষ্ঠ।
এর আগেও এই ধরনের মহড়া হয়েছে। যেমন গগনশক্তি, ব্রহ্মাস্ত্র। এবারের মহড়ার নাম ত্রিশূল দেওয়ার কারণ কিন্তু অন্য। সাউথব্লক এই মর্মে বার্তা দিতে চাইছে যে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী তিনটি দিকের যে কোনও একটি দিক থেকে হামলা হলে তা প্রতিহত করার ক্ষমতা রাখে। এটা এক রাজনৈতিক বার্তা। প্রতিবার সাউথব্লক যখন এই ধরনের মহড়া চালিয়েছে, তখন ইসলামাবাদ বা রাওয়ালপিন্ডি মহড়াকে অফেন্সিভ প্রিপারেশন হিসেবেই ব্যাখ্যা করে। কিন্তু এবারের মহড়ার তাৎপর্য একেবারে আলাদা।
ইউনূস বাংলাদেশ সফররত সাহির শামসাদ মির্জাকে একটি বই উপহার দিয়েছেন। সে বইয়ের প্রচ্ছদে আঁকা প্রতীকী মানচিত্রে দেখানো হয়েছে ভারতের উত্তরপূর্ব অঞ্চলের বেশ কিছুটা অংশ বাংলাদেশের। তা নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। সেই ঘটনার পরে পরেই শুরু হল সেনা মহড়া। সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ত্রিভূজ – ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তান আবারও প্রবেশ করেছে নতুন ভূরাজনৈতিক চাপে।












Discussion about this post