১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের কথা প্রায় অস্বীকার করছে বাংলাদেশ। এমনকি ভারতের সেনাবাহিনী প্রবলভাবে তাদের সাহায্য করেছিল, সময় তাদের পাশে ছিল, তাও অস্বীকার করছে তারা। যা বিভিন্ন সময় দেখা গিয়েছে। এইবার দেখা গেল, মুক্তিযুদ্ধের ছবি সরানো। যা নিয়ে আবার বহু মানুষের ক্ষোভও তৈরি হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ। যে ছবি ঐতিহাসিক। যে ছবি দেখে বাংলাদেশের বহু সাধারণ নাগরিক গর্ববোধ করে। এমনকি, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত যে পাশে ছিল, সেটির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবার সেই ছবি সরিয়ে দেওয়া হল। ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দিবেদী এ প্রসঙ্গে কিছু কথা বলেছেন। তিনি জানান, ঐতিহাসিক ওই ছবিটির পরিবর্তে করম ক্ষেত্র নামে ছবি বসানো হয়। যদিও এই ধরনের কাজ সবাই সমর্থন করেনি। সাবেক সেনাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এমনকি এই ধরনের কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও করা হয়।
ভারতের সেনাপ্রধান বলেন, যদি ভারতের সোনালী সময় দেখেন, তাহলে তিনটি অধ্যায়ের কথা বলতে হয়। তা হল ব্রিটিশ যুগ, মুঘল যুগ এবং তার আগের যুগ। আমরা যদি এটিকে এবং সেনাবাহিনীর লক্ষ্য যুক্ত করতে চাই, তাহলে প্রতীকগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তবে বাংলাদেশ যে ভারতের অবদানকে মুছে ফেলতে চাইছে তা পরিষ্কার। অনেকেই বলছেন, মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান মুছে ফেলতে চাইছে বাংলাদেশ। এর আগে বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস থেকে শুরু করে একাধিক ব্যক্তিত্বের কথা থেকে স্পষ্ট হয়। এবার তা হাতেনাতে প্রমাণিত হল। বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং চীনের সঙ্গে মাখামাখি সম্পর্ক গড়ে তুলছে, তা ভারতের কাছে অত্যন্ত সন্দেহজনক। তবে ভারত ও একাধিক বার বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ বারবার ভারতকে উস্কানি দিয়েছে যুদ্ধের জন্য। কিন্তু সেই ফাঁদে ভারত পা না দিয়ে বাংলাদেশকে বুঝিয়েছে। কখনো বিদেশ মন্ত্রণালয়ের তরফে, কখনো আবার কূটনৈতিক চালের মধ্য দিয়ে। এরপরও যদি বাংলাদেশ সাবধান না হয়, তাহলে যে ভারত সরকার বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, তার ফল ভুগতে হবে পদ্মা পাড়র দেশকে। ভারতকে হুমকি হুঁশিয়ারি দিয়ে দমানো যায় না। এদিন তা স্পষ্ট করেছেন ভারত দেশ সেনাপ্রধান। ভারতের একটা ধৈর্য রয়েছে। এখন চুপ করে আছে, মানে এটা নয় সে তারা দুর্বল। ভারত ঝাঁপিয়ে পড়লে বাংলাদেশ পাকিস্তান মিলেও ভারতের বিরুদ্ধে হানতে নতে পারবে না। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ভারত যে গোটা বিশ্বের মধ্যে সামরিক নিরিখে চতুর্থ স্থানে রয়েছে তা অজানা নয় বাংলাদেশের। তারপরও কেন তারা ভারতীয় উস্কানি দিচ্ছে যুদ্ধের জন্য? তবে কি এর পিছনে পশ্চিমে দেশগুলির ইন্ধন রয়েছে? ঠিক যেমনটা হয়েছিল রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে?












Discussion about this post