‘হ্যাঁ’ জয়লাভের পর এখন মূল আলোচনার বিষয় হলো জুলাই সনদের বাস্তবায়ন। প্রশ্ন উঠছে—গণভোটে জয় মানেই কি ৪৮টি প্রস্তাবের বাস্তবায়ন হবে? সংবিধান সংশোধন বা দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠনের মতো বিষয়ে পরবর্তী সংসদ কতটা বাধ্যবাধকতার মধ্যে থাকবে? বিশেষ করে, যে সনদের অনেকগুলো পয়েন্টে বিএনপির not of decent বা ভিন্নমত ছিল, সেই বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় সনদটি বাতিলের ক্ষমতা রাখবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অনেকে প্রশ্ন করছেন, যে ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন ভোটার ভোট দেননি। তারা কী জুলাই সনদ বা সংস্কারের পক্ষে না বিপক্ষে। হ্যা ভোট দিয়েছেন, ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন ভোটার।
নতুন সংসদের শপথ একদিন পরে। নতুন সরকার গঠন হচ্ছে। গণভোটের রায় নিয়ে হয়েছে বিতর্ক। এনসিপির নেতারা সোশ্যাল মিডিয়ায় হুমকি দিচ্ছেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরী হতে পারে। নতুন সংসদ গঠনের পরে জুলাই সনদের কী হবে? প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর কী তারেক নিজের জায়গা থেকে সরে দাড়াবেন? নাকি প্রধানমন্ত্রী তিনি না হয়ে সভাপতিত্ব করবেন? তর্ক বিতর্ক চলছে। বাংলাদেশের সাংবাদিক জুই মামুদ এখটি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে বলেছেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে সিনেট বা জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা সফল হচ্ছে না- এই বিষয়টি ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সনদের এই ধারায় নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি জানিয়ে বিএনপি তখনই বলেছে, বর্তমান আর্থ সামাজিক বাস্তবতায় সংসদের উচ্চ কক্ষের কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে প্রণীত বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতি হলো- গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতা। ড. ইউনূস ও আলী রিয়াজের ঐকমত্য কমিশন এই চার মূলনীতির মধ্যে শুধু গণতন্ত্র রেখে বাকি তিনটি মুছে দেয়ার প্রস্তাব করেছে। তারা দেশ পরিচালনার পাঁচটি মূলনীতি প্রণয়নের সুপারিশ করেছে। সেগুলো হলো- সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র। এই প্রসঙ্গেও বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। এছাড়া ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির সাথে আলোচলা ছাড়াই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রস্তাব করেছেন ড. আলী রিয়াজ। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দুই দফা শপথ অনুষ্ঠিত হবে। তার একটিতে সংসদের প্রতিনিধি হিসেবে এবং অন্যটিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এ ব্যাপারেও আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে তাদের সাথে ঐকমত্য কমিশনের কোনো আলোচনাই হয়নি।অন্যদিকে, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, গণভোট কোনো সাংবিধানিক আইনসিদ্ধ ব্যাপার নয়। তাই গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতেই হবে এমন আইনি বাধ্যবাধকতা বিএনপির ওপর নেই।
আর নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পরে বিএনপি বলেছে, জুলাই সনদের বিষয়টি তারা জাতীয় সংসদের হাতে ছেড়ে দেবে। এরই মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কমিশনের সহ সভাপতি মার্কিন নাগরিক ড. আলী রিয়াজ বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর পুরনো পেশা শিক্ষকতায় ফিরে যাবেন। হয়ত জুলাই সনদের ফাইলটিও তিনি সাথে করে নিয়ে যাবেন। নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারও। নতুন সরকারের কাছে তাই প্রত্যাশা- একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধান থাকুক রাষ্ট্রের মাথার ওপরে, আইন হোক সবার জন্য সমান আর প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ- সংবিধানের এই ঘোষণাটি প্রতিফলিত হোক রাজনীতি, সংসদ, সরকার, বিচার ব্যবস্থা এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে। এখন দেখার পরিস্থিতি কোন দিকে যায়












Discussion about this post