২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪-র ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১। এ ছাড়া উপদেষ্টা পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিলিয়ে আছেন চারজন। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার চারজন বিশেষ সহকারীও রয়েছেন। বহু টালবাহানা, বহু ঘটনার সাক্ষী বাংলাদেশ। খুন থেকে একাধিক ঘটনা সেদেশে ঘটেছে। তারপর বাংলাদেশে বহু ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন হয়। সেি নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে জয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রায় ২০০ র ওপর বেশী আসন নিয়ে তারেক রহমান জিতেছেন। এবারের বাংলাদেশের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তারা অংশ নিতে পারেনি। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে দিয়েছে। গেজেট প্রকাশের ৩ দিনের মধ্য়েই পরবর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে তিন দিনের শপথ বাক্য পাঠ করতে হবে। রমজান শুরুর আগের দিন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। তারেক রহমান জেতার পর থেকে যে বিষয় সব থেকে বেশী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন উঠে এসেছে সেটা হল কে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন? আওয়ামী লীগের স্পিকার তিনি কোথায় আছেন সেটা কেউ জানেন না। ডেপুটি স্পিকার রয়েছেন জেলে। সংবিধানে রয়েছে, স্পিকার অথবা ডেপুটি স্পিকারকে শপথ বাক্য পাঠ করাতে হবে। যদি সেটা সম্ভবন না হয় তাহলে রাষ্ট্রপতি মনোনীতি যে কেউ শপথ বাক্য পাঠ করাতে পারবেন। শপথের ক্ষেত্রে খুব একটা জটিল কিছু নেই। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি যদি বলেন, নির্বাচন কমিশন বা প্রধান বিচারপতি যে কেউ একজন যপথ পড়াবেনে তারা দুজনের মধ্যে যে কেউ একজন শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। সমস্যা তৈরী হবে সংসদে গিয়ে, কী সমস্যা সৃষ্টি হবে? সংসদে পরবর্তী স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার আগে পর্যন্ত তাহলে সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব কে করবেন। এই প্রশ্নটা সামনে আসছে। এবার আসা যাক কবে বাংলাদেশের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সেই বিষয়ে। বাংলাদেশের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ১৭ ফেব্রুয়ারী। ঢাকায় হবে শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান। একই দিনে বিএনপির মন্ত্রীসভার বাকি সদস্যরা তারাও শপথ নেবেন। শপথবাক্য পাঠ করাবেন নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরউদ্দিন। মন্ত্রিসভা হতে পারে ৩২ থেকে ৪২ সদস্যের। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। আর বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। সংবিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি।
দেড় বছর ধরে জাতীয় সংসদ না থাকলেও সংসদ ভবনকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মন্ত্রিসভার শপথও সেখানে হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। আর ১৭ ফেব্রুয়ারী ইউনূস সরকারের শেষ দিন। অনেকেই ভেবেছিলেন, বিএনপি নির্বাচিত হলে ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করবেন কিন্তু বিএনপি নির্বাচিত হওয়ার পলে সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে গিয়েছে। মুহাম্মদ ইউনূসকে ফিরতে হবে নিজের জায়গায়। নতুন রাষ্ট্রপতি হতে চলেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নতুন সরকার আসার পর কোন দিকে জল এগোয় বাংলাদেশের সেটাই এখন দেখার।












Discussion about this post