২০২৪ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড বলে যাকে গোটা বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সেই ছাত্রনেতা মাহফুজ আলম ছাত্রদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপিতে যোগ দেননি। যা নিয়ে বহু চর্চা হয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। তারপর তিনি বাংলাদেশের উপদেষ্টা্মণ্ডলী থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি নিজ এলাকা লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অর্থাৎ তিনি কোনও দলেই যোগ দেননি। পরে তিনি জানিয়েছিলেন, জামাতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার জন্যই তিনি এনসিপির সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। মজার বিষয় হল, ওই একই আসনে এনসিপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেশ করেছেন মাহফুজের বড় ভাই কেন্দ্রীয় এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক মাহবুব আলম মাহির। অর্থাৎ, এই আসনে দুই ভাইয়ের মধ্যেই লড়াই হতে চলেছে। এহেন মাহফুজ আলম মাঝে মধ্যেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। তিনি ফেসবুকে মাঝেমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট করেন, আবার কোনও কোনও পোস্ট কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার ডিলিট করে দেন। এবার জামাতকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য যেমন বিতর্কের ঝড় উঠেছে, তেমনই বিএনপিকে কেন্দ্র করে বলা তাঁর আরেকটি মন্তব্য নিয়েও বাংলাদেশের রাজনীতি তোলপাড় হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রাক্তন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ একটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেছেন. বিএনপি আমাকে পরবর্তী সরকারে সমতুল্য পদে দেখতে চায়। অর্থাৎ, তিনি যদি ভোটে জেতেন আর বিএনপি যদি সরকার গঠন করে তাহলে মাহফুজ নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে থাকতে পারেন। মাহফুজের এই দাবি যথেষ্টই শোরগোল ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। ঢাকা স্ট্রিম নামে এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাহফুজ দাবি করেছেন, আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের ঠিক আগে বিএনপির সাথে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তাঁর আলোচনা হয়েছিল। বিএনপি নাকি তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ার চেয়ে ভবিষ্যতের সরকারে সমান পদমর্যাদার পদ দেওয়া পছন্দ করেছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, যেহেতু আসনটি ইতিমধ্যেই অন্য কাউকে দেওয়া হয়েছে, তাই তারা আমাকে পরবর্তী সরকারে আগের সমতুল্য পদে দেখতে চাইবে। প্রশ্ন উঠছে, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে তাহলে কি বিএনপি মাহফুজকেই জেতানোর চেষ্টা করবে, যেখানে ইতিমধ্যেই তাঁরা একজন প্রার্থী দিয়েছে! নাকি ভোটে হারলেও তাঁকে মন্ত্রীত্বে আনা হবে এবং পরবর্তী সময় অন্য কোনও আসন থেকে জিতিয়ে আনা হবে। সেটা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। যদিও মাহফুজের এই দাবি প্রসঙ্গে বিএনপির তরফে এখনও কিছু বলা হয়নি। তবে মাহফুজ ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটি একই পদমর্যাদার মন্ত্রীর পদ, সমান মর্যাদার অন্য কোনও পদ, অথবা সম্ভবত উচ্চকক্ষের একটি আসন, অথবা উভয়ই হতে পারে।
এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইককে দেওয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে মাহফুজ দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে জামায়াতে ইসলামী দলের কোনও সুস্পষ্ট ভিশন নেই। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, জামায়াতে ইসলামী হল আওয়ামী লীগের ‘অল্টার ইগো’ বা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তাঁর মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যদি আওয়ামী লীগ টিকে থাকে, তবে জামায়াতও থাকবে। আর জামায়াত টিকে থাকলে আওয়ামী লীগও থাকবে। জামায়াতের সঙ্গে থাকলে এমন অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে, যার কোনও সন্তোষজনক উত্তর থাকবে না। মাহফুজের এই সমস্ত মন্তব্য ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের প্রসঙ্গ। তাহলে কি তিনি মাহফুজকে ভবিষ্যতে দলে টানার ব্যাপারে আলোচনা সেরে রেখেছেন? যে মাহফুজ একসময় নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন, তিনিই কিনা এখন বাংলাদেশের মূল ধারার রাজনীতির দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন। তাঁর কাছে এখন ছাত্রদের আদর্শ অতীত। তারেককেই তাহলে তিনি নেতা হিসেবে মেনে নিচ্ছেন। এখন দেখার বিএনপির ভেতরের রাজনীতিতে এর প্রভাব কি পড়ে। আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, তারেক রহমান কি সত্যিই তাকে মন্ত্রী বানানোর প্রস্তাব দিয়েছেন? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ। উত্তর মিলবে বাংলাদেশের ভোটের পরই।











Discussion about this post