২৬ শে মার্চ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস এর কাছে চিঠি প্রেরণের জন্য এই দিনটিকে বেছে নিলেন। গত ডিসেম্বরে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্ত্রি বাংলাদেশ সফর, এরপর চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ওমানের রাজধানী মাস্কোটে মোহাম্মদ ইউনুস এর বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহীদ হোসেনের সঙ্গে ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয় শংকরের সাক্ষাৎ। এরপর কাটলো কিছুদিন। তারপরই ২৬ শে মার্চ, এই প্রথম খোরশে দেশের কোনও শীর্ষ আধিকারিককে সরাসরি চিঠি লিখলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস, এই দিনটিকে স্মরণ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী চিঠিতে লেখেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের দুই দেশের সম্পর্কের আদর্শ পথপদর্শক। বাংলাদেশের জাতীয় দিবসে আমি আপনাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে আমার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এই দিনটি দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি, আমাদের মিলিত আত্মহত্যাগের প্রতীক। একে অপরের স্বার্থ অখুন্ন রেখে ভারত এবং বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতাবস্থা এবং সমৃদ্ধির জন্য সংবেদনশীলতার সঙ্গে এই সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাব।”
সম্প্রতি, চীন সফরে গিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। সেখানে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং এর সঙ্গে মায়ানমার ও রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা। এই বৈঠকে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে এই ধরনের একাধিক বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। উচ্চপর্যায়ে এ বৈঠকের পরে দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ইউনুসের। এরপর তার পরবর্তী পরিকল্পনা থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে রওনা দেওয়ার। সেখানে গিয়ে তিনি যোগ দিতে চলেছেন বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনে। আর এখানে একটি জল্পনা আরও তুঙ্গে উঠেছে। শোনা যাচ্ছে,এই সম্মেলনেই প্রথমবারের জন্য নরেন্দ্র মোদি ও মোহাম্মদ ইউনুস মুখোমুখি হতে পারেন।
‘দ্যা হিন্দুকে’ দেওয়া সাক্ষাৎকারে মহম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম এর দাবি বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল এন্ড ইকোনোমিক অপারেশন বা বিমস্টেক বৈঠকের আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন মহম্মদ ইউনুস।
সূত্র বলছে, চিন সফরের আগে ভারত সফরের জন্য নয়া দিল্লির কাছে আবেদন করেছিল ঢাকা। কিন্তু নয়া দিল্লি সেই আবেদনে কোন উত্তর দেয়নি। আর এই অবহে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির ইউনুসকে দেওয়া চিঠি ও দুই দেশের পারস্পরিক দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করা তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে, সে দেশের রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নশীল বাংলাদেশ গড়তে ভারত সর্বদা পাশে থাকবে এমনই আশ্বাস দিয়েছে ভারত।
আগামী মাস অর্থাৎ এপ্রিলের ২ থেকে ৪ তারিখ ব্যাংককে বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনে বৈঠকে বসবেন ভারত বাংলাদেশ নেপাল ভুটান শ্রীলংকা মায়ানমার এবং থাইল্যান্ড। তাদের আলোচনায় প্রাধান্য পাবে বঙ্গোপসাগরীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, জলবায়ু সংস্কৃতি ও সন্ত্রাসবাদ দমন












Discussion about this post