বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির একসঙ্গে বৈঠক নিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করেছিল ভারত। তবে এই জল্পনার মাঝে বৃহস্পতিবার এই শীর্ষ সম্মেলনে নৈশ্যভোজের অনুষ্ঠানে পাশাপাশি বসতে দেখা গেল এই দুই রাষ্ট্র নেতাকে। এই চিত্র প্রকাশ্যে আসতেই দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। কী এমন ঘটেছিল এদিন? জানবো আজকের এই প্রতিবেদনে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন মহল মনে করছে, মোঃ ইউনুস এমন একজন ব্যক্তি যাকে উপেক্ষা করার ইচ্ছা থাকলেও বাস্তবে তা সম্ভব হয় না। বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের আর্জি জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস। তবে শুরুর থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এই আবেদনের কোনরকম ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানাননি এবং তিনি বারে বারে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তিনি মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসতে নারাজ। তবে শেষমেষ বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনের নৈশভোজের অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ ইউনুস এর পাশেই বসতে হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কে।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষসম্মেলন, যেখানে অংশগ্রহণ করতে পৌঁছে গিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদিসহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র নেতারা। বৃহস্পতিবার বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নৈশ্যভোজের আয়োজন করা হলে, সেখানেই পাশাপাশি বুঝতে দেখা যায় মোহাম্মদ ইউনুস ও নরেন্দ্র মোদিকে।
অন্যদিকে সূত্র বলছে, যে ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস এর সঙ্গে বৈঠক নিয়ে নরেন্দ্র মোদির এত টালবাহানা তিনি নাকি বিমস্টেক এর পরবর্তী চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছেন।
বিদায় বছরের অগাস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হওয়ার পর থেকেই ঢাকা ও দিল্লি সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। যা সময় এর সাথে সাথে জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে। এক প্রকার তিক্ততার সম্পর্কেই এসে দাঁড়িয়েছে ঢাকা ও নয়া দিল্লী।
বাংলাদেশের তরফে অভিযোগ করা হচ্ছে, ভারত সরকার নাকি সহায়তা করার বদলে প্রতিনিয়ত কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে বাংলাদেশের উপর। দুই দেশের মধ্যে কার সম্পর্কের দূরত্ব কমানোর জন্য বাংলাদেশ অন্তরবর্তী সরকার বহুবার চেষ্টা করলেও ভারত সরকার নাকি তাতে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। শেখ হাসিনাকে নিয়েও ভারতের অবস্থান একই জায়গাতেই অনর রয়েছে, এই দূরত্ব প্রকাশ্যে আসার পর বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনে মোহাম্মদ ইউনুস সালাম নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালেই ঢাকা ত্যাগ করেছেন সেদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। এরপর ব্যাংককে পৌঁছালে সেখানকার মন্ত্রী তাকে আহ্বান জানান বলে সূত্রের খবর। এরপর ওই দিনে বিম্সটেক এর ইউথ জেনারেশন ফোরামের কনফারেন্সে যোগ দেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা। তবে এরপর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বৈঠক সত্যিই সম্ভব কিনা সেটা সময়ই বলবে।
Discussion about this post