কার লাভ, কার ক্ষতি? এই প্রশ্নটি উঠছে ইউনুস ও মোদীর বৈঠকে ঘিরে। যদিও বৈঠকটি একটি কাঙ্ক্ষিত বৈঠক ছিল। দুই সরকারের প্রধানের মধ্যে এই বৈঠকে দুই দেশের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যদিও বৈঠকটি অত্যন্ত স্বল্পদৈর্ঘ্যর। তো এখন আরো একটি প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক যে দীর্ঘ অপেক্ষার পরে দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠক কেন এত কম সময়ের? তবে কি ভারত প্রাধান্য দিতে চাইনি এই বৈঠককে ?
বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং সে দেশের প্রেস সচিব শফিকুল আলম দাবি করছে এই বৈঠক যথেষ্টই ফলপ্রসু। বাংলাদেশের সরকারের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছেন। পাশাপাশিতিস্তা, গঙ্গার ন্যয্য জলবন্টন চুক্তি দাবি করেছেন।
অন্যদিকে বৈঠকের পরে সাংবাদিক সম্মেলনে শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ উঠতেই ভারতের বিদেশসচিবের পাল্টা দাবি করেন , শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গ এই বৈঠকে উঠলেও তার গুরুত্ব খুব বেশি নেই ভারতের কাছে। তবে ভারতের তরফ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মোহাম্মদ ইউনুসের কাছে বেশ কয়েকটি বিষয়ে ভারতের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। হিন্দুদের উপর নির্যাতন বন্ধ এবং তাঁদের সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি নিয়ে বিশেষ আলোচনা করেছেন নরেন্দ্র মোদি। দুই দেশের জনগণের স্বার্থভিত্তিক সুসম্পর্কও নিশ্চিতকরণ। অর্থাৎ তিনি আশাবাদী বাংলাদেশ ভারতের এই উদ্বেগ মেটাতে উদ্যোগী হবে। আবার ভারতের জন্য স্পর্শকাতর ইস্যু ‘সেভেন সিস্টার্স’ বা উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানসহ অনেকেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা বলেছেন, যা ভালোভাবে নেয়নি দিল্লি।
অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজ নিজ বক্তব্যকে অগ্রাধিকার দিয়েই বৈঠক সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছে ঢাকা ও নয়াদিল্লি। এর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি তার কাজের প্রশংসা করেন। তবে এখন দেখার ইউনূসের এই বহু কাঙ্খিত বৈঠকের ফলে সত্যি কোন ইতিবাচক প্রভাব পড়ে কিনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে।
Discussion about this post