বিএনপির নিঙ্কুশ জয়ের উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে বাংলাদেশে। এরমধ্যে এনসিপি নেতারা দাবি করছেন, বিএনপি জামায়েত এনসিপির উপরে চড়াও হচ্ছে। একের পর এক ফেসবুক পোস্টে তারা এই দাবি করছেন। অনেকে আবার এটাকে বলছেন যে, গত দেড় বছরে লাগামহীন কর্মকাণ্ড করেছে, সেই কর্মকাণ্ডেরই তারা প্রতিদান পাচ্ছে। হামলাকারী এনসিপি এখন নিজেরাই আক্রান্ত হচ্ছে সারা দেশে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটা কি গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া উচিত?
সারা দেশ থেকে এনসিপি নেতারা অভিযোগ করছেন, নির্বাচনের দিন রাত থেকে অশান্ত পরিবেশে সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর ৪ থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখছেন, বিকেল থেকে হারাগাছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা মাইকে ঘোষণা দিয়ে এনসিপির নেতাকর্মীদের ধরে ধরে আক্রমণ করছে। মারধর করে রক্তাত্ব করছে। অনেকগুলো বাড়িঘরে ভাংচুর চালিয়ে স্বর্ণালংকার, টাকা লুটপাট করেছে। মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। আগুন দিয়ে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। ক্ষমতায় আসতে না আসতেই বিএনপি সন্ত্রাস শুরু করে দিয়েছে। এমনই দাবি করছেন আখতার হোসেন।
অন্যদিকে সারজিস আলম একাধিক পোস্ট দিয়েছেন। একটি পোস্টে তিনি লিখছেন, ব্যক্তি নওশাদ জমির ভাই এক বিষয়। কিন্তু তিনি যদি তার নেতাকর্মীদেরকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম থেকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারেন তাহলে, তার রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশা বেছে নেওয়া উচিত।
সারজিস আলম যখন এরকম পোস্ট দিচ্ছেন, তখন তাকে উদ্দেশ্য করে কেউ কেউ বলছেন, গত দেড় বছরে তার নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি কি এমন কোনও বার্তা দিয়েছিলেন? উল্টে মবের পক্ষে তিনি সমর্থন করেছেন। এছাড়াও আরেকটি পোস্ট তিনি দিয়েছেন যেখানে কয়েকটি ছবি সহ ক্যাপশন দিয়েছেন। লিখেছেন, তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনহাটে ইউনিয়ন ভাঙ্গাপাড়া গ্রামে আমাদের এক নারীশক্তির বোনকে বাড়িতে গিয়ে পেটানো হয়েছে। রক্তাক্ত করা হয়েছে, বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়েছে। এনসিপি জামায়েত নেতা কর্মীদের উপর বিএনপি’র নেতা কর্মীদের ক্রমাগত সন্ত্রাসী আক্রমণ চলছে।
আরও একটি পোস্টে সারজিস লেখেন, পঞ্চগড়ের মীরগড়ে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের দ্বারা দোকান ভাঙচুর করা হচ্ছে। বাড়িতে আক্রমণ করা হচ্ছে, রগ কেটে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির প্ল্যান কি? এমনকি সারজিস আলম বলেছেন, বিএনপি ক্ষমনতায় গিয়েছে তো কি হয়েছে, আমরা আরও একটি জুলাই আন্দোলন ঘটাবো।
এছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম বেশ কিছু খবর করছে। এরমধ্যে ভোলা ২ আসনে বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে জামায়েত কর্মীকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ। অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া দাবি করছেন, সারাদেশে এনসিপি নেতাকর্মীদের উপর হামলা করা হচ্ছে। তাদের বাড়িঘর ও পরিবার হুমকির সম্মুখীন। অন্যদিকে সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের একটি পোষ্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলতে চেয়েছেন, নির্বাচনের পরে সারা দেশ থেকে অন্তত ৫০টি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ সারা দেশে নানা ভাবে বিচ্ছিন্নভাবে এই ঘটনাগুলো ঘটছে।
তবে কূটনৈকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাপক হারে জয় হয়েছে বিএনপির। সেই তুলনায় যদি ৫০টি ঘটনা হয় সারাদেশে, সেটা তুলনামূলক অত্যন্ত কম। যদিও অশান্তির ঘটনা একটিও হওয়া কাম্য নয়। সেক্ষেত্রে বিএনপিকে অনেক বেশি দায় নিতে হবে। কিন্তু গত দেড় বছরে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তার তুলনায় সহিংসর ঘটনা অনেক কম। তবে এখন দেখার, আগামী দিনে কি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।












Discussion about this post