বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়ী বিএনপি। ২০৯ টি আসন পেয়েছে তারা। সরকার গঠনের পথে খালেদা জিয়ার দল। ইতিমধ্যেই ভারত সহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বার্তা এসেছে তারেক রহমানের কাছে। ১৩ তারিখ ভোট ঘোষণার দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তারেক রহমানকে এক্সে শুভেচ্ছা বার্তার পর, ফোনে অভিনন্দনও জানিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ভোটের দিন খুব উচ্ছ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছিলেন, ঈদের মেজাজে ভোট হয়েছে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জমানেরও একই ভাষ্য ছিল। এরপর ফলাফলে বিএনপি’র ভূমিধস জয়ে কি বলছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস? সরকারের পক্ষ থেকে কি তারেক রহমানের দলকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে? তারা কি খুশি নাকি অখুশি? প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ এবং প্রেস সচিব শফিকুর আলমের ফেসবুক পেজে ঢু মারতেই দেখা গেল, ১২ তারিখে তাঁর শেষ পোষ্ট। এরপর ১৩ তারিখ, অর্থাৎ যেদিন নির্বাচনের ফলাফল জানা গেল, সেদিন কোনও পোষ্ট দেওয়া হয়নি সরকারের তরফে বা প্রধান উপদেষ্টার পেজ থেকে। এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সরকার খুশি নয় বিএনপির সাফল্যে?
এখনও সরকার গঠনের জন্য শপথ নেয়নি নতুন নির্বাচিত দল বিএনপি। ফলাফল ঘোষণার পর থেকে এখনও উল্লাস, উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপির বিজয়ের পরের দিন সারাদিন ও সারারাত কেটে যাওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টার পেজ থেকে কোনও শুভেচ্ছা বার্তা দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ ফেসবুক পোষ্টটা ছিল, ভোট গ্রহণ শেষে একটি পোস্ট। যেটা ১২ই ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫ টা ১০ মিনিট দেওয়া হয়েছে। তারপর আর কোনও পোস্ট লক্ষ্য করা যায়নি। সর্বশেষ পোস্টে লেখা, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবার জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধান ও প্রতিষ্ঠার বিবৃতি। অর্থাৎ ভোট সুস্থভাবে হয়েছে, সরকার সফল হয়েছে একটি সফল ভোট করাতে। সেটার সম্পর্কে একটা বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে তিনি বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলসমূহের দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব—এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রমাণ করেছে যে গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট। জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী এবং ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই এই বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শেষে তিনি লেখেন, এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ছিলো। এই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হলে আমাদের গণতন্ত্র উৎকর্ষের শিখরে যাবে।
আসুন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার এই অভিযাত্রায় আমরা একসঙ্গে কাজ করি। এটা নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন। কিন্তু বিএনপিকে কোনও শুভেচ্ছা বার্তা নেয় তাঁর। যখন আমাদের মতো কয়েকটা গণমাধ্যম এটা নিয়ে খবর করে, তখন দেখা যায়, ১৪ তারিখ দুপুরের পর থেকে তারেক রহমান-সহ শফিকুর রহমান, নাহিদ ইসলামদের প্রতি শুভেচ্ছা বার্তা দেন। অন্যদিকে শফিকুল আলমের ফেসবুক পেজেও ১৩ তারিখের রাতে দেখা যায়, সর্বশেষ তার পোষ্ট ছিল, গণভোটে ৬৮.০৬ শতাংশ ভোট পড়েছে, সেটা নিয়ে তিনি পোষ্ট দিয়েছেন। এছড়াও তিনি আর একটি পোষ্ট দিয়েছেন, যেটা মূলত তাসনিম জারাকে নিয়ে। ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায়, তাসনিম জারা পরাজিত হয়েছেন। তারপরই এই পোষ্ট। অনেকে বলছেন, তবে কি প্রধান উপদেষ্টা যেমনটা চেয়েছিলেন, তেমন ফলাফল না হতেই কি হাতাশ? কারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার প্রায় দেড় দিন পর তিনি পোশ্ট দিলেন। জানা যাচ্ছে, ১৪ তারিখ দুপুরের দিকে ফেসবুকে শুভেচ্ছা বার্তার পর তারেক রহমান, জামায়েতের আমির শফিকুর রহমান এবং নাহিদ ইসলামকে ফোন করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা। তবে তাঁর শুভেচ্ছা বার্তার বিলম্ব নিয়ে নানা মহলে তীব্র আলোচনা চলছে।












Discussion about this post