বাংলায় একটি প্রবাদ আছে – হাতে লক্ষ্মী পায়ে ঠেলতে নেই। কিন্তু তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস সেটাই করলেন। সেটা কীভাবে, তা জানাতেই এই প্রতিবেদন।
বাংলাদেশ রপ্তানিখাতে যে রাজস্ব সংগ্রহ করে, তার মধ্যে বেশিরভাগটাই আসে পোশাক শিল্প থেকে। বলা হচ্ছে, মোট রাজস্বের ৪০ মিলিয়ন ডলার আসে এই ক্ষেত্র থেকে। তাদের পোশাক শিল্পের সংগঠন ‘বাংলাদেশ গারমেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’-য়ের (বিজেএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান চেয়েছিলেন তদারকি সরকার প্রধান ড. মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একটি বৈঠক করতে। উদ্দেশ্য ছিল বস্ত্রশিল্পের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করা। বাংলাদেশে প্রায় ৩০০টি জামা-কাপড় তৈরির কারখানা নানা কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সেই সব কারখানা পুনরায় চালু করা সহ, বস্ত্র শিল্পের সমস্যা নিয়ে তদারকি সরকার প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য তার সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় অ্যাপয়েন্টমেন্ট চেয়েছিলেন। তদারকি সরকারের দফতর থেকে না বলা হয়েছে, ইউনূস তাদের জন্য সময় দিতে পারছেন। অথচ স্টারলিংক-য়ের স্পেস এক্স-য়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট যখন তদারকি সরকার প্রধানের সঙ্গে দেখা করার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট চেয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে সাক্ষাৎকারের জন্য দিনক্ষণ, সময় বরাদ্দ করা হল। বিজেএমইএ থেকে এই দ্বিচারিতার নিন্দা করা হয়েছে। সংগঠনের তরফ থেকে বলা হয়েছে বাংলাদেশে যে শিল্প থেকে আসে দেশের মোট রাজস্বের অর্ধেকের বেশি (৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) সেই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত একটি সংগঠনের কর্তার সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় দিতে পারলেন না তদারকি সরকার প্রধান। আর যে কোম্পানি মাত্র ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার আশ্বাস দিয়েছে, সেই কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্টের জন্য তদারকি সরকার প্রধান দেখা করার জন্য সময় দিতে পারলেন।
লজ্জার শেষ এখানেই নয়। বাংলাদেশে বস্ত্রশিল্প সংগঠনের তরফ থেকে একটি প্রেস বিবৃতি জারি করা হয়েছে। প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান গত চার মাস ধরে তদারকি সরকার প্রধানের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। উদ্দেশ্য ছিল তাঁর সঙ্গে সরাসরি কয়েকটি বিষয়ে কথা বলার। সেই সব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে এই শিল্পের জন্য একটি সুসংহত নীতি নির্ধারণ করা, যা পরোক্ষভাবে একটি প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি করবে। এই শিল্পকে কেন্দ্র করে যে সব সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার একটি সুষ্ঠু সমাধান। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই বৈঠকের জন্য তদারকি সরকার প্রধান সময় বের করতে পারলেন না।
প্রেস বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তদারকি সরকারের স্পেশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এবং ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি একটি বৈঠকের কথা বলছেন, যে বৈঠকে বস্ত্রশিল্প সংগঠনের উপস্থিতির কথা বলা হয়েছে। চেষ্টা চলছে বৈঠকটিকে দ্বিপাক্ষিক স্তরের বৈঠক বলে দেগে দেওয়ার। সরকারকে এটা জানিয়ে রাখা ভাল ওই বৈঠক কোনওভাবেই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নয়। কারণ, বৈঠকে বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রী ছাড়াও ছিলেন বাংলাদেশের শিল্প সংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টরা। একটা সাধারণ সভা আর শিল্পপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের বৈঠক পুরোপুরি আলাদা। তাছাড়া এই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল এলডিসি (লিস্ট ডেভেলপমেন্ট কান্ট্রি) ট্র্যাঞ্জিসন নিয়ে। এর সঙ্গে বস্ত্রশিল্পের সমস্যাকে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে কেন? সংগঠনের তরফ থেকে বলা হয়েছে, তারা আশা করে তদারকি সরকার প্রধান দ্রুত বিজেএমইএ-য়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবে।
তদারকি সরকারের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত মনে করিয়ে দেয় সেই বহুশ্রুত প্রবাদ – বিনাশকালে বুদ্ধিনাশ












Discussion about this post