দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২১২টি আসনেই জয় হয়েছে ধানের শীষ শিবিরের অর্থাৎ বিএনপির। এই অবস্থায় ক্ষমতায় ফিরেই বাংলাদেশকে পুনরায় গণতান্ত্রিকভাবে শক্ত করাই মূল লক্ষ্য হতে চলেছে বিএনপির।সাংবাদিক বৈঠক থেকেও তেমনই ইঙ্গিত দিলেন বিএনপি প্রধান ও বাংলাদেশের হব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।একইসঙ্গে দেশ গড়তে সবার ঐক্যবদ্ধতা জরুরি বলেও জানালেন তিনি। পাশাপাশি বিদেশনীতি প্রসঙ্গেও তারেক জানান, ‘কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখবে বাংলাদেশ। কারও প্রতি বিশেষ পক্ষপাতিত্ব করব না।’স্বাভাবিকভাবেই ইউনূসের রাজত্বে যে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছিল তা আবারও উন্নতির দিকে এভাবে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
বস্তুত হাসিনা সরকারের বিলুপ্তির পর বাংলাদেশে ক্ষমতার মসনদে বসেছিল ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সময় হিংসা, সংখ্যালঘু অত্যাচার, খুন, নারী নির্যাতন-সহ একাধিক ঘটনা ঘটেছে সেখানে। এমনকি ভারতের সঙ্গে শত্রুতা বাড়িয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে খাতিরও জমিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। উদ্ভুত এই পরিস্থিতিতে এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে বাংলাদেশের হবু প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ তার কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখবে এবং কারও প্রতি কোনও পক্ষপাতিত্ব করবে না। দেশের স্বার্থই সবার আগে। প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা হবে।’
এছাড়াও এদিন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে দেশে ফেরানোর ইস্যু নিয়েও মুখ খোলেন তারেক। ২০২৪ -এর জুলাই আন্দোলনের পর থেকে ভারতেই রয়েছেন শেখ হাসিনা। তাঁকে একাধিকবার দেশে ফেরানোর আর্জি জানিয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। যদিও সেই চিঠির জবাব দেয়নি নয়া দিল্লি। যা নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে চিড় ধরে। এই অবস্থায় বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারেক বলেন, ‘আইন সকলের জন্য সমান। ফলে আইন তার নিজের মতো কাজ করবে।’এই একটি বক্তব্য দিয়েই হাসিনা প্রসঙ্গ তিনি ইতি টানেন। স্বাভাবিকভাবেই আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে নরম মনোভাব পোষণ করছেন তারেক রহমান তা বোঝাই যাচ্ছে এবং প্রথম থেকেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কথা তারেক বারংবার মনে করিয়ে দেন এবং ভারত যে বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু তিনি তাও মনে করিয়ে দেন। বিপুল ক্ষমতা নিয়ে বাংলাদেশের বিএনপি ফেরায় বাংলাদেশকে পুনরায় গণতান্ত্রিকভাবে শক্ত করাই মূল লক্ষ্য হতে চলেছে হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।সাংবাদিক বৈঠক থেকেও তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপি প্রধান তারেক রহমান। একইসঙ্গে দেশ গড়তে সবার ঐক্যবদ্ধতা জরুরি বলেও জানালেন তিনি। পাশাপাশি বিদেশনীতি প্রসঙ্গেও তারেক জানান, ‘কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখবে বাংলাদেশ। কারও প্রতি বিশেষ পক্ষপাতিত্ব করব না।’
দীর্ঘদিন পর একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে চলেছে বাংলাদেশ।আগামীকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছেন, অনুষ্ঠান আয়োজনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার তারেক রহমানের নেতৃত্বে শপথ নেবেন বাংলাদেশের সরকারের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী মোদিকে। তিনি দিল্লি ও মুম্বইতে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ব্যস্ত থাকার কারণে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। সূত্রের খবর, ওই দিন মুম্বইয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পূর্ব নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক রয়েছে। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যেতে পারবেন না বলে বিদেশ মন্ত্রকের সূত্রে জানা যাচ্ছে। নয়া দিল্লির তরফে ঢাকাকে জানানো হয়েছে ওই সফরের স্পিকারের সঙ্গী হবেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রিও। এবং সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে লেখা চিঠি নিয়ে যাচ্ছেন তারা। নয়াদিল্লি চাইছে ব্যবধানে শপথ নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ভারত সফরে আসুন বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ পত্র নিয়ে ঢাকা যাচ্ছেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি।বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ভারত যে দ্রুত সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ইতিমধ্যে নয়াদিল্লির তরফে তা নিয়ে বার্তা দিয়েছে সাউথ ব্লক। তারেক বিএনপি’র চেয়ারম্যান হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মোদির শুভেচ্ছা বার্তা তাঁর কাছে পৌঁছে দেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা। বিএনপি’র বিপুল জয়ের পর শুক্রবার সকালে এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানানোর পর ফোনেও তাঁর সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ।তখনই তাঁকে শপথ নেওয়ার পর ভারত সফরে আসতে মৌখিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখেন প্রধানমন্ত্রী।সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, গত আঠারো মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক যেভাবে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে নয়াদিল্লি তার দ্রুত মেরামত চাইছে। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত করতেই প্রধানমন্ত্রী পদের দায়িত্ব নেওয়ার পরই তারেক রহমান যাতে ভারত সফরে আসেন সে ব্যাপারে আগেভাগে তৎপর হয়েছে নয়াদিল্লি।
দিল্লিতে অবস্থান করছে শেখ হাসিনা এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সাথে সাথেই তারেককে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং মোদির চিঠিতে ভারতবর্ষে তারেক রহমানকে আসার আহ্বান। খুব স্বাভাবিকভাবেই হাসিনা ভারত তারেক দিল্লির পূর্বের তৈরি করা চিত্রনাট্য অনুযায়ী আগামীর পথের হাঁটতে চলেছে বাংলাদেশ তা সহজেই অনুমেয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে আজও আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশে গত...
Read more












Discussion about this post