বাংলাদেশে বিএনপির ঝড়। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে তারা। অনেকেই বলছেন, আওয়ামী লীগের পুরো ভোটটাই বিএনপির ঝুলিতে গিয়েছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, আওয়ামী লীগ ভোটে না থেকেও রয়ে গিয়েছে। এমনকি ভোটের ফলাফলেও একই দৃশ্য। তবে কি সত্যিই আওয়ামী লীগ ফিরছে? বিএনপি জয়লাভ করার পর থেকে অনেকগুলো বিষয় সামনে আসছে। উত্তরবঙ্গে নির্বাচনের পর তিন উপজেলা সদরের বিএনপির নেতা, তার ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের অফিসে তালা খুলে দিয়েছেন। সেটা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ে পতাকা ওড়ানো হয়েছে বলে খবর। বঙ্গবন্ধুর নামে স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এইবার যে খবরটা সামনে এসেছে, সেটা অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা। উত্তরবঙ্গের একটি জেলা এবং দক্ষিণবঙ্গের একটি জেলা থেকে খবর এসেছে, আওয়ামী লীগের অফিসে পতাকা ওড়ানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের দলীয় অফিস খুলে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কার্যক্রম শুরু করছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আসীফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া প্রকাশ্যে অভিযোগ করছেন, যে আওয়ামী লীগকে পুনবাসনের চেষ্টা করছে বিএনপি। এমনকি তিনি এ হুমকিও দিচ্ছেন, যে যদি তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী যদি আসেন, তাহলে তাঁর দল তা বর্জন করবে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ যে ফিরে আসতে পারে, ফের তারা সক্রিয় হতে পারে, এএমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ছাত্রনেতারা। অর্থাৎ বাংলাদেশে খেলা ঘুরছে।
জানা যায়, রবিবার বিকেলের পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ছাত্র নেতাদের উদ্যোগে পৌর শহরের লিচুতলা দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গনে দলীয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা পৌর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম রাব্বানী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাহারুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সুমন মন্ডল, পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিগান, সাবেক ছাত্রনেতা সাগর, কুরবান আলী পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কোভিদ ইসলামসহ প্রায় কুড়ি থেকে ২৫ জন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন এ দিন।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম বলছে, পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম শুরু হল। অন্যদিকে খুলনায় দলীয় কার্যালয়ে ফিরেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিএনপি জেতার পর থেকে আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গিয়েছে। অনেকেই বলছেন, বিএনপির গ্রিন সিগন্যালেই আওয়ামী লীগ লাইসেন্স পেয়ে গিয়েছে। কারণ তারেক রহমানকে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কোনও দলকে নিষিদ্ধের পক্ষে নয় বিএনপি। এদিকে শোনা যাচ্ছে, মির্জা ফকরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। সবমিলিয়ে বিএনপির ক্ষমতা বাড়ছে। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে, বিএনপি সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। শুধু তাই নয়, তাদের কার্যক্রম ও দলীয় কর্মসূচি যে করতে দেবে, সেটা তারেকের কথাতে স্পষ্ট। এখন দেখার, শেষমেশ নতুন সরকার গঠনের পর কি পরিস্থিতি তৈরি হয়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও আদে কি শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন? শেখ হাসিনার কি প্রত্যাবর্তন হবে? এই প্রশ্নও উঠছে।












Discussion about this post