ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকায় আসার পরই প্রথম তার লক্ষ্য হল, এক্সপোর্ট এ চীন এবং রাশিয়াকে ছাপিয়ে যাওয়া। আর সেই মতোই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আমদানি রপ্তানি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে আমেরিকা। আগেই অভিবাসন নীতি নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন ট্রাম্প। এবার বাংলাদেশকে আমেরিকা থেকে পাঠানো সমস্ত ত্রাণ বাতিল করে দিযেছে। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ট্রাম্প ক্ষমতায় বসেই একের পর এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। আর এদিকে ঘুম উড়েছে ইউনূসের। প্রথমে জো বাইডেনের সমস্ত নির্বাহী কাজ বাতিল করে দিয়েছেন। তারপরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশে সই করেছেন। অনেকে বলছেন, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহের।
নয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে, বাংলাদেশে আমেরিকার অনুদানে যে সমস্ত প্রকল্পগুলি চলছিল, সেগুলি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে, ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট। সেগুলি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে প্রকল্পগুলির রূপদানকারী সংস্থাগুলিকে। বেশ কয়েকটি দেশের জন্য এই নির্দেশ কার্যকর হবে। সেই তালিকায় রয়েছে ইউনুসের বাংলাদেশ। শুধু বাংলাদেশ নয় ইজরায়েল এবং মিশর ছাড়া সমস্ত দেশের জন্যই আর্থিক সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছে ট্রাম্পের প্রশাসন। জানা গিয়েছে, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বিদেশে সহায়তার বিষয়গুলি পর্যালোচনা করা হবে। তার পরেই এই নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে ট্রাম্প সরকার।
ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশে তাদের সব প্রকল্পের কাজ বন্ধের জন্যে নির্দেশিকাও জারি করেছে। এই নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের পার্টনারদের কাছে নাকি USAID-এর তরফ থেকে চিঠি গিয়েছে। ফলে বাংলাদেশকে আর্থিক সাহায্য তো বটেই, এই দেশের মাটিতে আমেরিকার তরফে সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও নির্দেশ নয়া প্রেসিডেন্টের। উল্লেখ্য, শাসনভার নেওয়ার পরই ইজরায়েল এবং মিশর ছাড়া বাকি সব আন্তর্জাতিক অনুদান বন্ধের জন্যে নির্বাহী নির্দেশিকায় সই করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার সেই কাজ বাস্তবায়িত হতে চলেছে।
এই সিদ্ধান্তে বিরাট ধাক্কা খাবে চরম আর্থিক সংকটে থাকা ইউনুসের উপদেষ্টা সরকার। আমেরিকার এই সিদ্ধান্তে প্রবল ধাক্কা খাবে বাংলাদেশ। তা বলাই বাহুল্য।
প্রসঙ্গত,আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। তবে ইউনূস বরাবরই ‘ট্রাম্প বিরোধী’ হিসেবেই পরিচিত। অতীতে একাধিক ক্ষেত্রে তাঁকে সরাসরি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যেতেও দেখা গিয়েছে। গত বছর ইউনাইটেড নেশনস এর সভায় গিয়েও, প্রাক্তন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট তথা ডেমোক্র্যাট নেতার সংস্থার অনুষ্ঠানেই গিয়েছিলেন ইউনূস।
আরও এখন, ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়াটা ইউনূসকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের।












Discussion about this post