ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই আশঙ্কা তৈরি করা হচ্ছিল, যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী মুসলিমদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেই আশঙ্কায় সত্যি হলো। ২০শে জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসীন হয়েছেন। তারপরই খেলা শুরু করে দিয়েছেন। শপথ গ্রহণের পর জো বাইডেনের বেশ কিছু নির্বাহী কাজ বাতিল করে দিয়েছেন ট্রাম্প। যা এখন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে চর্চার বিষয়। অনেকে বলছেন, এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প বোঝাতে চাইছেন তার নীতি বাইডেন প্রশাসনের বিপরীতে যাবে। ইতিমধ্যেই লিঙ্গ বৈষম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছেন ট্রাম্প। আমেরিকার সরকারি খাতায় এখন দুটি লিঙ্গ। পুরুষ এবং মহিলা। তৃতীয় লিঙ্গের কোন জায়গা থাকবে না। এমনটাই জানানো হয়েছে। যা নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করতে চলেছেন ট্রাম্প। এছাড়াও বেশ কিছু ক্ষেত্রে পদক্ষেপ করবেন ট্রাম্প।
বেশ কিছু নির্দেশনায় সই করেন ট্রাম্প। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসা, ক্যাপিটলে দাঙ্গার দায় অভিযুক্ত দেড় হাজার সমর্থকের মুক্তি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে সরে আসার মতো সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে, তা আগে থেকেই আঁচ করা যাচ্ছিল। এর পাশাপাশি একাধিক দেশের সঙ্গে তার দেশের সম্পর্কে নীতি কি হবে তারও সব কষা হয়ে গিয়েছে ট্রাম্পের। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। এরমধ্যে সামনে এসেছে, অভিবাসন নিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন ট্রাম্প। ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বসবাসকারী নথিপত্রহীন বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করেছে ট্রাম্প সরকার। এবার ধারণা করা হচ্ছে, মুসলিম প্রধান দেশগুলির ভ্রমণকারীদের ওপর নিষে থাকা জারি হতে চলেছে ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে।
একটি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, যে সমস্ত মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, সরকার, সংস্কৃতির বিরুদ্ধে শত্রুতা পূর্ণ মনোভাব পোষণ করবে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হবে। অর্থাৎ ভিসার মাধ্যমে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। তবে এই ধরনের নীতি ট্রাম্পের প্রথম নয়। ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রশাসনে থাকাকালীন মুসলিমদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছেন। তবে আগের নীতির থেকে এইবারের নির্বাহী আদেশের বৈষম্য অনেক। সূত্রের খবর, আরও বিপাকে পড়তে চলেছে মুসলিমরা।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে বেশি বিপাকে পড়বে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ। কারণ বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের বহু নাগরিক বাংলাদেশে এসে বসবাস করেন। তাদের ওপর যদি নিষেধাজ্ঞা জারি করে ট্রাম্প, কি করবেন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান? এখন সেটাই দেখার।












Discussion about this post