মিথ্যা, মিথ্যা আর মিথ্যা। বিশ্ব শান্তির জন্য নোবেল সম্মান পাওয়া একজন ব্যক্তি যে এই পরিমান মিথ্যা বলতে পারেন তা এতদিন কারও জানা ছিল না। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই সব উক্তি এখন উড়ে বেরাচ্ছে। কেন এই ধরণের কথা বলা হচ্ছে মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে?
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর দফতরের প্রেস উইং একের পর এক মিথ্যা কথা বলে চলেছেন। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, যেমন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা অন্যান্য উপজাতীয় সম্প্রদায়ের প্রতি নির্যাতন নিয়ে সোমবার কড়া মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মহাপরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। তিনি জানিয়েছিলেন এই বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গভীর উদ্বেগে রয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও ইসলামি খিলাফতের ডাক নিয়েও উদ্বেগে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তুলসী আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসলামি খিলাফতকে দমন করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তুলসীর এই বক্তব্য সম্প্রচারিত হওয়ার বেশ কয়েক ঘণ্টা পর সোমবার মাঝরাতে সকলকে অবাক করে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার দফতর ফেসবুকে একটা বিবৃতি প্রকাশ করে। তাতে মার্কিন গোয়েন্দা মহাপরিচালক তুলসী গ্যাবার্ডের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করার পাশাপাশি সেই বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন ও তথ্যপ্রমান ছাড়া মন্তব্য বলে দাবি করেন।
পাশাপাশি জানানো হয়, এই ধরণের মন্তব্য বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুন্ন করছে। এখন প্রশ্ন হল, বিগত সাড়ে সাত মাস ধরে বাংলাদেশে যে অরাজক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়ানক অবনতি হয়েছে, প্রকাশ্য রাস্তায় ডাকাতি, খুন, রাহাজানি চলছে সেটা নিয়ে বিদেশী সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি বাংলাদেশের মিডিয়াও নিয়মিত খবর পরিবেশন করছে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় অসংখ্য ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ভারত ছাড়াও গোটা বিশ্বই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে। একমাত্র মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর সহযোগী ছাত্র নেতারা বাদে। এমনকি মুহাম্মদ ইউনূস তো বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিটাকেই অস্বীকার করে চলেছেন। বিগত এক মাসে দেশি, বিদেশী একাধিক সংবাদমাধ্যমে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি অবলীলায় দাবি করেছেন বাংলাদেশে অপার শান্তি বিরাজ করছে। কয়েকটি দেশ এবং স্বৈরাচারি শেথ হাসিনা মিথ্যা প্রচার করে বাংলাদেশের বদনাম করে চলেছে। সম্প্রতি দি গার্ডিয়ান এবং বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুহাম্মদ ইউনূস যেমন দাবি করেছিলেন বাংলাদেশে কোনও অপরাধ বাড়ে নাই। ফলে বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বেড়েছে কিনা এই প্রশ্ন তো অনেক পরের, আগে বাংলাদেশে চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ বেড়েছে সেটাই অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
বাংলাদেশে এখনও মবের মুলুক হয়ে রয়েছে। অর্থাৎ সে দেশে দলবদ্ধ সহিংসতার ঘটনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। মব জাস্টিসের নামে একদল তৌহিদী জনতা যখন তখন রাস্তাঘাটে যা নয় তাই করে বেরাচ্ছেন। অথচ বালিতে মুখ গুঁজে রাখার মতো করে ইউনূস সরকার এ সব দেখেও না দেখার ভান করে চলেছেন। এই দলবদ্ধ সংহিংসতা যখন মাথাচাড়া দেয় তখনই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, মহিলা ও শিশুরা। বাংলাদেশেও তাই ঘটছে। অথচ বাংলাদেশের ইউনূস সরকার সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হওয়া অত্যাচার ও হামলার ঘটনা নিয়ে ক্রমাগত দাবি করে এসেছে এগুলো ধর্মীয় কারণে নয়, বরং রাজনৈতিক হামলার ঘটনা। অর্থাৎ, তাঁরা দেগে দিচ্ছেন, বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা সকলেই আওয়ামী লীগের সমর্থক। ফলে তাঁদের ওপর হামলা করাই যায়। পুলিশ বা সেনাও তাই হাত গুটিয়ে বসে ছিল। দীর্ঘদিন ধরে বিনা বিচারে জেলে পচছেন ইসকনের সন্নাসী চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভু। অথচ নোবেলজয়ী ইউনূস ক্রমাগত মিথ্যা বলে চলেছেন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপদে আছেন, তাঁদের ওপর কোনও হামলার ঘটনা ঘটেনি।
তুলসী গ্যাবার্ড বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মন্তব্য করেছেন ইসলামি খিলাফত নিয়ে। যদিও তিনি বাংলাদেশের নাম নেননি। তবে বলেছিলেন, ইসলামি সন্ত্রাস বিশ্বের কাছে একটা বড় বিপদ। একেক দেশে তার নাম আলাদা, কিন্তু তাঁদের লক্ষ্য সব জায়গায় এক। ইউনূস সরকার তুলসীর মন্তব্যকেই ভিত্তিহীন বলে দাবি করে বসলেন। বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার একাংশ এতেই খুশি। তাঁরা বলছেন, এটাই নতুন বাংলাদেশ, কথা হবে চোখে চোখ রেখে। কিন্তু আদৌ কি তাই। গত ৭ মার্চ বাংলাদেশের ঢাকায় হিজবুত তেহরী মার্চ ফর খিলাফত নামে এক বিশাল মিছিল করে। যা পশ্চিমী মিডিয়াগুলি বেশ গুরুত্ব দিয়েই খবর করেছিল। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক খ্যাতনামা সংবাদপত্র ওয়াশিংটন এগজামিনারে মাইকেল রুবিনের একটি ভয়ানক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যার শিরোনাম “বাংলাদেশ কি পরবর্তী আফগানিস্তান?” ওই প্রতিবেদনের ছত্রে ছত্রে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছে।
পরিস্কার লেখা হয়েছে, দেশের বৃহত্তম ইসলামপন্থী দল জামাত-ই-ইসলামি, যার পাকিস্তানি শাখা দেশটির অন্যতম উগ্রপন্থী দল, দ্রুত বাংলাদেশের উপর নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করছে। শেখ হাসিনা এবং তার ধর্মনিরপেক্ষ আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতির পর প্রথম কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জামায়াত-ই-ইসলামি ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং বিশিষ্ট উদারপন্থীদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালায়। তারা প্রকাশ্যে হিন্দু ও খ্রিস্টানদের মৃত্যুর হুমকি দিয়ে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করে। আজ, বাংলাদেশ শিরোনামের বাইরে থাকায়, অন্তত পশ্চিমা বিশ্বে, তারা ১৭ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষের দেশটিকে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিরাপদ আশ্রয়স্থলে রূপান্তরিত করছে, যার মধ্যে অনেকগুলি আল-কায়েদাকে ইতিবাচকভাবে উদারপন্থী দেখায়। মুহাম্মদ ইউনূস যতই তুলসী গ্যাবার্ডের মন্তব্য নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দিক না কেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর জবাব দিয়েছে।
ওয়াশিংটন বলেছে, বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ ছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই প্রতিক্রিয়া দেওয়া। সেই সঙ্গে এও জানিয়েছে, তুলসী গ্যাবার্ডের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসি়ডেন্টের মন্তব্য। মিথ্যার জাল বিস্তার করা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ যে অদূর ভবিষ্যতে খুবই বিপদে পড়তে চলেছেন এ কথা বলাই বাহুল্য। জানা যাচ্ছে, সোমবার সন্ধ্যায় মার্কিন গোয়েন্দা মহাপরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড সাক্ষাৎ করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেথ হাসিনার সঙ্গে। তিনি হাসিনাকে প্রতিশ্রুতিও দিয়ে গিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। সেটা কবে হয়, সেটাই এখন দেখার।











Discussion about this post