গত বছর ৫ আগস্টে শেখ হাসিনার পতন এবং পলায়নের যে চিত্রনাট্য রচনা হয়েছিল, তাঁর কুশীলবদের মধ্যে একজন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। এই দাবি ইদানিং বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বিশ্লেষণে বারবার উঠে আসছে। তিনি কার্যত দুই-নৌকায় পা দিয়ে চলতে চলার চেষ্টা করছেন এবং সব কূল রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। আর এটাই তাঁর সর্বনাশের মুল কারণ হতে চলেছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের ওই অংশটি। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে অসহায় মানুষটির নাম জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। যাকে হাসিনার পতনের পর সবচেয়ে বেশি ভরসা করেছিলেন বাংলাদেশের জনগণ। যার উপর অগাধ আস্থা রেছেছিলেন বাংলাদেশের জনগণ। সেই সেনাপ্রধান গত বছর ৫ আগস্ট নিজের দেওয়া কথার একবিন্দু রাখতে পারেননি, বরং তিনি চরম অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলাকে কার্যত মেনেই নিয়েছেন। এবং মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসনের সব অপকর্ম ও ভুল সিদ্ধান্তে নিরব সমর্থন দিয়ে গিয়েছেন। তিনি যে জামাতপন্থী এবং জামাতের যাবতীয় কর্মকাণ্ডকে মদত দিয়ে চলেছেন, সেটা এখন আর বুঝতে বাকি নেই কারও। ফলে তাঁর উপর আস্থা হারিয়েছেন বাংলাদেশের জনগণ।
বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাব বরাবরই ছিল, আজও আছে। বাহিনীর মধ্যে যেমন আওয়ামী লীগের একটা বিশাল প্রভাব ছিল, আজও আছে। সেই সঙ্গে জামাতপন্থী একটি অংশ আছে, বিএনপি ও হিজবুত তেহরির সমর্থকরাও আছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। ফলে এই ধরণের একটা বাহিনীকে সামলানো মুখের কথা নয়। কেউ কেউ বলেন, সেনাপ্রধান ভারতপন্থী বা ভারতের দালাল। কিন্তু জানা যায়, গত বছর ৫ আগস্ট তিনিই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন তাঁকে চলে যেতে হবে। যারা শেখ হাসিনাকে চেনেন, জানেন তাঁরা বোঝেন এটা কত বড় সাহসীকতার কাজ ছিল জেনারেল ওয়াকারের জন্য। বাংলাদেশে একটা রাজনৈতিক পালাবদল হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কিন্তু প্রথমদিকে দেশের অরাজক পরিস্থিতি সামলানোর কোনও উদ্যোগই নেয়নি। আমরা দেখেছি, প্রথম দুই-তিন মাস বাংলাদেশে একটা চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ছিল। পরে সেনাবাহিনী হাল ধরার পর তা কিছুটা হলেও স্থিতিশীল হয়।
সেই তখন থেকেই বোঝা গিয়েছিল, জেনারেল ওয়াকার কার্যত দু-নৌকায় পা দিয়ে চলছেন। যা করতে করতে তিনি নিজেই এক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছে গিয়েছেন। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের যা রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাতে ‘মার্শাল ল’ জারি করে ক্ষমতা হাতে নেবেন, সেই পরিস্থিতি নেই জেনারেল ওয়াকারের জন্য। অপরদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের চালে ২৪ জন কর্মরত ও সাবেক সেনাকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি নিয়ে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে সেনাবাহিনীর অন্দরে। যা নিয়ে সেনাবাহিনীর মধ্যেই একটা বিদ্রোহের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। এটা সামাল দেওয়ার মতো ক্ষমতাও হয়তো নেই জেনারেল ওয়াকারের। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জেনারেল ওয়াকার আসলে কারও সঙ্গেই শত্রুতা করতে চাননি। মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টারা, জামাত শিবির, ছাত্রনেতারা এমনকি বিদেশে থাকা ইউটিউবারদের সঙ্গেও তিনি শত্রুতা করতে চাননি। আবার বাহিনীর মধ্যেও তিনি নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন মাঝেমধ্যে ফোঁস-ফাঁস করে। তিনি সব কূল রক্ষা করতে চেয়েছেন। আর এই কারণেই তাঁর চেয়ার টিকে আছে বিগত ১৫ মাস ধরে। কিন্তু এখন তাঁর যা অবস্থা, তাতে যে কোনও সময় তাঁর নামেও একটা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়ে যেতে পারে। এমনটাই মনে করছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল। আর সেটা থেকে বাঁচতে জেনারেল ওয়াকারের সামনে একটাই পথ, মুহাম্মদ ইউনূসের সামনে আত্মসমর্পণ করা। এখন দেখার আগামীদিনে কি হয়।












Discussion about this post