ভারতে আশ্রিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণিয়ম জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের একটি গোপন বৈঠক হয়েছে। সরকারিভাবে এই বৈঠক নিয়ে সাউথব্লক থেকে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে সুনির্দিষ্ট সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা নিয়ে। বৈঠক শুরু হয় রাত ১০টার পরে।
এই বৈঠকের কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ফোন করেছিলেন হাসিনা। ফোনে তিনি নমোকে দ্রুত তাঁর দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে বলেন। জবাবে মোদি বলেন, সঠিক সময়ে তাঁকে সঠিক পথে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তাঁর স্বার্থ যাতে কোনওভাবে বিঘ্নিত না হয়, সেটাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্ত উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করকে তাঁর (হাসিনার) সঙ্গে দেখা করবেন। তাঁরা তাঁকে কিছু পরামর্শ দেবেন। সেই পরামর্শ শুনলে আখেরে তিনি লাভবান হবেন। মোদি হাসিনাকে এও বলেন, ‘আপনাকে সুরক্ষিত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব ভারতের। কারণ আপনি সে দেশের আশ্রয়ে আছেন।’
সাউথব্লক বুঝিয়ে দিয়েছে, হাসিনাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। কারণ, টেকনিক্যালি তিনি ইস্তফা দিয়েছেন বলে কোথাও কোনো খবর নেই। তাঁর ইস্তফাপত্র কারও কাছে নেই। তাই, তাঁকেই (হাসিনাকে) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বীকার করে। হাসিনাকে জয়শঙ্কর পরামর্শ দেন বিদেশ সফরে যাওয়ার। উদ্দেশ্য সমর্থন আদায় করা। যে কয়টি দেশে হাসিনাকে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সেই দেশগুলি হল রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, চিন, গ্রিস, আর্মেনিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া। সফর ১০ দিনের। সফর শুরু হবে রাশিয়াকে দিয়ে, দিল্লি ফিরবেন চিন হয়ে। সূত্রের খবর এই বৈঠক চলাকালীন অজিত ডোভালের কাছে ভারতের সামরিক গোয়েন্দাদের তরফ থেকে একটি ফোন আসে। ফোনে বলা হয়, সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন প্রাক্তন ও কর্মরত সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাব্যুনালের আওতায় আনা হয়েছে।
এই খবর সামনে এল এমন একটা সময় যখন বাংলাদেশে প্রাক্তন ও কর্মরত সেনাকর্তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে তাদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি এখন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘুরপাক খাচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাসূত্রে খবর, বাহিনীর একাংশ চাইছে বঙ্গবন্ধু কন্যা দ্রুত দেশে ফিরে দেশ শাসনের ভার হাতে নিক। কিছুদিন আগে বাহিনীর তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তারা আর রাস্তা থাকতে চাইছে না। ফিরে যেতে চাইছে ব্যারাকে। কারণ, দেশ শাসন করার তাদের কাজ নয়। এই পর্যন্ত বিষয়টা দুই দুইয়ে চার হয়ে গিয়েছিল। গোল বাঁধল বাহিনীর প্রাক্তন ও কর্মরত সেনাসদস্যদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা।
এদিকে, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড একটি খবর প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু কন্যার ছেলে জয় তাঁর মায়ের সঙ্গে দেখা করতে দিল্লি আসবেন। একটি বেসরকারি চ্যানেলের খবর উদ্ধৃত করে পত্রিকা এই খবর দিয়েছে। ওই চ্যানেলের খবর অনুযায়ী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক নেতা তাঁদের জানিয়েছেন, ‘আমরা আশাবাদী যে উনি (জয়) শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করবেন। দেখা করবেন দলের আত্মগোপন করে থাকা নেতাদের সঙ্গেও।’ জয় কলকাতাও আসতে পারেন বলে খবর। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচির নীল নকশার অনেকটাই কলকাতায় বসে তৈরি হচ্ছে।












Discussion about this post