প্রেস ব্রিফিয়ে ভারতীয় সেনাপ্রধান বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা প্রসঙ্গের পাশাপাশি পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। এরপরই বাংলাদেশ ও পাকিস্তাবের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ভারতের সেনাপ্রধানের অভিযোগকে নস্যাত করে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ পাকিস্তানের এই সম্পর্ক নিয়ে এবার গত শনিবার সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানকে ফের নিশানা করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘সমগ্র উপমহাদেশের স্বার্থে, পাকিস্তানের এই মনোভাব ত্যাগ করা উচিত’।
এদিন মুম্বইয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চে বক্তৃতা করেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর। সেখানেই তিনি বলেন, আঞ্চলিক সম্পর্ক যাতে সুষ্ঠু থাকে, তা নিশ্চিত করতে ভারত প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে। কিন্তু, তাতে সবসময় খুব একটা লাভ হচ্ছে না।
জয়শঙ্কর এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘দেশভাগের পর থেকেই এই অঞ্চলের প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করতে ভারতকে নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছে। তবুও ভারত অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে সেই কাজ করে গিয়েছে। বদলে ভারত কোনও প্রত্যাশাও রাখেনি।’
তিনি আরও জানান, ‘ভারত নানা ধরনের উন্নয়নে পড়শিদের আর্থিক তহবিল প্রদান করে সহযোগিতা করেছে। শক্তি সম্পদ উৎপাদন, সড়ক ও রেল যোগাযোগ গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। বাণিজ্য়ের সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে। আর্থিক বিনিয়োগ করেছে, মুদ্রা বিনিময় করেছে।
সীমান্ত প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রী বলেন বলেন,”সীমান্ত সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করার জন্য পাকিস্তান প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।” সন্ত্রাসবাদের এই ক্যান্সার এখন সেদেশেরই রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে গ্রাস করছে।” তিনি আরও বলেন, আত্মনির্ভর ভারত, উন্নত ভারতের সঙ্গে অনেক দেশ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন, অনেক দেশ ভারতের সাথে তাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে ।
ওই অনুষ্ঠানে ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, ২০২০-এর পরবর্তী সীমান্ত পরিস্থিতি থেকে উদ্ভূত জটিলতা থেকে সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের বিষয়ে আরও চিন্তাভাবনা করা দরকার। শেষে তিনি ভারতের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তিনটি শব্দে বর্ণনা করেন – পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংবেদনশীলতা এবং আগ্রহ।












Discussion about this post