দীর্ঘ ২৭ মিনিট, হ্যাঁ ২৭ মিনিট সেমিনার হলের বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে শেষমেষ নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পেলেন মহম্মদ ইউনূস। তারপর সাক্ষাৎকার শুরু হয়। বলা ভালো, বার্তা পান ইউনূস। কি বার্তা? কি বার্তা পেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর থেকে? এইবার কি তবে কি এইবার ইউনূসের টনক নড়বে?
তাইল্যান্ডে বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের আর্জি জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস। তবে শুরুর থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এই আবেদনের কোনওরকম ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানাননি এবং তিনি বারে বারে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তিনি ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসতে নারাজ। তবে শেষমেষ বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনের নৈশভোজের অনুষ্ঠানে ইউনূসের পাশেই বসতে হল নরেন্দ্র মোদিকে। শেষমেষ শুক্রবার হয়ে গেল দুজনের বৈঠক।
নরেন্দ্র মোদী এক্স এ লিখেছেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। দুই দেশের একটি গঠনমূলক ও জনগণ কেন্দ্রিক সম্পর্কের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, আমি বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, এবং সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। যাতে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা না ঘটে, তারই নিশ্চিত করেছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। পাশাপাশি যারা এর সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।
আসলে এর আগে বহুবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার আবেদন করেছিলেন ইউনূস। কিন্তু ভারত কর্ণপাত করেনি। সম্প্রতি ইউনূস চীন সফরে গিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে এসেছেন। যেটা মোটেই ভালো চোখে দেখেনি ভারত। বারে বারে ভারতের সঙ্গে শত্রুতা তৈরি করে আবার ভারতের সঙ্গে বৈঠকে বসার আবেদন করছেন। কাজের স্বাভাবিকভাবেই ভারত এর কোনও উত্তর দেয়নি। তবে থাইল্যান্ডে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের তরফে আবেদন আর এড়ানো যায়নি। শেষমেষ বৈঠকে বসতে রাজি হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যদিও ২৭মিনিট অপেক্ষা করে মোদীর দেখা পান নোবেল জয়ী। এখন দেখার, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ দেশের শান্তির বজায় রাখার বার্তাতে কি পদক্ষেপ করেন বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মাদ ইউনূস।
Discussion about this post