বাংলাদেশে যখন ক্রমশ বাড়ছে অস্থিরতা তখন রাজনৈতিক মহলে আরও বেশ কিছু বিষয় জল্পনা বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে, চলতি বছর মার্চ মাসের একটি নির্দিষ্ট দিনে বাংলাদেশে শেষ দিন হতে চলেছে মহম্মদ ইউনুসের, আর অন্যদিকে সেই দিনই শেখ হাসিনার পরিবর্তে অন্য কোনও ব্যক্তি আসতে চলেছে বাংলাদেশে। এবার প্রশ্ন কে সেই ব্যক্তি?
চলতি বছর জানুয়ারি মাস, যে জানুয়ারিতে বড় কিছু ঘটতে চলেছে বলে অনুমান আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের। আর এই জানুয়ারি মাসের ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর তিনি মার্কিন মসনদে বসার পর বাংলাদেশের এই বর্তমান পরিস্থিতি, যেখানে শুধুই বিপ্লব, সন্ত্রাস, সংখ্যালঘু অত্যাচার, নিপীড়ন, দুর্বল অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ইত্যাদির ছবি উঠে আসছে সেই বিষয় গুলিতে সরব হয়ে সেদেশের অন্তরবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসকে চাপে ফেলবেন বলেই ধারণা কুটনৈতিক মহলের। এবার সেই চাপে পরে হয়তো ২০ জানুয়ারির পরই ইউনুস বাংলাদেশ ছাড়তে পারে। অথবা আমরা সকলেই জানি যে ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস, আর অনেকেরই ধারণা সেদিনের পর হয়তো ইউনুস আর বাংলাদেশে টিকে থাকতে পারবেনা। এছাড়াও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে সংবিধান অনুযায়ী এখনও শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তাই যদি শেখ হাসিনা আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বাংলাদেশে ফেরে তবে সেদিনই তদারকি সরকারের প্রধানের বাংলাদেশে শেষ দিন হবে। এছাড়াও মহাম্মদ ইউনুস সেদেশের যেসকল সংস্কারের জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সাধারণ নাগরিককে সেগুলি পূর্ণ করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। বরং তিনি কট্টর পন্থীদের আঙ্গুলিহেলনে তার শাসন কাজ চালাচ্ছেন। এমনকি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতাদের কথায় মদত দিয়ে বাংলাদেশের সংবিধান পরিবর্তনের নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। তাই স্বাভাবিক ভাবেই বাংলাদেশে ফিরে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদে আসিন হয়ে যারা সংবিধান লঙ্ঘন করেছে তাদের বিচার প্রক্রিয়ার মুখমুখি দাঁড় করবেন।
হাতে আর কয়েকটা দিন তারপরেই আসন্ন ২০ জানুয়ারি। তার আগেই বাংলাদেশের অন্তরবর্তী সরকারের বিরুদ্ধে নতুন খেলায় নেমেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইতিমধ্যেই বাইডেন সরকারের পাঠানো দূতের ঢাকায় যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে এসেছিল বেশ কিছুদিন আগে। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন সূত্রের খবর, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত নিযুক্তির প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মনোনীত ডেভিড মিলি ঢাকায় আসছেন না। জানা যাচ্ছে, মার্কিন সিনেটে মনোনয়ন চূড়ান্ত না হওয়ায় তাঁকে বাংলাদেশের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এর পরিবর্তে অভিজ্ঞ কূটনীতিক ট্র্যাসি এন জ্যাকবসন অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দায়িত্ব পালন করবেন।
এই পরিবর্তিত নিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ নীতিতে পরিবর্তন বা কৌশলগত পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন কুটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গণতান্ত্রিক এবং সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে ।
উল্লেখ্য, বাইডেন সরকার আর আমেরিকার ক্ষমতায় থাকছে না এবং রিপাবলিকান সরকার ক্ষমতায় বসছেন, তাই প্রাক্তন জো বাইডেনের মনোনীত প্রার্থী ডেভিড মিলি ঢাকায় আসবেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মিয়ানমারের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ট্র্যাসি জ্যাকবসনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং জটিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দক্ষতার কারণে তাঁকে এই দায়িত্বে পাঠানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে খালেদা-পুত্র তারেক রহমান-সহ একাধিক বিএনপি নেতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প। যার জেরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
প্রসঙ্গত, হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত ২০১০টি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছে বলে সূত্রের খবর। এর মধ্যে ১,৭৬৯টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে থানায়। যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পুলিস ৬২টি মামলা রুজু করেছে এবং ৩৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে যে, চাপে পড়ে কি ইউনূসের খেলা ঘুরছে? ট্রাম্পের শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে নতুন ছক কষার চেষ্টা চালাচ্ছে ইউনুস?
এই কাকতালীয় পরিস্থিতি আবারো বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট এবং কূটনৈতিক সম্পর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে।












Discussion about this post