নির্বাচনের ধাক্কা কাটিয়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ভারতের শেয়ার বাজার। কেন্দ্রে তৃতীয়বারের জন্য নরেন্দ্র মোদি সরকার গঠনের পর চাঙ্গা হতে শুরু করেছিল মার্কেট। এমনকি মঙ্গলবার সেনসেক্স সূচক সর্বকালীন রেকর্ড গড়ে ৮০, ৩১৫ পয়েন্টেও উঠেছিল। খুশিতে নেচে উঠেছিলেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু তাঁদের এই খুশি ২৪ ঘণ্টাও স্থায়ী হল না। বুধবারই রক্তাক্ত হল ভারতের শেয়ার বাজার। ৯০০ পয়েন্ট পড়ে গেল সেনসেক্স। পাল্লা দিয়ে নিফটির পতন ২৫৯ পয়েন্ট। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছিল, বুধবার মাত্র ৩ ঘণ্টায় প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা খুইয়ে ফেললেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে মাথায় হাত পড়ে যায় বহু বিনিয়োগকারীর।
মঙ্গলবারই বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার সূচক সেনসেক্স ৮০ হাজারের গণ্ডি পার করেছিল। বুধবার সকালেও বাজার খোলার পর সেনসেক্সের উত্থান হচ্ছিল। ১০০ পয়েন্ট পর্যন্ত উঠেথিল সেনসেক্স। কিন্তু বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ আচমকা পতন শুরু হয়। দুই ঘণ্টার মধ্যে ৯০০ পয়েন্ট পড়ে যায় সেনসেক্স। শেষ পর্যন্ত ৭৯,৪৪৬ পয়েন্টে এসে থিতু হয়। অপরদিকে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি-৫০ বুধবার বাজার খওলার সময় ছিল চাঙ্গা ছিল। কিন্তু সাড়ে এগারোটার পরই নিফটি-তে পতন শুরু হয়। ৪২৭ পয়েন্ট নেমে যায় নিফটি। শেষ পর্যন্ত নিফটি থামে ২৪,১৭৩ পয়েন্টে। মাত্র ২ ঘণ্টার ধাক্কায় ৭ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয় বিনিয়োগকারীদের।
কেন এরকম পতন হল শেয়ার বাজারের। বিশেষজ্ঞমহলের মতে, এটা খুবই স্বাভাবিক। শেয়ার বাজারে একটানা কয়েকদিন উত্থান হলে এরকম পতন হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। বিগত কয়েকদিনে যেভাবে শেয়ার বাজার সর্বোচ্চ শিখরে উঠেছিল, তাতে বিপুল মুনাফা হয়েছিল। এই সময়কালে বহু শেয়ার এই ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ উচ্চতায় ছিল। ফলে নতুন করে বাজার বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই, তাই পতনের দিকে যাবে শেয়ার বাজার। এছাড়া, কয়েকদিন পরই কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবেন নির্মলা সীতারমণ। ফলে এখন অনেকেই সাবধানে শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করবেন। তাই শেয়ারে পতন লক্ষ্য করা যাবে।











Discussion about this post