বাংলাদেশে ভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। অন্তত তদারকি সরকার প্রধান এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের বয়ান অনুযায়ী। তদারকি সরকার আশ্বাস দিয়ে বলেছে, এই ভোট হবে নিরপেক্ষ। ভোট হবে উৎসবমুখর পরিবেশে। অপর দিকে সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান বলেছেন, জাতির প্রত্যাশিত অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে বাংলাদেশ সেনা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। তিনি সৌহার্দ পরিবেশে বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব দফতরের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও কার্যকর কো-অর্ডিনেশনের মাধ্যমে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেন।
গত ২২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেই সভায় বক্তব্য রাখছিলেন সেনাপ্রধান। সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো জিয়াউদ্দিন, সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ, পুলিশ সুপার মোহম্মদ নাজির আহমেদ খান প্রমুখ।
এই নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশে কৌতুহলের পারদ ক্রমশ চড়ছে। ভোটের সময় সেনাবাহিনী কতটা নিরপেক্ষভূমিকা পালন করতে পারবে, তা নিয়ে রয়েছে সমান কৌতুহল। বাহিনীকে আদৌ সেদিন মাঠে নামতে সরকার দেবে কি না, সেটাই এখন সব থেকে বড়ো প্রশ্ন। তদারকি সরকার চাইবেন যে কোনও উপায়ে ভোটে জালিয়াতি করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে। অপর দিকে বাহিনীর দায়িত্ব হবে ভোট যাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়, সেটা নিশ্চিত করা। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে পুলিশের তরফ থেকে তদারকি সরকারকে কিন্তু কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ বোঝাতে চেয়েছে, তারা আর কোনওভাবেই হাতে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে নারাজ। ভোটের দিন পুলিশকর্মীদের ভূমিকা হবে নিরপেক্ষ। আর ভোট-পূর্ববর্তী হিংসায় যাদের গ্রেফতার করা হবে, তাদের কোনওভাবেই ছাড়া হবে না। তবে পুলিশের থেকেও সেনাবাহিনীর ভূমিকাকে আরও বড়ো করে দেখা হচ্ছে। কারণ, বাংলাদেশের ভোটে বাহিনী প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে একটা ভূমিকা পালন করে থাকে।
এখনও পর্যন্ত সেনার সঙ্গে তদারকি সরকারের যে সম্পর্ক তার প্রেক্ষিতে বলা যেতে পারে, ওয়াকার ইউনিট আর চাইছে না মুহাম্মদ ইউনূস আর ক্ষমতায় থাকুক। বাহিনীর কাজ দেশকে রক্ষা করা। তারা চাইবে ১২ তারিখের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আসীন হোক একটি সরকার। তারা সেই সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ব্যারাকে ফিরে যাবে। তবে ভোটের আগের দিন ইউনূস কী পদক্ষেপ করেন আপাতত সে দিকেই এখন সকলের নজর।
কিন্তু জেনারেল যা বলেন, হয় ঠিক উলটো। জুলাই অগাস্ট অভ্যুত্থানের পর সেনাপ্রধান বলেছিলেন, জান মালের রক্ষা করার দায়িত্ব বাহিনী তুলে নিচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্ব তারা সামাল দেবে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল উল্টোটা। তিনি বলেছিলেন ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। অনেকে বলছেন, সেনাপ্রধান ওয়াকারকে যারা চেনেন তারা জানেন এই সব বলে তিনি দেশবাসীর মন জয় করতে চাইছেন। সেনাপ্রধান ওয়াকার যখনই বললেন, যে নির্বাচনে তাঁর ইউনিট নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে, সেই সময় জামাত তদারকি সরকার প্রধানের সঙ্গে দেখা করে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়ে এসেছে। জানিয়ে দিয়েছে, তারা চায় না ভোটকেন্দ্র সেনা থাকুক। এখন দেখার তদারকি সরকার কি জামাতের কথা শুনে ভোটের দিন বাহিনীকে মাঠে নামতে দেবে না? না কি তদারকি সরকারের নির্দেশ উপেক্ষা করে বাহিনী মাঠে নেমে ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু করতে পদক্ষেপ করবে।












Discussion about this post