২০২৪ সালের ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন। বোন রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার বাসভবন, অর্থাৎ গণভবন ছেড়েছিলেন। তাকে কপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে। নানা জল্পনার মধ্যে শেখ হাসিনা ভারতে এসে আশ্রয় নেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকার দায়িত্বে আসে। তাঁর বোন রেহানা লন্ডনে চলে যান। একটি সূত্রের তরফে জানা যায়, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর তরফে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় সীমার মধ্যে তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যান। শুধু শেখ হাসিনার নয়, হাসিনার সঙ্গে দলের একাধিক নেতা-কর্মীরা তারাও বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যান। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরো বিষয়টাই হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং দিল্লির সঙ্গে আলোচনা সাপাক্ষে। কিছুদিন আগে বাংলাদেশে নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনে হাসিনার দল আওয়ামী লীগ তারা ভোটে অংশ নিতে পারেনি। শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার কিছুদিন পর থেকে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে একাধিক সময় বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন দলের নেতা কর্মীদের নো বোট, নো ভোট। হাসিনা বলেছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের জন্য দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। অথচ যখন সেনাপ্রধান দায়িত্ব নিয়েছি্লেন তখন হাসিনাই তাঁকে নিয়োগ করেছিলেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে একাধিকবার তিনি অডিও বার্তা দিয়েছেন দলের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে। কখনও তিনি প্রকাশ্যে আসেননি। ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে যেখানে সেনাপ্রধানের সঙ্গে হাসিনা কথা বলেছেন। প্রসঙ্গত, ২০২৫ –র ১৮ জুলাই জুলাই পদযাত্রা নামক যে কর্মসূচী পুরো জুলাই মাসজুড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি, এনসিপির নেতৃবৃন্দ সারা বাংলাদেশ জুড়ে করেছে। এবং ১৮ জুলাই মার্চ টু গোপালগঞ্জ কর্মসূচীর কথা ঘোষণা করেন । কর্মসূচী ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন তারপর ১৪৪ ধারা জারি করে। রাস্তায় নেমে পড়ে হাজার পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী, বিজিবি। এনসিপির নেতা কর্মীরা বলেন, আওয়ামী লীগের সংগঠনের কর্মীরা তারা জঙ্গি কায়দায় হামলা চালিয়েছে। রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পরিবেশ। তারপর সেনাবাহিনী গুলি পর্যন্ত চালায় সেখানে ৫ জনের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছিল। হত্যার পর গোপালগঞ্জ বাসীকে প্রায় কয়েক হাজার মামলা দেওয়া হয় এবং প্রায় কয়েকসপ্তাহ ধরে গোপালগঞ্জবাসীকে অবরুদ্ধ করে রাখে। বিপুল সংখ্যক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়। শেখ হাসিনা সেই প্রসঙ্গে কথা বলেছেন সেনাপ্রধানের সঙ্গে যা রীতিমতো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। সেনাপ্রধান তখন বলেছিলেন, চাপের কারণে এইসব কাজ তাকে করতে হয়েছে। এই অডিও ক্লিপটি সোনার পর সেনাপ্রধান এবং শেখ হাসিনার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন না উঠে পারে না? প্রশ্ন উঠছে, হাসিনার সঙ্গে কেন নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার? কেনই বা তিনি ওয়াকারকে পরামর্শ দিচ্ছেন? কারণ হিসেবে উঠে আসছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। কিন্তু হাসিনা বলেছিলেন, সেতো সেনাপ্রধান তার উপর চাপ দেবে কে? শেখ হাসিনা আরও বলেছিলেন, সেনাপ্রধান যে বিনা কারণে গুলি চালিয়েছে সেনাপ্রধানের উপর ব্যবস্থা কে নেবে? কিন্তু এখন প্রশ্ন হল, শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ তারা ক্ষমতায় নেই। ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। অন্তবর্তী সরকার বিদায় নিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। তাহলে কেন এখনও পর্যন্ত শেখ হাসিনা সেনাপ্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে কী কারণে একাধিক প্রশ্ন সামনে আসতে শুরু করেছে।












Discussion about this post