এই মুহূর্তে বাংলাদেশে সেনাবাহিনী এবং সরকার কি মুখোমুখি দাঁড়িয়ে? কারণ সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত দরবারে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের কিছু বক্তব্যকে কেউ ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ সেনপ্রধানের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে অনসন্তুষ্ঠ হয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সেনানিবাসে হওয়া দরবারে যে যে বিষয়গুলি উত্থাপিত হয়েছে, অন্তত বিভিন্ন সূত্র মারফত যেগুলি সামনে এসেছে, সেগুলি সবই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থে। তবে কেন এত আপত্তি?
নির্বাচন, যেটা প্রায় ১০ মাস ক্ষমতায় থেকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা কোনও সুস্পষ্ট ধারণা দিতে পারেননি। কিন্তু সেনাপ্রধান বারবার বলে এসেছিলেন, নির্বাচন প্রয়োজন। আর সূত্র মারফত খবর, সেনা নিবাসে হওয়া দরবার হলে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের ডেড লাইন বেধে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচন করিয়ে স্থায়ী সরকার নিয়ে আসা প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, নির্বাচন ছাড়াও মানবিক করিডর নিয়ে বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন তিনি। জেনারেল ওয়াকার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচিত সরকার ছাড়া এই ধরনের সিদ্ধান্ত কেউ নিতে পারে না। অর্থাৎ এখানে স্পষ্ট, এই সংক্রান্ত বিষয়ে সেনাপ্রধান মোটেই রাজি ছিলেন না। আর এখানেই সেনাবাহিনী এবং সরকারের মধ্যে বিরোধ দেখছেন রাজনৈতিক দখলের বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও আনুষঙ্গিক কিছু কথা বলেছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার। তার বক্তব্যের পাশাপাশি অন্যান্য সেনাকর তাদের বক্তব্যও তিনি শুনেছেন এবং তার জবাব দিয়েছেন যথাযোগ্য। সূত্র মারফত খবর, সেনানিবাসে হবার দরবার ফলে বিভিন্ন বিষয়ের সামনে আসতেই শোরগোল শুরু হয়ে যায়। প্রধান উপদেষ্টা যে চাপে পড়লেন সেটাও পরিষ্কার। তাৎপর্যপূর্ণভাবে খবর এসেছে, মহম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করার ইচ্ছে প্রকাশ করছেন। এই ইচ্ছে প্রকাশের ভবিষ্যৎ কি হবে, সেটা বিতর্কিত বিষয়। যত সময় গড়াবে, সেটা বোঝা যাবে।
তবে এটা সত্যি, যতক্ষণ না সেনাবাহিনীর কোনও একটি সিদ্ধান্তে এসে দাঁড়াচ্ছে, ততক্ষণ সেনাবাহিনী এবং সরকারকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে। বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই নানা মহলের আলোচিত হয়েছে, যে গোটা দেশটি বিদেশি শক্তির হাতে চলে গেছে। অর্থাৎ তারা বাইরে থেকে যেভাবে পরিচালনা করছে, সেই ভাবেই পরিচালিত হচ্ছে সরকার এবং দেশ। কাজেই এই মুহূর্তে সেনাবাহিনী যদি হাল না ধরে, তবে আগামী দিনে গোটা দেশটির কি পরিণতি, সেটি বোধহয় আন্দাজ করা যায়। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই ভেবেছিলেন, দেশের সেনাবাহিনী কেন নিশ্চুপ রয়েছে। কিন্তু সেনাবাহিনী যে সবকিছু দেখে সংযম ছিল, সেটা এখন প্রমাণিত। তবে সংযমের প্রত্যুত্তরে সাধারণ মানুষ হতাশ হয়েছেন। কিন্তু এখনো সেনাবাহিনীর ওপরেই আস্থা ভরসা রয়েছে মানুষের। এখন দেখার, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান কি পদক্ষেপ করেন।












Discussion about this post