কাশ্মীরের পাহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয়েছে ২৬ জন পর্যটকের। তোলপাড় গোটা বিশ্ব। এই ঘটনায় আমেরিকা,রাশিয়া, ফ্রান্স, ইসরয়েলের মতো দেশগুলি ভারতের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। বাংলদেশও পাশে থাকার চেষ্টা করছে ভারতের। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখে ভারতের পাশে থাকতে চাইছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস। অতিরিক্ত চতুরতা বোঝে ভারতও। বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বিতর্কিত পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে জোর শোরগোল। এইবার বাংলাদেশের অন্দর থেকেই সরাসরি প্রধান উপদেষ্টাকে প্রশ্ন, পাহেলগাঁও হামলা ইস্যুতে মোহাম্মদ ইউনূস কি বাংলাদেশকে বিপদে ফেলতে চায়?
২২ এপ্রিল গত মঙ্গলবার, ভারতের কাছে আরও একটি কালো দিন। কাশ্মীরের পাহেলগাঁওয়ে বৈসরণ উপত্যকায় ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলা। বেছে বেছে ২৬ জন পর্যটককে গুলি করে খুন করা হয়েছে। রক্তাক্ত ভূস্বর্গ। যে কাশ্মীরে ঠাসা থাকে পর্যটক, এখন চারিদিক ধু ধূ করছে। থমথমে গোটা অঞ্চলটিতে শুধু টহল দিচ্ছে ভারতীয় সেনা। প্রায় নিস্তব্ধে দিন, রাত পার হচ্ছে কাশ্মীরে। পাকিস্তান যে এই জঙ্গি হামলায় লাগাতার জঙ্গিদের মদত দিচ্ছে, সেটা স্পষ্ট। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রকাশ্যে চার জঙ্গির তথ্য এনেছে ভারতের গোয়েন্দা বিভাগ। জানানো হয়েছে, চার জঙ্গির মধ্যে দুজন পাকিস্তানি আর দুজন কাশ্মীরী। জানা যাচ্ছে, এই চারজনই লস্কর-ই তৈবা সংগঠনের সদস্য। এদিকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে ভারত। পাল্টা ইসলামাদও আসরে নেমেছে। কূটনৈতিক স্তরে ভারতের বিরুদ্ধে নানা মন্তব্য করছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, তিন দশক ধরে সন্ত্রাসকে লালন করেছি, পোহেলগাও কাণ্ডের পর নির্লজ্জ স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের। আবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার মন্তব্য করেছেন, প্যাহেলগাওয়ের হামলাকারীরা স্বাধীনতা সংগ্রামী। তাদের কার্যত বির আখ্যা দিয়ে চ্যালেঞ্জ পাক উপ প্রধানমন্ত্রীর। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে থাকার আশ্বাস একাধিক দেশের। কিন্তু সেই তালিকায় অবশ্যই নেই পাকিস্তানের নাম। বাংলাদেশ থাকলেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে কি বাংলাদেশ পাকিস্তানের এই কার্যকলাপকে সমর্থন করছে? পাকিস্তানের উপর ভারতের যে নিয়ন্ত্রণ আরোপ হচ্ছে, এরপর বাংলাদেশের উপরও যদি এই নিয়ন্ত্রণ আরোপ হয় তবে তাহলে বাংলাদেশের মানুষ বিপদে পড়বে। প্রায় ৯ মাস ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে। ভারত এখনও পর্যন্ত ভিসা ছাড়া বাংলাদেশের উপর কড়াকড়ি ব্যবস্থা নেয়নি।
এমনকি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টার পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পাহেলগউয়ে জঙ্গি হামলায় বাংলাদেশের কি মন্তব্য? স্বাভাবিকভাবেই উঠছে প্রশ্ন। যা এখনও পর্যন্ত সামনে এসেছে, তাতে খুব একটা বাংলাদেশের ভুমিকা সন্তোষজনক নয়। প্রত্যেকটি দেশ প্রায় সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানালেও, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার পর ভারতকে সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, এই হামলার সম্পক্ষে ভারতকে দায় দিয়ে কলকাতার একজন কবি ও সাহিত্যিক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও কলকাতার কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ফেসবুক স্ট্যাটাস নিজে শেয়ার করেন এবং লেখেন – কাশ্মীরের পর্যটক হত্যার তীব্র নিন্দা জানাই। তবে এর পিছনে কারা আছে সেটা জানা প্রয়োজন। তিনি যেটা শেয়ার করেছেন, সেখানে উল্লেখ রয়েছে, পাকিস্তানকে প্রত্যাঘাত করা হবে কি হবে না, সেটা আমার কাছে immetrial। আমি সিম্পলি বিশ্বাস করি না, অমিত সাহা বা অজিত দোভালদের সাহায্য ছাড়া কোনও অস্ত্র বা অস্ত্র চালানোর লোক কাশ্মীরে ঢুকতে পারে। আগে তবুও অনেক জায়গা ছিল, যেখান দিয়ে সেখানে ঢুকতে পারে। এই পোস্টটি আসিফ নজরুল শেয়ার করে আবার ডিলিট করে দিয়েছেন।
শুধু তাই নয় তিনি নাকি আবার লস্করই তো এইবার সংগঠনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এই বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হিসাবে বর্ণনা করেছেন। যা ঢাকার উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ও রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বলছে, লস্কর ই তৈবার প্রক্সি সংগঠন টিআরএফ এর মাধ্যমে জঘন্য কাশ্মীরের এই ঘটনায় জড়িত, যখন এটা চিহ্নিত করা হয়েছে তার কিছুক্ষণ পরই লস্কর ই তৈয়বআর বাংলাদেশ প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। জানা যাচ্ছে, এই বৈঠক হয়েছে বুধবার আইন উপদেষ্টার কার্যালয়। আর এখানেই বাংলাদেশের একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য বিপদ নিয়ে আসছে। আসলে অন্তর্বর্তী সরকার স্রোতের বিপরীত দিকে হাঁটতে গিয়ে দেশকেই পাকিস্তানের কাছে বিকিয়ে দিচ্ছে। এখন দেখার, পাকিস্তান ঘেঁষা ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ করে ভারত!












Discussion about this post