একটা সময় ছিল, যখন বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীতা মানেই ছিল আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি বা বিএনপির মধ্যে লড়াই। সময় পরিবর্তন হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে এক তথাকথিত গণঅভ্যুত্থান ঘটে, তার জেরে আওয়ামী লীগের সরকার উৎখাত হয়, ক্ষমতায় আসে অনির্বাচিত এক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যার নেতৃত্বে রয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। জানা যায়, ওই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল বিএনপিও। তাঁরাও এই বড়সড় আন্দোলনের শরিক বলে দাবি করে এসেছে বিগত এক-দেড় বছরে। কিন্তু এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের রূপরেখা বদলে গিয়েছে। যে জামায়তে ইসলামী এতদিন বিএনপির ছত্রছায়ায় জোট করে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল, সেই জামাতই এখন চাইছে ক্ষমতার দখল নিতে, বিএনপিকে সাইডলাইনে ঠেলে দিতে। অপরদিকে বিএনপির সহযোগিতায় জামায়তে ইসলামী-সহ কয়েকটি ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল চেয়েছিল আওয়ামী লীগকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন থেকে দূরে ঠেলে রাখতে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস সেই ব্যবস্থাই করেছেন। আসন্ন নির্বাচনে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কোনও সুযোগ তিনি রাখেননি। এতে খুশি হওয়ার কথা বিএনপি ও জামাতের মতো দলগুলির। কিন্তু আদতে দেখা যাচ্ছে জামাত খুশি হলেও বিএনপির কিছু আপত্তি রয়েছে। তা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যেই স্পষ্ট। কেন এমনটা হচ্ছে, কেন বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের হয়ে ব্যাট ধরছে? এটা নিয়ে আলোচনা করা যাক একটু…
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তিনি সম্প্রতি এক নির্বাচনী প্রচার সভায় এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলে শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা-কল্পনা। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন পর দেশে ভোটের সুযোগ আসছে এবং এবার নির্বাচন আগের চেয়ে ভিন্ন হবে। আগে যেখানে ধানের শীষ ও নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, এবার নৌকা নেই। মির্জা ফখরুলের তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, “নৌকার যিনি কাণ্ডারী ছিলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তিনি নেতাকর্মীদের ফেলে ভারতে পালিয়ে গেছেন। দিল্লিতে গিয়ে বসে আছেন। আমাদের বিপদে ফেলে গেছেন। শেখ হাসিনা থাকলে অন্তত একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চলত।
বিএনপি মহাসচিব এমনও মন্তব্য করেছেন যে এখন এমন একটি মার্কা সামনে এসেছে যারা স্বাধীনতার সময় বিরোধিতা করেছিল। তাঁরাই এখন সরকার গঠন করতে চায়। তিনি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যেও একটা বড় বার্তা দিয়েছেন। জামাতের নাম না নিয়েই মির্জা ফকরুল বলেছেন, আপনারা ভয়টা কিসের পান, যদি আপনাদের উপর কেউ আক্রমণ করে। আপনাদের আমি পরিস্কার করে বলতে চাই আপনারা কেউ সংখ্যালঘু নন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার ঠাকুরগাঁও সদরের ২৯ মাইল এলাকার বিডি স্কুল মাঠে এক নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব। তাঁর কথা থেকে একটা বিষয়ে স্পষ্ট, তিনি বলতে চেয়েছেন জামাতকেই আক্রমণ করেছেন তিনি। যে জামাত আগের নির্বাচনেই ছিল তাঁদের জোটসঙ্গী। এবার তাঁরই একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। জামাত যে বাংলাদেশকে চরমপন্থী ইসলামিক দেশে পরিণত করতে চায়, সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন মির্জা ফকরুল আলমগীর। পাশাপাশি তিনি চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের ভোট বিএনপির বাক্সে নিয়ে আসতে। এর জন্যই ঘুরিয়ে আওয়ামী লীগের প্রশংসা করলেন বিএনপি নেতা। আর সেই সঙ্গে আগাম বলে রাখলেন যে পরবর্তী সময় তাঁরা ক্ষমতায় আসলে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে। বলা যায়, এটাই এখন জামাতের মূল মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠেছে।












Discussion about this post