ঈদের আগেই নাকি শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরছেন। যত দ্রুত সম্ভব তিনি বাংলাদেশে ফিরে নিজের অ্যাকশন শুরু করবেন। এমন খবর চাউর হচ্ছে। এমনকি এটাও বলা হচ্ছে, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সাহায্য নিয়ে তিনি প্রত্যপন করবেন। কিন্তু আদৌ কি এটি সত্য খবর?
কারণ এর আগে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ভার্চুয়াল বৈঠকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার কথা বলেছেন। তারপর কেটে গিয়েছে কয়েকটি মাস। তিনি কিন্তু দেশে ফেরেননি। তবে কি এটাই সত্যি, যেমন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেছিলেন যে, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মনোবল বাড়ানোর জন্য তিনি দেশে ফেরার কথা বলছেন। শেখ হাসিনাকে যাতে কেউ ভুলে না যায় , তাই বারে বারে তিনি বৈঠক করছেন, এবং বৈঠকে এমন কিছু বার্তা দিচ্ছেন, যা নিয়ে যেন বাংলাদেশের চর্চা হয়। অর্থাৎ শেখ হাসিনার এখন বড় লড়াই হচ্ছে, নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা। যাতে শুধু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নয় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও তাকে মনে রাখে এবং আস্থাভাজন হয়ে থাকেন হাসিনা।
আর এই কাজটা অত্যন্ত সহজ হয়ে যাচ্ছে ইউনূসের জমানায়। কারণ নোবেল জয়ীর আমলে বাংলাদেশের জনগণ ভালো নেই। এই খবর যে শুধু ভারত করছে তা নয়, আন্তর্জাতিক বহু গণমাধ্যম সরব হচ্ছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে। ক্রমাগত আঙুল তোলা হচ্ছে, মোহাম্মদ ইউনূসের সরকারি দিকে। শুধু কি তাই, মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদপত্র এক্সামিনরে প্রকাশিত হয়েছে একটি প্রতিবেদন। সেই প্রতিবেদনটির ছত্রে ছত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউনূসের আমলে বাংলাদেশের ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা। প্রশ্ন তোলা হয়েছে, বাংলাদেশ কি পরবর্তী আফগানিস্তান? অর্থাৎ আমেরিকার মতো একটি শক্তিশালী দেশের একটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম যখন একটি দেশকে নিয়ে এই মন্তব্য করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই চিন্তাই করে যান সে দেশের সরকার। অর্থাৎ চাপে পড়েছেন ইউনূস। এটা পরিষ্কার। তবে ভারতকে দোষারোপ করে একটা ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছেন তিনি। যাতে এই সমস্ত ঘটনাগুলি থেকে মোড় ঘোরানো যায়।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে সবাই যে ইউনূসের সমর্থনকারী তা নয়। তাহলে বাংলাদেশে বিশিষ্ট জনেরা বা বুদ্ধিজীবীরা কেন মুখ খুলছেন না? নিজেদের স্বার্থ যাতে ক্ষণ্য না হয়, সেই কারণেই সরকারকে চটাতে চাইছেন না তারা। এমনটা ব্যাখ্যা দিচ্ছে ওয়াকিবহুল মহল। তবে শেষমেষ খানিকটা বুঝতে পেরেছেন সে দেশের সেনাপ্রধান। সেই কারণেই বাংলাদেশের রাস্তায় নামিয়েছেন সেনাবাহিনীকে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে আয়ত্তে আসে, সে কারণেই সিদ্ধহস্তে সেনা। তবে যে জল্পনা উঠে আসছে, সেনাপ্রধানের হাত ধরেই শেখ হাসিনা নাকি বাংলাদেশে ফিরবেন! সেই ঘটনার কতটা সত্যি হবে, সেটা প্রশ্নতীত। তবে এটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী বা সমর্থকরা পদ্মা পাড়ের সক্রিয় হচ্ছে। এখন দেখার, স্থায়ী সরকার গঠনের জন্য নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসতে পারেন কিনা।
Discussion about this post