বাংলাদেশের ভোটের আবহে বেশ কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করা যাক।
ঢাকায় পৌঁছে গিয়েছে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। গত ১২ জানুয়ারি সোমবার তিনি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমাবন্দর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তাঁর সঙ্গে গিয়েছেন স্ত্রী ডিয়ান ডাও। গত সেপ্টেম্বরে ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে “ অ্যাম্বাস্যাডর এক্সট্রাঅর্ডিনারি অ্যান্ড প্লেনিপটেনশিয়ারি” হিসেবে মনোনয়ন দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশ দফতরের বরিষ্ঠ কর্মকর্তা পিটার হাসের উত্তরসূরী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।
দ্বিতীয় উল্লেখযোগ্য ঘটনা জামাতের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের বৈঠক। বৈঠক হয়েছে ২৯ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বসুন্ধরার জামায়াতে আমিরের কার্যালয়ে শফিকুর রহমানের সঙ্গে তাঁরা বৈঠক করেন। দলের ভেরিফায়েড ফেসবুকপেজে বৈঠকের খবর দেওয়া হয়। পোস্টে বলা হয়, সাক্ষাৎকারটি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে আলোচনা হয় বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন, বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, শিল্প-বাণিজ্য, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, রোহিঙ্গা ইস্যু সহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে।
তৃতীয় উল্লেখযোগ্য ঘটনা, জিয়ার অন্ত্যেষ্টিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করের উপস্থিতি। তিনি তারেক জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। ভারতের তরফ থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদির দেওয়ার শোকপত্র তুলে দিয়েছেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রী তদারকি সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করেননি। অথচ ইউনূস তাঁর সঙ্গে দেখার করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছিলেন।
এই তিনটি ঘটনা উল্লেখ করার কারণ, তিনটি ঘটনা কিন্তু একসুতোয় গাঁথা। তিনটি ঘটনার একটিতেও উল্লেখ নেই তদারকি সরকার প্রধানের সঙ্গে এই তিনের কারও সাক্ষাৎকার। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের নিরিখে এই তিন ঘটনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির পট পরিবর্তনের প্রথম দিকে তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসের থেকে আমেরিকার প্রত্যাশার পারদ ছিল গগনচূম্বী। আমেরিকা নিশ্চিত ছিল, ইউনূস সব দিক থেকে তাদের প্রাধান্য দেবে। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে ইউনূসের সঙ্গে চিনের ঘনিষ্ঠতা মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পেয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গেও। আর সেটা আমেরিকার মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। আমেরিকা বুঝতে পেরেছে, চিনের সঙ্গে বাংলাদেৎ ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের প্রভাব প্রতিপত্তি হ্রাস পাওয়া। এই বিপদ থেকে বাঁচার একটাই উপায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত ও ঘন করা।
অনেকে বলছেন, জামাতের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত বৈঠকের উদ্দেশ্য ভিন্ন। তারা জল মাপার চেষ্টা করেছেন। জামাত মুখে যা বলছে, সেটা তারা বাস্তবে কার্যকর করে কি না সেটা বোঝার জন্য জামাত নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ওই দুই শীর্ষনেতা। ঢাকায় সে দেশের নির্বাচন কমিশনের বিশিষ্ট কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনশন। বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে মার্কিন দূতাবাসের তরফে একটি স্বতন্ত্র প্রতিনিধিদল এবং দূতাবাস থেকে কর্মকর্তারা ভোট পর্যবেক্ষণে যাবে। আমেরিকার কেন এই তৎপরতা, এই তৎপরতার উদ্দেশ্য বা কি , তা নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল কালাম আবদুল মোমেন।
তিনি বলেন, আমেরিকা এখন বুঝতে পেরেছে ইউনূসের পরিকল্পনা। বাংলাদেশে গণতন্ত্র কোনওভাবে ফিরে আসুক, সেটা চাইবে না তদারকি সরকার প্রধান। যে কোনও কারণেই হোক আওয়ামী লীগের ওপর তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে গিয়েছিল।ভরসা করতে শুরু করে তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসের ওপর। এখন তারা মনে করেছে সেটা ভুল পদক্ষেপ ছিল। আমেরিকা সব সময় চায় গণতন্ত্র হবে ইনক্লুসিভ। কিন্তু ইউনূস থাকলে সেটার কোনও সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছে আমেরিকা। প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটাও জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের তরফ থেকেও দায়িত্ব থাকবে আমেরিকাকে বোঝানো যে বাংলাদেশে গণতন্ত্র মানেই আওয়ামী লীগ। এর কোনও বিকল্প হতে পারে না।












Discussion about this post