বেশ কয়েকদিন ধরেই ধিকি ধিকি করে জ্বলছিল ক্ষোভের আগুন। অবশেষে তা আগ্নেয়গিরির লাভার মতো বিস্ফোরিত হল। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ইউনূস সরকারকে চরম বার্তা দিয়েই দিলেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি সামরিক বিষয়ে নাক গলানোও বন্ধ করুক ইউনূস সরকার। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাখাইন করিডোর নিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর সহযোগী খলিলুর রহমান যে পায়তারা কষছিলেন তা সরাসরি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে দিলেন জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, এর থেকেও বড় যে বার্তাটি দিয়েছেন জেনারেল ওয়াকার, সেটা আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য সম্পর্কে।
সূত্রের খবর, বুধবার ঢাকার সেনা প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ভাষণ দিয়েছেন সে দেশের সেনা আধিকারিকদের সামনে। সেখানেই তিনি একাধিক বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন অন্তর্বর্তাকালীন সরকারকে, পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ সেনাকে সবরকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতেও নির্দেশ দিয়েছেন। সেনাপ্রধানের ভাষণের সময় উপস্থিত থাকা বাংলাদেশ সেনার এক কমান্ডিং অফিসার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জেনারেল ওয়াকার উজ জামান অফিসারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার এবং জাতীয় মর্যাদার সঙ্গে কোনও আপস করা যাবে না এবং কোনও পরিস্থিতিতেই এর সঙ্গে আপস করা উচিত নয়”। সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য থেকেই পরিস্কার, ইউনূস সরকার যতই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করুক, তিনি তা মানেন না। অর্থাৎ, আসন্ন যে নির্বাচনের কথা তিনি বলেছেন, সেখানে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহন করা কেউ আটকাতে পারবে না। কারণ, সেনাপ্রধান ও সেনাবাহিনী এই ধরণের প্রচেষ্টাকে মেনে নিচ্ছে না।
বুধবার ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের দরবার হলে প্রায় হাজার খানেক সেনা কর্তার সামনে ভাষণ দিয়েছেন জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। সেখানে তিনি রাখাইনে মানবিক করিডর নিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলে দেন, “কোনও রক্তাক্ত করিডোর ব্যবসা হবে না”। পাশাপাশি এই বিষয়ে তিনি ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে “গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্ধকারে রাখার” জন্যও দায়ী করেন। বুধবার যথন সেনাপ্রধান তাঁর বাহিনীকে এই সমস্ত নির্দেশ দিচ্ছেন, তখন চট্টগ্রামের কক্সবাজারে চুপিসাড়ে ঢুকে পড়েছে মার্কিন সেনার একটি বিশেষ দল। তাঁরা সেখানে স্থানীয় দমকলবাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যদের আপাতকালীন প্রশিক্ষণ দিলেন। কক্সবাজারে মার্কিন সেনা প্রবেশের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বাংলাদেশজুড়ে শুরু হয়ে যায় হইচই। পরে জানা যায়, মার্কিন সেনা ও বিমানবাহিনীর কয়েকজন সদস্য মূলত বিপর্যয় মোকাবিলা নিয়ে প্রশিক্ষণ দিতে এসেছিলেন। কক্সবাজার দমকল বিভাগের উপ সহকারি পরিচালক তানহারুল ইসলাম স্বীকার করে নেন যে মার্কিন সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা এসেছিলেন। তাঁরা ১৮ থেকে ২১ মে পর্যন্ত কক্সবাজারে ছিলেন। তাঁরা বিপর্যয় মোকাবিলার নানান কলাকৌশল শেখাতেই এসেছিলেন বলে দাবি ওই আধিকারিকের।
প্রশ্ন উঠছে, বিপর্যয় মোকাবিলার প্রশিক্ষণের জন্যই যদি মার্কিন সেনা সদস্যরা বাংলাদেশে এসে থাকেন তাহলে তা আগে থেকে কেন জানানো হল না? কেনই বা তাঁদের এই মহৎ কাজটি গোপন রাখা হয়েছিল। কেনই বা সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই শুরু হতে গণমাধ্যমকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ফলাও করে প্রচারের ব্যবস্থা হল? আসলে মুহাম্মদ ইউনূসরা মুখে যতই বলুক, কোনও দেশের চাপে বা কথায় তাঁরা রাখাইন করিডোরের প্রস্তাবে সাড়া দেননি। কারও সঙ্গেই এই বিষয়ে আলোচনা হয়নি। আসলে এখন সেই মিথ্যার পর্দা ফাঁস হয়ে গেল। ফলে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান রাখাইন করিডোর নিয়ে যে আশঙ্কা প্রকাশ করতে চেয়েছেন, সেটাই সত্যি। এই করিডোরের আড়ালে আসলে মুহাম্মদ ইউনূস ও খলিলুর রহমানরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি সামরিক ঘাঁটি তৈরির অনুমতি দিতে চেয়েছিল। সেই কাজ এগোতেই এই মার্কিন সেনা সদস্যরা এসেছিলেন কক্সবাজারে।












Discussion about this post