বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বলে দাবি সেই দেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রধানের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের ঘোষিত হার ৩৫ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। এটাই নাকি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়, সেই দাবি তুলে উদ্বাহু হয়ে নাচছেন মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টা মন্ডলী। কিন্তু আদৌ কি এটা সত্যি?
বাংলাদেশ কি অনেকটাই সুবিধা পেল মার্কিন শুল্ক কমানোয়? যেখানে ভারতের শুল্ক ২৫ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশ পাচ্ছে ২০ শতাংশ। আসলে বাংলাদেশের জন্য এখনও ৩৫-৩৭ শতাংশ শুল্ক বা ট্যারিফ যুক্ত হবে আমেরিকায় রফতানি করা পণ্যের ওপর। যা এখনও ভারতের থেকে বেশি। অন্যদিকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অপপ্রকাশযোগ্য চুক্তি বা নন ডিস্কলজার এগ্রিমেন্ট করেছে। যেখানে এমন কিছু শর্ত রয়েছে যা বাংলাদেশের সর্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। যদিও এটি অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি, কিন্তু এই চুক্তির কিছুটা অংশ বাইরে ইতিমধ্যেই প্রকাশ হয়ে গিয়েছে। জানিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা চলছে , বহি:বিশ্বে।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ওই চুক্তি, কেন সেটা অপ্রকাশযোগ্য? কি আছে সেই চুক্তিতে? বিভিন্ন সূত্র জানা যাচ্ছে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে তাতে সম্পূর্ণ রূপে বাদ যাবে চীন ও রাশিয়া। ওই অপ্রকাশযোগ্য চুক্তিকে পরিষ্কারভাবে বলা আছে, ভবিষ্যতে চীনের সঙ্গে কোনও প্রকার কোনও ধরণের চুক্তি করা যাবে না। একই শর্ত দেওয়া আছে রাশিয়ার ক্ষেত্রেও। কিন্তু বাস্তব চিত্র হল, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সামগ্রির ৮৫ শতাংশই চিন থেকে আমদানি করা হয়। আবার বাংলাদেশ বায়ুসেনার ফাইটার জেট মিগ-২৯ রাশিয়ার, আর বাকি চিনের। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামান্য কিছু তুরস্কের। এখন প্রশ্ন হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই গোপন চুক্তির পর যদি চীন বা রাশিয়া থেকে প্রতিরক্ষা সামগ্রী বিশেষ করে ট্যাঙ্ক, যুদ্ধবিমান বা অন্যান্য কিছু আমদানি না করা হয় তাহলে কার থেকে কিনতে হবে বাংলাদেশকে? নিশ্চয় সেটা আমেরিকা বা তাদের সহযোগী দেশগুলি থেকে? প্রশ্ন এখানেই, বর্তমান যে যুদ্ধাস্ত্র যুদ্ধবিমান সাবমেরিন বা যুদ্ধজাহাজ আছে বাংলাদেশের। সেগুলি সবই তৈরি হয় চিনে না হলে রাশিয়ার। ফলে গোপন চুক্তি অনুযায়ী যদি এবার থেকে চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ কোনও ডিল না করে তাহলে এই সমস্ত পুরোনো যুদ্ধাস্ত্রের কি হবে? সেগুলির মেরামত, বা উন্নতিকরণের কি হবে? এখানেই শেষ নয়, ওই চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেই ২০ শতাংশের বেশি তুলো বা সুতো আমদানি করবে। তেল বা গ্যাসের ক্ষেত্রেও তাই শর্ত। সবমিলিয়ে একটা বাণিজ্য চুক্তি সফল করার নামে মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর সহযোগী খলিলুর রহমান কার্যত গোটা বাংলাদেশকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।












Discussion about this post