বিশ্বকর্মা যে যন্ত্রটি আবিষ্কার করতে গিয়েও আর করে উঠতে পারেননি, সেটি হল ষড়যন্ত্র। একাংশ মর্ত্যবাসী কিন্তু অনেকদিন আগেই সেই যন্ত্রের আবিষ্কার করে ফেলেছেন। সকালে ঘুম থেকে উঠেই তাঁদের প্রথম কাজ ষড়যন্ত্র অস্ত্রে শান দেওয়া। তারপর নামের একটি তালিকা তৈরি করা। মানে, কাদের কাদের ক্ষেত্রে এই অস্ত্রটির প্রয়োগ করা হবে।
এখন কিন্তু এই যন্ত্রের কপিরাইট নিয়ে নিয়েছেন তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস। আর যন্ত্রের কল কবজা, মানে নাট, বল্টু, স্ক্র – এসব রয়েছে ইউনূসের পারিষদরবর্গের হাতে। ঘুম ভাঙলেই তাঁরা যমুনাভবনের গিয়ে ওই যন্ত্রের নাট-বলটু, স্ক্রু ঠিকঠাক লাগিয়ে ইউনূসের হাতে তুলে দেন। আর ইউনূস তাঁর হাতে থাকা তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে,তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করেন। যেমন প্রয়োগ করলেন টিউলিপ সিদ্দিকির বিরুদ্ধে। এটা জানার পরেও যে জমি কেলেঙ্কারিতে ব্রিটেনের প্রাক্তন এই সাংসদ কোনওভাবেই জড়িত নয়। প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের ঘরে এই নিয়ে একটি রিপোর্টও জমা পড়েছে। প্রতিবেদনের সঙ্গে সেই রিপোর্ট তুলে ধরা হল।
একসময় কিন্তু ব্রিটেনের প্রথম সারির দৈনিক থেকে শুরু করে ছোট খাটো ট্যাবলয়েডগুলো ফলাও করে টিউলিপের বিরুদ্ধে খবর করেছিল। সেই খবরের জেরে টিউলিপ সাংসদ পদে ইস্তফা দেন। টিউলিপের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সরকারের তরফে স্যর লরি ম্যাগনাসকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি তাঁর তদন্ত রিপোর্টে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, টিউলিপের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ একেবারে ভিত্তিহীন। টিউলিপ প্রথম থেকেই কিন্তু সেই দাবি করে এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ তোলা হয়েছে?
ইউনূস সরকারের দাবি, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন পূর্বাচলে ১০ কাঠার ছয়টি প্লট তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বরাদ্দ করা হয়। শেখ হাসিনা নিজের নামে একটি প্লট বরাদ্দ করেছিলেন। বাকি প্লট বন্টন করা হয় হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সারমা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, ভাগনি আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী। ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকির নামেও প্লট বন্টন করা হয়েছিল। ২০২২ সালে এই প্লটগুলি বন্টন করা হয়। ষড়যন্ত্রে অস্ত্র ব্যবহার করে হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে এবার ইউনূস সরকার বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনকে জমি কেলেঙ্কারির তদন্তের নির্দেশ দেন। যে নিজে দুর্নীতিতে জড়িত, তিনি আবার জমি দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এও বাহ্য। গত জানুয়ারিতে ছয়টি প্লট নিয়ে মামলাও হয়।
সেই দুর্নীতি দমন কমিশন জানিয়ে দিল, আবেদনের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরে এই প্লট বন্টন করা হয়েছিল। তা ছাড়া তাদের নামে রাজউকের আওতাধীন এলাকায় বাড়ি থাকায় তাঁরা আইনত নতুন করে প্লট বা ফ্ল্যাট পেতে পারেন না। সব মামলাতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিনাকে আসামী করা হয়। কারণ, হিসেবে দেখানো হয় তিনি প্রধানমন্ত্রী পদের অপব্যবহার করেছিলেন। অপরদিকে, শেখ রেহানা, রাদওয়ান ও আজমিনার বিরুদ্ধে করা আলাদা তিনটি মামলায় আসামী করা হয় টিউলিপকে।
টিউলিপ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাছাড়া যুক্তরাজ্যের পাঁচ শীর্ষ আইনজীবী এই মামলাকে ‘সাজানো এবং অন্যায্য’। তারা ব্রিটেনে বাংলাদেশ হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে একটি চিঠিও দিয়েছেন। চিঠিতে তাঁরা বলেছেন, প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক এই মামলায় লড়ার ন্যূনতম অধিকার পাননি। আর টিউলিপে কথায় এই মামলা এবং বিচার প্রক্রিয়া ‘ফ্রড অ্যান্ড ফার্স। ’
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post