বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, “বাঁশ কেন ঝাড়ে, এসো আমার ঘরে”। যখন কেউ অবিবেচকের মতো কাজ করে নিজের ঘরেই স্বয়ং শয়তানকে আহ্বান করে, বা স্বেচ্ছায় বিপদ ডেকে আনে, তখন এই প্রবাদ প্রয়োগ করা হয়। আজকের বাংলাদেশ ঠিক তাই করতে চাইছে। শেখ হাসিনার সরকার পতন ঘটিয়ে যা শুরু হয়েছিল, এখন প্রতিবেশি ভারতকে প্রতি পদে বিপদে ফেলতে চেয়ে এবং নানা ধরণের উস্কানি দিয়ে একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বেধীন সরকার। কখনও মিয়ানমারে রাখাইন মানবিক করিডোর দেওয়ার নাম করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশে একটি সামরিক ঘাঁটি করতে দেওয়ার বন্দোবস্ত করা। কখনও ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাত আটটি রাজ্যকে ল্যান্ডলকড বলে চিনকে আহ্বান জানানো। আবার কখনও পাকিস্তান সেনা ও গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইকে ডেকে এনে ভারত বিরোধী চক্রান্ত করা। এবার ইউনূস সরকার সরাসরি তুরস্ককে বাংলাদেশে টেনে আনছেন, ভারতের নাকের ডগায় অস্ত্র কারখানা করতে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। যা ভারত সরকার মোটেই ভালোভাবে নেবে না। ফলে মুহাম্মদ ইউনূসের শেষের সময় ঘনিয়ে আসছে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
সূত্রের খবর, তুরস্কের একজন শীর্ষ প্রতিরক্ষা শিল্প নির্বাহী মঙ্গলবার একদিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন, যেখানে তিনি বাংলাদেশের অন্তরবর্তীকালীন সরকার এবং সেনা আধিকারিকদের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন। এও জানা যাচ্ছে, তুরস্ক চাইছে বাংলাদেশে অস্ত্র কারখানা গড়তে। বাংলাদেশের এক ঊর্ধ্বতন বাংলাদেশি কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প সচিব হালুক গরগুন মঙ্গলবার ভোরে টার্কিশ এয়ারের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছেছেন। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। তিনি সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উস-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম. নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের সাথেও সাক্ষাৎ করার কথা তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প সচিবের। এমনকি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান তুরস্কের সচিবের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজেরও আয়োজন করেছেন। উল্লেখ্য এর আগে, বাংলাদেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা তুরস্ক সফর করেছিলেন। এটি তাদের ফিরতি সফর। এই সফরে প্রযুক্তি হস্তান্তর সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। জানা যায়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডা-র চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সম্প্রতি তুরস্ক সফরের সময় সে দেশের একটি সামরিক কারখানা পরিদর্শন করেছিলেন। এমকেই নামে তুরস্কের সরকারি অস্ত্র কারখানা কর্তৃপক্ষ এবার বাংলাদেশে দুটি সামরিক শিল্প তালুকে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। আর এই কারণেই তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প সচিব হালুক গরগুনের ঢাকা সফরের জন্য লাল গালিচা বিছিয়ে দিতেও পিছুপা হয়নি মুহাম্মদ ইউনূস সরকার।
জানা যাচ্ছে, তুরস্কের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম এবং নারায়ণগঞ্জে প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্স নির্মাণে প্রবল আগ্রহী বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। মূলত তাঁরই প্রচেষ্টায় তুরস্ক এবার বাংলাদেশে লগ্নি করতে রাজি হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য ভিন্ন। এপ্রিলে পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলা ও পরবর্তী সময়ে ভারতীয় সেনার অপারেশন সিঁদুর নিয়ে তুরস্ক ও ভারতের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। ভারত পাকিস্তানের সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে আক্রমণ করতেই তুরস্ক খোলাখুলি পাকিস্তানকে অস্ত্র ও ড্রোন পাঠিয়ে দেয়। যা পাক সেনা ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহারও করে। তুরস্কের ড্রোন বাইরাক্টার টিবি-টু যদিও ভারতে আঘাত হানার আগেই ভারতীয় সেনার প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নষ্ট করে দেয়। এতে নাক কাটে তুরস্কের। ভারতও তুরস্কের এই আচরণ ভালোভাবে নেয়নি। ফলে বাণিজ্যক ভাবে ধাক্কা দেয় ভারত। সেই সঙ্গে পর্যটকদের ভিসাও বন্ধ করে দেয় নয়া দিল্লি। যার ফলে তুরস্কের অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপরদিকে ভারত তুরস্কের শত্রু দেশ গ্রিস ও সাইপ্রাসকেও ব্রহ্মস মিসাইল ও আকাশ এয়ার ডিফেস দিয়ে সাহায্য করেছে। যা এখন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের মূল মাথাব্যাথার কারণ। সেই কারণেই তুরস্ক এখন বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে ভারতকে শায়েস্তা করার জন্য। সূত্রের খবর, ভারত এই মুহূর্তে বাংলাদেশকে কড়া নজরে রাখছে এবং প্রয়োজন হলেই ব্যবস্থা নেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।












Discussion about this post