বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫ উচ্চ পদস্থ কর্তা গত ৫ এপ্রিল থেকে ঢাকা ক্যাণ্টনমেন্টের ভিতরেই গৃহবন্দী হয়ে আছেন। সূত্রের খবর, তাঁদের মধ্যে দু’জন ব্রিগেডিয়ার, একজন কর্নেল, একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং একজন মেজর রয়েছেন। আর এর তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, যেদিন বাংলাদেশ সেনাপ্রধান রাশিয়া সফরে গিয়েছিলেন, সেদিনই এই পাঁচ সেনা কর্তাকে বন্দি করা হয়। যদিও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আটক হওয়া এই পাঁচ সেনা কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করেনি। কিন্তু বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্টে তাঁদের পরিচয় জানানো হয়েছে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান রাশিয়া সফর সেরে বাংলাদেশে ফিরেছেন। কিন্তু এখনও গৃহবন্দী ওই পাঁচ সেনা কর্তার বিষয়ে মুখ খোলেননি। যদিও ইতিমধ্যেই রাশিয়া সফর সেরে বাংলাদেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান। এখন দেখার তিনি কি ব্যবস্থা নেন।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে জড়িত বহু বিশিষ্ট সাংবাদিক এখন সমাজমাধ্যমে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন। কারণ বাংলাদেশের প্রথমসারির মিডিয়া তদারকি সরকারের বলে দেওয়া পথেই হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে বলে দাবি। কারণ, সেখানে সরকার বিরোধী কোনও খবর প্রকাশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশের পাঁচ পদস্থ সেনাকর্তাকে যে গৃহবন্দী করা হয়েছে, তা ভারতীয় মিডিয়া ঘটা করে প্রকাশ করলেও, বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া অন্য কোনও মেইন স্ট্রিম মিডিয়ায় সেই খবর নেই। জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশে এখন সমান্তরালভাবে প্রশাসন চালানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন সেনাপ্রধান ও প্রধান উপদেষ্টা। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কার্যত মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে থাকলেও বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ভার নিজের হাতেই তুলে নিয়েছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান। আবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে দুজনের বিভেদ এখন প্রকাশ্যে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হল ডঃ খলিলুর রহমানকে। তিনি বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গাবিষয়ক এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ। গত নভেম্বরে এই পদে তাঁর নিয়োগ হওয়ার পর থেকেই সরকারে খলিলুর রহমানের গুরুত্ব বেড়েছিল। এবার বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পাশাপাশি তিনি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনেও সাহায্য করবেন। অর্থাৎ, ডঃ খলিলুর রহমান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমন একটি পদে বসলেন, যে তিনি সরাসরি সেনাবাহিনীর অন্দরেও নাক গলাতে পারবেন। সে অর্থে সেনাপ্রধানের ক্ষমতা খর্ব হল বলা চলে। পাশাপাশি সেনাপ্রধানকে দূরে রেখেই বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে মুহাম্মদ ইউনূস ছড়ি ঘোরাতে পারবেন। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতেও নিজের কর্তৃত্ব বাড়াতে চাইছেন মুহাম্মদ ইউনূস। অর্থাৎ তিনি পুরোপুরি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে ঘিরে ফেলেছেন। এবার সেনাপ্রধানকে যে কোনও সময়ে বিপদে ফেলে দিতে পারেন মুহাম্মদ ইউনূস।
সূত্রের খবর, রাশিয়া থেকে ফেরার পর ওয়াকার উজ জামান নিজেই যথেষ্ট চিন্তায় রয়েছেন। কারণ এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সেনা ছাউনিগুলিতে একটা টানটান উত্তেজনা ও আতঙ্কের পরিবেশ রয়েছে। মুহাম্মদ ইউনূসের চালে পাঁচ সেনাকর্তা যেমন নজরবন্দী রয়েছেন, তেমনই যে কোনও সময় খোদ সেনাপ্রধানও নজরবন্দী হতে পারেন বলেই খবর। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল এবং প্রতিরক্ষা মহলের একটা বড় অংশ আশঙ্কা করছেন, যে কোনও সময় বাংলাদেশে বড় কিছু ঘটে যেতে পারে। নিজেকে বাঁচাতে যেমন ওয়াকার উজ জামান ব্যবস্থা নিতে পারেন মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে, আবার উল্টোটাও হতে পারে। কারণ, ইউনূসবাহিনী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেই একটা ছায়া যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ দাবি করেছিলেন, সেনাপ্রধান বুকে পাথর চাপা দিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসকে মেনে নিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের এই দাবি যদি সত্যি হয় তাহলে বলতেই হবে সেনাপ্রধান কোনও ভাবেই মেনে নিতে চাননি মুহাম্মদ ইউনূসকে। উল্টো দিক থেকে মুহাম্মদ ইউনূসও বলেছিলেন তিনি প্রধান উপদেষ্টার পদে বসবেন একটাই সর্তে যে সেনাবাহিনী কোনও ভাবেই তাঁর উপর ছড়ি ঘোরাতে পারবে না। কিন্তু আদতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে সমান্তরাল একটা প্রশাসন চলছে সেনাপ্রধান এবং প্রধান উপদেষ্টার। কখন কে কাকে টেক্কা দেবে, সেটা বোঝা মুশকিল।












Discussion about this post