বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। আর সেই বিতর্কের একটি প্রধান লক্ষ্য হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে, যে সেনাবাহিনী নাকি সেনানিবাসে অবৈধভাবে কিছু মানুষ অর্থাৎ ৬২৬ জন মানুষকে অবৈধভাবে বসবাস করতে গিয়ে ফাঁসিবাদের বা আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছে। অন্তর্ভুক্তির সরকারের শাসন তাদের শুরু থেকেই এই ধরনের বিতর্ক চলছে। আর কতিপয় ব্যক্তি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ এনে প্রতিনিয়ত বিষোদগার করে চলেছে। এবার এই অভিযোগের পাল্টা একশন নিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইএসপিআর।
দীর্ঘ ৯ মাস ধরে যখন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক বিতর্ক সৃষ্টি করছে কতিপয় ব্যক্তিবর্গ, এবার সেই বিতর্ক নিয়ে সরাসরি বাংলাদেশে না ও আইএসপিআর এর তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হবে। বাংলাদেশ সেনা কোন প্রেক্ষাপটে কাদের আশ্রয় দিয়েছিল তা নিয়ে কি বলেছে বাংলাদেশ সোনা সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।
উল্লেখ যখন বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিকরণ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনিসে তরফ থেকে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে এসেছে। তখনই বাংলাদেশ সেনা ও আইএসপিআর এর তরফ থেকে বড় বিজ্ঞপ্তি এবার বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে।
গন অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সেনানিবাসের ভেতরে প্রাণ রক্ষায় আশ্রয় গ্রহণকারী ব্যক্তিদের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে সেনাবাহিনী। সেই সংকটের সময়ে শুধু মানবিক দায়বদ্ধতার কারণে আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে আশ্রয়প্রার্থীদের জীবন রক্ষা করাই মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল সেনাবাহিনীর স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ সেনা।
বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে যে দাবি করা হচ্ছে, তা হল বৃহস্পতিবার একদিকে যেমন অন্তরবর্তী সরকার প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুসের পদত্যাগের জল্পনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। তেমনি আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের বা আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আশ্রয়প্রার্থীদের নিরাপত্তা ও জীবন রক্ষায় সেনাবাহিনীর এ অবস্থান তুলে ধরা হয়। এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিস্থিতি উন্নয়ন সাপেক্ষে আশ্রয় গ্রহণকারীদের বেশির ভাগই এক–দুই দিনের মধ্যে সেনানিবাস ত্যাগ করেন। এর মধ্যে পাঁচজনকে তাঁদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ বা মামলার ভিত্তিতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়, গত বছর জুলাই–আগস্ট এর ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে বিগত সরকারের পতনের পর কতিপয় কুচক্রী মহলের তৎপরতায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়। ফলে সরকারি দপ্তর ও থানাগুলোতে হামলা, রাজনৈতিক নেতা,কর্মী ও সমর্থকদের ওপর আক্রমণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, মব জাস্টিস, চুরি, ডাকাতিসহ নানা রকম বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। এ ধরনের সংবেদনশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দেশের নাগরিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এমতাবস্থায় ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব সেনানিবাসে প্রাণ রক্ষার্থে কতিপয় রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার নাগরিকেরা আশ্রয় প্রার্থনা করেন। উদ্ভূত আকস্মিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সেনানিবাসে আশ্রয়প্রার্থীদের পরিচয় যাচাইবাছাই করার চেয়ে তাঁদের জীবন রক্ষা করা প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। মোট ৬২৬ জনকে বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল।
সবশেষে, বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি নিষ্ঠা ও আস্থার সঙ্গে দেশ ও জাতির পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।












Discussion about this post