বাংলাদেশ নাকি স্বৈরাচারী শাসকের কবলমুক্ত হয়েছে গত বছরের ৫ আগস্ট। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারকে স্বৈরাচারী আখ্যা দিয়ে হয়েছিল গণঅভ্যাউত্থান। আজ প্রায় এক বছর হতে চলল, কিন্তু বাংলাদেশ কি একটা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ সরকার পেয়েছে? নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে তদারকি সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাঁরা কি স্বৈরাচারী মনোভাব পোষণ করছে না? এই সরকার কি সংবিধান বিরোধী কাজকর্মে লিপ্ত হচ্ছে না? এর উত্তরও সবাই জানে। কিন্তু ৫ আগস্ট পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে বিচারবিভাগ ও আইনবিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যখন পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়েছেন সেটা বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
শনিবার রাজধানী ঢাকার তেজগাঁওয়ে জুলাই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে করণীয় নিয়ে ছায়া সংসদ – ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি নামক একটি অনুষ্ঠান হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। তিনি রাষ্ট্র দ্বারা নিযুক্ত বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ আধিকারিক, কিন্তু ওই অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্য ছিল পুরোপুরি সরকারপন্থী। যা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশের মব জাস্টিস প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “গত বছরের দেশব্যাপী গণপিটুনির ঘটনা বিচার বিভাগের প্রতি অবিশ্বাসের প্রকাশ নয়, বরং এটি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষের বিস্ফোরণ”।
এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়ে দিয়েছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যারা সাজাপ্রাপ্ত, তারা আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে ভয়ানক দাবিটা হল, আওয়ামী লীগের সঙ্গে যারা জড়িত, তাঁদেরও বিচারের আওতায় আনার সুযোগ আছে।
রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের মন্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তা এক ভয়ানক গৃহযুদ্ধের দিকেও ঠেলে দিতে পারে বাংলাদেশকে। সে দেশের আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কোন আইনের ভিত্তিতে এই দাবি করছেন সেটা জানা নেই। কারণ এই ধরণের কোনও আইন নেই বর্তমান সংবিধানে। তাহলে কি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান সরকারের লেজুড় হিসেবেই এই বক্তব্য রাখলেন? বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কোটি কোটি সমর্থক রয়েছেন। পরিসংখ্যান বলছে, বিগত কয়েকটা নির্বাচনের নিরিখে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ভোট পায়। এমমকি তাঁদের সদস্য সংখ্যাও কয়েক কোটি। বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের কথা অনুযায়ী যদি তাঁদের বিচারের আওতায় আনা হয়, তাহলে কয়েক কোটি আওয়ামী সমর্থককে জেলে পুড়তে হবে। এত কারাগার কোথায় বাংলাদেশে? আসলে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের বক্তব্য থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট যে এই সরকার একটা গৃহযুদ্ধ বাধানোর চেষ্টায় আছে। আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে যদি এভাবে গণ হারে মামলা মোকদ্দমা হয়, তাঁদের যদি বিনা কারণে কারাগারে নিঃক্ষেপ করা হয়, তাহলে তাঁরাই বা মেনে নেবেন কেন? একটা গণ প্রতিরোধ আসবে এটা নিশ্চিত। আওয়ামী লীগের যে সমস্ত নেতা নেত্রীরা দুর্নীতি, গণহত্যা, গুম বা খুনের সঙ্গে জড়িত তাঁদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা যেতেই পারে। তাহলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা কিসের ভিত্তিতে এবং কেন বলছেন বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান? আসলে দেওয়াল লিখনটা স্পষ্ট। কারণ শুধু অ্যাটর্নি জেনারেল নন, বাংলাদেশের সরকারি উচ্চ পদে আসীন বহু পুলিশ কর্তা জামাত বা বিএনপির সভায় ভাষণ দিচ্ছেন। তাঁরা সরাসরি আওয়ামী লীগকে স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিস্ট বলে আক্রমণ করছেন রাজনৈতিক নেতাদের মতো। যা বাংলাদেশকে একটা গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।











Discussion about this post