আমেরিকার প্রস্তাব মেনে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে মিয়ানমারে রাখাইন অঞ্চলে আরাকান আর্মিদের জন্য মানবিক সহায়তা পাঠানোর জন্য রাজি হয়েছিল বাংলাদেশের সরকার। বাংলাদেশকে করিডোর হিসাবে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না বলে দাবি উঠল এবার। মিয়ানমারে বিদ্রোহী সংগঠন রাখাইন আর্মি নিয়ন্ত্রিত ওই প্রদেশে রাষ্ট্রপুঞ্জের তত্ত্বাবধানে মানবিক করিডর স্থাপন করতে দিলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হতে পারে। মায়ানমার বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈঘ্য 271 কিলোমিটার। গত দেড় বছরের যুদ্ধে পুরোটাই প্রায় দখল করে নিয়েছে আরাকান আর্মি। মিজোরাম, চট্টগ্রাম, আরাকান নিয়ে নতুন ইহুদী খ্রিস্টান রাষ্ট্র তৈরি করার নকশা করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে এই অঞ্চলে খ্রিস্টান মিশনারি কার্যক্রম, কৌশলী,ধর্ম ও ধর্মান্তকরণ, ইসরাইলী পন্থীর গোষ্ঠীর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় আসছে। অনেকেই এটা মনে করেন, এই পরিকল্পনা একেবারেই নতুন নয়। এটা অত্যন্ত পুরনো একটি পরিকল্পনা। যেটা দীর্ঘদিন ধরে চালনা করা হয়েছে। যার মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় খ্রিস্টান ইহুদী রাষ্ট্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা কষা হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ধর্মান্তকরণ, সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর অসন্তোষ নিয়ে উঠবেগ তুঙ্গে রয়েছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, এটি ইউহুদি ধর্মের আদলে তৈরি একটি উপ ধর্ম, যেটি যা এক ধরনের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চলছে। আরাকান্দের সাহায্যের জন্য বাংলাদেশের করিডরের বিষয়টি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বারবার উঠে আসছে। তাদেরকে সাহায্য করার জন্য বাংলাদেশ করিডোর হিসাবে গড়ে উঠলে আখেরে লাভ হবে কার? বারবার বলা হচ্ছে বাংলাদেশের। সেটা কি আদৌ হবে? উঠে আসছে প্রশ্ন। অনেকে বলছেন, এর যেরে বাংলাদেশের সর্বভৌমত্ব নষ্ট হতে পারে। সেন্ট মার্টিন থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ২৭০ কিলোমিটার প্রায় দখল করে নিয়েছে আরাকান আর্মি। তারা বাংলাদেশে ঢোকার জন্য পরিকল্পনা করছে। এক্ষেত্রে চীনও সক্রিয় রয়েছে। রাশিয়াও সাবমেরিন এনে রয়েছে। এছাড়াও ভারত বঙ্গোপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের আশপাশে কাউকে অনুমতি দেবে না।
অনেকে বলছেন, জাতিসংঘ কোনও মানবিক সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশকে ব্যবহার করছে না। তারা আরাকান আর্মির হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করছে বাংলাদেশকে। এছাড়াও ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইউনুস এমন ফেঁসে গিয়েছেন, তাতে কিছু করার নেই বাংলাদেশের। আরাকান আর্মি মায়ানমারের জুন্টা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই জুন্টা সরকারকে চীন সমর্থন করে। অর্থাৎ এই বিষয়ে আমেরিকার হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন থাকতে পারে। কারণ যদি আরাকান আর্মিকে দিয়ে বাংলাদেশের এই প্রতিবেশী রাষ্ট্রে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়, তবে চীন কখনই মেনে নেবে না। জুন্টা সরকারকে সমর্থন করে চীন। অর্থাৎ মায়ানমারকে কেন্দ্র চীন এবং আমেরিকা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে এবং প্রক্সি হিসাবে থাকবে বাংলাদেশ। অর্থাৎ প্রক্সি ওয়ারে জড়িয়ে পড়বে বাংলাদেশ। কারণ এই বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই আরাকান আর্মিদের নিশানায় চলে এসেছে। শুধু তাই নয়, একটি খ্রিস্টান ইহুদি রাষ্ট্র গড়ার জন্য পরিকল্পনা। যে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিক বার বলেছেন তার বক্তব্যে। এমনকি তার সরকারের পতন হওয়ার এটি একটি অন্যতম কারণ বলে ধরা হয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে। এখন দেখার, মহম্মদ ইউনুস বাংলাদেশকে করিডোর হিসাবে ব্যবহার করতে দিয়ে আদতে বাংলাদেশের লাভ করলেন নাকি, সত্যিই ক্ষতি হয়ে গেল গোটা দেশের!












Discussion about this post