সকলকে অন্ধকারে রেখে এবার রাখাইন কে করিডোর দিল বাংলাদেশ সরকার আর সেটা যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছে অনুযায়ী। কিন্তু এরপর নানা পৃথক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সে দেশের সেনাবাহিনীকে বিপদের মুখে ফেলা হচ্ছে কিনা? সেনাবাহিনীকে যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্মুখীন করা হচ্ছে কিনা?এবং সে দেশের সেনা প্রধানের অনুমতি ছাড়াই এ সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে কিনা? এরকম নানা প্রশ্ন উঠছে।
উল্লেখ্য বিশ্বের যে সকল জায়গায় যুদ্ধ চলমান পরিস্থিতি সেখানে মানবিক সহায়তার নামে যে করিডর দেওয়া হচ্ছে তা মানবিক সহায়তা থাকে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভারতও করিডোর দিয়েছে বাংলাদেশকে, এক কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল, ভারত করিডোর দেওয়ার ফলে সেই সমস্ত শরণার্থীরা বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যেতে পারছিল এবং ভারত মানবিক সহায়তাও পাঠাচ্ছিল। এমনকি ভারত যুদ্ধে ও সহায়তা করেছিল আর মানবিক সহায়তার পরেও ভারত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল কিন্তু সেখানে ভারতের স্বার্থ ছিল। কিন্তু তাদের প্রশ্ন বাংলাদেশের কী স্বার্থ?
আর রাখাইন প্রদেশের সহায়তা পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে এই প্রক্রিয়ায়। ২৭ এপ্রিল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথাটি জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তৌহিদ জানান, রাখাইন রাজ্যে সহায়তা পাঠানোর জন্য সরকার রাজি হয়েছে। তবে বেশ কিছু শর্ত রয়েছে। যদি তাদের এই শর্তগুলি কোন দেশ মেনে নিতে পারে তবে তারা সহায়তা করিডর প্রদান করতে উদ্যত থাকবে। অনেকেই বলছেন, এই বিষয়ে ধীরে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল সরকারের। তাহলে বাংলাদেশে হঠাৎ করে কেন এই সিদ্ধান্ত নিল, বাংলাদেশের এমন সিদ্ধান্তের পর বঙ্গোপসাগর রাজনীতির সঙ্গে জরিত মায়ানমার রাশিয়া, চীন ও ভারতের প্রতিক্রিয়া এখন আন্তর্জাতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
বিশ্লেষকদের দাবি, জাতিসংঘ করতে গৃহীত এই আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার নানামুখী ঝুঁকি আছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা, প্রতিবেশী ভারত ও চীন করিডর পরিচালনা এবং নিরাপত্তার বিষয় নিশ্চিত না করতে পারলে ভুগতে হতে পারে বাংলাদেশকে। তাই জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জড়িত-এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনার কথা বলছেন তারা।
মায়ানমারের পুরো রাখাইন রাজ্যটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত। সেখানে গোলাগুলি চলছে। মায়ানমারের জান্তার সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘাত তীব্র হচ্ছে। আরাকান আর্মি নাকি ১৪ টি শহর দখলে নিয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ মায়ানমার সীমান্তে ২৭১ কিলোমিটার এলাকা মায়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর দখলে। রাখাইন রাজ্যের সমস্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। মায়ানমারের জান্তা বাহিনী কোণঠাসা করার চেষ্টা চালাচ্ছে আরাকান আর্মিকে। এর জেরে সমস্ত ধরনের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ সহ বহু সংস্থা দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করছেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ হয়ে রাখাইনে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য মানবীয় সহায়তার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল সংস্থাগুলি। এমন প্রস্তাব প্রথম দি জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ত্রাণ সংস্থা স্পেশাল এডভাইজারি কাউন্সিল ফর মায়ানমার। গত বছর বাংলাদেশে ক্ষমতার বদলের পর এই সংস্থাটি এমন দাবি তুলে ধরেছিল। সেই সময় একটি বিবৃতিতে রাখাইন রাজ্যে একটি মানবিক করিডর চালু করতে এবং রাষ্ট্রের সমস্ত জাতিগত ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কাছে ত্রাণ সরবরাহের অনুমতি দিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য আরাকান আর্মির প্রতি আহ্বান জানায়। এরপর থাইল্যান্ড ভিত্তিক মানব অধিকার সংগঠন বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানায়। সংস্থাটি গত ১১ ই মার্চ মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গৃহ যুদ্ধের শিকার নাগরিকদের মানবতা সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ ও আরাকান আর্মিকে মানবিক করিডর দিতে বলেছে। তারা বলেছিল, জাতিসংঘের মহাসচিব বাংলাদেশ সফরে সীমান্তের বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ঠিক তার দু দিন পরেই বাংলাদেশ সফরে আসেন জাতিসংঘের মহাসচিব। তিনি গত ১৩ থেকে ১৬ই মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করে। তিনি বলেছিলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন সফল করতে মায়ানমারে মানবতা সহায়তা পাঠিয়ে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবেশ অনুকূল হলে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে মানবতা সাহায্য নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তবে জাতিসংঘ কর্তৃক এই মানবিক অডিটরের আহবানে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত এর বিষয়ে আদৌ সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধান অবগত কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধছে বাংলাদেশের অন্দরে।











Discussion about this post