‘হাওড়া ব্রিজের চূড়ায় উঠুন, নীচে তাকান, উর্ধে চান, – দুটি মাত্র সম্প্রদায়, নির্বোধ আর বুদ্ধিমান।’
কবিতাটি শঙ্খ ঘোষের । বস্তুত, বাস্তবে সম্প্রদায় কিন্তু দুটি। নির্বোধ আর বুদ্ধিমান। আমাদের হাতের কাছেই আছে জ্বলন্ত উদাহরণ। আদর্শ নির্বোধের উদাহরণ তদারকি সরকার প্রধান। আর বুদ্ধিমানের উদাহরণ হাসিনা। রাজনীতি যে সবার জন্য নয়, হয় সেটা বোঝার ক্ষমতা ইউনূসের নেই। অথবা তিনি বুঝেও না বোঝার ভান করে বসেছিলেন। ক্ষমতার লোভ তাঁকে অন্ধ করে দিয়েছিল। এখন তাঁর অবস্থা অনেকটা এরকম “ওগো কে আছে চাহিয়া, শূন্য পথপানে, কাহারও জীবনে নাহি সুখ।”পাশাপাশি এটাও বলা দরকার, “রাতে যদি সূর্যশোকে ঝড়ে অশ্রুধারা, সূর্য নাহি ফেরে শুধু ব্যর্থ হয় তারা।”
এখন আর পরিতাপ করে কোনও লাভ নেই। কারণ, দাবার ঘুটি উলটে গিয়েছে। তদারকি সরকারের বিদায় প্রায় নিশ্চিত। যদিও ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখছেন না। কিন্তু তিনি এমন একজনের সঙ্গে খেলতে গিয়েছেন, যিনি রাজনীতির আগুন থেকে ওম নেওয়ায় দক্ষ। গত দেড় বছর ধরে তিনি লাগাতার ওম নিয়ে নিজেকে তপ্ত করেছেন। তার সেই তপ্ত শরীর পদ্মাপারের রাজনীতির ঘোলা জলকে স্বচ্ছ করেছে। পরিস্থিতিকে তদারকি সরকার “ডু ওর ডাই” ম্যাচে নিয়ে গিয়েছেন। পরিস্থিতি এরকম হত না, যদি তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতেন। সেই সুবর্ণ সুযোগ তার সামনে একাধিকবার এসেছিল। কিন্তু সুযোগ তিনি হেলায় হারিয়েছেন। এখন তার গলায় কেবল খেদোক্তি। তেমন এক খেদোক্তি শোনা যায় বাংলাদেশ-চিন মৈত্রী সম্মেলনে। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশ পৃথিবীতে চ্যাম্পিয়ন কী সে, জালিয়াতিতে। সব জিনিস জাল, বহু দেশ আমাদের পাসপোর্ট গ্রহণ করে না। ভিসা জাল, পাসপোর্ট জাল। আপনারা নিশ্চই পত্রিকায় দেখেছেন আমেরিকান বেস অব জাল। এটা একটা জালিয়াতির কারখানা বানিয়েছি আমরা। হাজারে হাজারে মানুষ। সব কিছু ভুয়ো। পারমিশন ভুয়ো। ব্যাংক সার্টিফিকেট ভুয়ো।”
তদারকি সরকার প্রধান যে সব দিক দিয়ে ব্যর্থ তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। যেটা সব থেকে বেশি করে ভাবিয়ে তুলছে তা হল ভারতের বিরুদ্ধে সরকারের গালমন্দ অব্যাহত রাখা। এমনকী বিদায় বেলাতেও। ভারতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করা দিল্লি বিদ্বেষী মনোভাবের একটা অন্যতমরূপ। এই অবস্থায় দিল্লির দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্ট্স ক্লাবের এক কর্মসূচিতে শোনানো হয় হাসিনার বার্তা। ‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ নামে ওই কর্মসূচিতে অডিয়োবার্তা দেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তাই নিয়েই এ বার অসন্তোষ প্রকাশ করল ঢাকা। রবিবার বিবৃতি দিয়ে জানাল, ‘‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতকরারএবংআসন্ননির্বাচনকেব্যাহতকরারজন্যআওয়ামীলীগেরসমর্থকদেরসন্ত্রাসীকর্মকাণ্ডকরারজন্যমানবতাবিরোধীঅপরাধেদণ্ডপ্রাপ্তওপলাতকশেখহাসিনাকেনয়াদিল্লিতেপ্রকাশ্যেবক্তব্যরাখারযেসুযোগকরেদেওয়াহয়েছে, তাতে বাংলাদেশের সরকার বিস্মিত এবং হতাশ হয়েছে।’’ বিবৃতিতে আরও একবার তোলা হয়েছে হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রকের বয়ান হল, দিল্লির সঙ্গে তাদের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তি অনুসারে, দিল্লি হাসিনাকে তাদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য। যদিও চুক্তির একজায়গায় কিন্তু খুব পরিষ্কার ভাবে বলা হয়েছে যদি এই প্রত্যর্পণের দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়, সে ক্ষেত্রে আবেদন অস্বীকার করার অধিকার দুই রাষ্ট্রের রয়েছে। হাসিনা বাংলাদেশের ফেরত চাওয়ার উদ্দেশ্য যে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করা তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই, হাসিনাকে আপাতত ফিরে পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা বাংলাদেশের নেই। তারা যতই দিল্লিকে গালমন্দ করুক না কেন।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post