আন্ধেরা কায়েম রাহে।
বাংলাদেশে চলছে ঘোর ঘনঅন্ধকার যুগ। যাকে বলে মুষলপর্ব। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসবে, সেই অন্ধকার যে আর নিকশকালো অন্ধকারে পরিণত হবে, তা নিয়ে কোনও মহলেই কোনও সন্দেহ নেই। কোনও কোনও মহল আগেই আশঙ্কা করেছিল ভোট যত এগিয়ে আসবে, বাংলাদেশে বইতে শুরু করবে রক্তের স্রোত। শোনা যাবে অস্ত্রের ঝনঝনানি। দেশজুড়ে প্রবল বেগে বইবে অশান্তির ঘূর্ণিঝড়। সেই আশঙ্কা সত্যি হতে চলেছে। একদিকে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার। অপরদিকে রাজনৈতিক খুন। এবার খুনের বলি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়েত ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম। বুধবার শেরপুরে ঝিনাইগাতীতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা একটি নির্বাচনী ইস্তেহার পাঠের আয়োজন করেন। সেখানে কে বা কারা তার ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ঝিনাইগতি উপজেলা স্বাস্থ্য ভবনে।অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে শেরপুরসদরহাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তাঁর শারীরিক অবস্থার বিশেষ উন্নতি না ময়মনসিংহমেডিকেলকলেজহাসপাতালেনিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। ওই হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেরাতসাড়েনয়টারদিকেতাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রশাসন জানায়, ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে একটি নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল এবং প্রার্থীরা মঞ্চে ওঠার পর সামনের সারিতে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একসময় উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গুরুতর জখম হন রেজাউল করিম। আগামীদিনে এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা ঘটবে না, সেটা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না।
অথচ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, “মত বিনিময় সভার মেইন (প্রধান) উদ্দেশ্য ছিল আমাদের যে জাতীয় নির্বাচন , ১২ তারিখের, এতে আমাদের কোনো ঘাটতি আছে কি না? ঘাটতি থাকলে কীভাবে সমন্বয় করা যায়। আসার পর আমি দেখলাম, তাদের প্রিপারেশন খুবই ভালো। আমাদের যে এক্সপেকটেশন ছিল, সেই এক্সপেকটেশনের তুলনায় অনেক ভালো। ”
বাইট – স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
TC
00.00 – 00.23
নির্বাচনে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোটিং সেন্টারে থাকবে সুরক্ষা অ্যাপ। সেই সঙ্গে থাকছে সিসি ক্যামেরা, ড্রোন। তবে সব কেন্দ্রে নয়। বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও ডগ স্কোয়াড রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ১০জন করে আনআর্মড আনসার থাকবেন। তাদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও চারজন মহিলা। তিনজন আর্মড আনসার। স্ট্রাইকিং ফোর্স তৈরি করা হবে সেবাহিনীর তিন শাখার সদস্য, পুলিশকর্মী, বিজিবি উপকূলরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে।” অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় এবারের প্রস্তুতি আরও ভালো বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা যা বলেছেন, সেটা তো নির্বাচনের দিনের জন্য। কিন্তু তার আগে দেশজুড়ে যে নৈরাজ্যের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে, তাকে প্রতিহত করার দায়িত্ব তো একটি সরকারের। তা নিয়ে কিন্তু স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে একটি শব্দ খরচ করতে দেখা যায় গেল না।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার কিছুদিন আগে ক্যান্টনমেন্টে তাঁর বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ভোট পূর্ববর্তী এবং ভোট পরবর্তী পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলার সঙ্গে কোনওভাবেই আপোষ করা যাবে না বলে তিনি তাঁর ইউনিটকে কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন। বার্তা ছিল রাজনৈতিক রঙ না দেখার। কিন্তু যেভাবে হিংসার আগুনে জ্বলছে বাংলাদেশে, তাতে করে ভোট আদৌ হবে কি না, সেটাই এখন বড়ো প্রশ্ন।












Discussion about this post