মুহাম্মদজ ইউনূসকে কী এবার ‘বিদায়’ বলবে বাংলাদেশ? ইতিমধ্যেই প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগে নাকি প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি ও জামায়তে ইসলামী ও এনসিপি-র মতো দলগুলি। বাংলাদেশের সমকাল পত্রিকায় একটি খবর নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। সেটা হল, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চাইছে বাংলাদেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলই। আর এই বিষয়ে একমত বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ সব দল। উল্লেখ্য পুরোনো প্রথা হিসেবে বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন সময়ে কোনও রাজনৈতিক দলের সরকার থাকে না। যাতে নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়। কিন্তু শেখ হাসিনার শাসনকালে এই নিয়মে ব্যাঘাত ঘটেছিল বলেই দাবি।
সেই সময় নির্বাচন চললেও মাথায় বসে থাকত আওয়ামী লীগই। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাই বাতিল করে দেয়। এই কারণেই হাসিনার আমলে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এত প্রশ্ন। তবে হাসিনার জমানা এখন অতীত। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন একটা সরকার আছে। তাঁরা বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন করানোর কথা ঘোষণা করেছে। এমনকি চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক যত প্রস্তুতি, তা ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করতে হবে বলেও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এর জন্য বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীতে ১৭ হাজার নতুন নিয়োগ হবে। এছাড়াও নির্বাচন পরিচালনা যাতে সুষ্ঠ ভাবে হয়, সেই দায়িত্বে থাকবে সেনাবাহিনী। প্রায় ৮ লক্ষ কর্মীকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্খাও হবে বলে জানিয়েছেন ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকূল আলম।
নির্বাচনকালীন সময়ে গোটা বিষয়ের দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন, তাই নিয়েই এখন চর্চা নানা মহলে। জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্য়েই ওই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কীভাবে নিয়োগ হবে সেরকম ২টি বিকল্প প্রস্তাব জমা দিয়েছে, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি-সহ একাধিক দল। তবে মূলত সংসদের প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন প্রধান উপদেষ্টা। সংবিধান সংস্কার কমিশন প্রস্তাব করেছিল, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, সংসদের উভয় কক্ষের স্পিকার ও বিরোধীদলীয় ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা এবং সরকারি ও প্রধান বিরোধী দল ব্যতীত অন্য দলের একজন সদস্যকে নিয়ে গঠিত ৯ সদস্যের জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল বা এনসিসি প্রধান নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা নিয়োগ করবে। তবে বিএনপি এই এনসিসি গঠনে সায় দেয়নি।
ফলে, গত বৃহস্পতিবারের নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ঐকমত্য কমিশন। বলা হয়েছে, সংসদের মেয়াদ অবসানের ১৫ দিন পূর্বে এবং মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে গেলে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে। এবং সাত সদস্যের ‘নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বাছাই কমিটি’ গঠিত হবে। কমিটি গঠনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা পদের জন্য সরকারি দল কিংবা জোট পাঁচজন উপযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করবে। এই পদ্ধতিতে যদি অভিন্ন ব্যক্তির নাম প্রস্তাবিত হয়, তবে তিনিই হবেন প্রধান উপদেষ্টা। যাকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন। তবে বলে রাখি, এই ব্যবস্থা মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য নয়। পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের। ফলে আপাতত মুহাম্মদ ইউনূস বাতিল হচ্ছেন না।












Discussion about this post