গত বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। জানা যাচ্ছে, ওই বৈঠকেই তিনি নির্বাচনের জন্য ডিসেম্বরের মধ্যে বিভিন্ন রকমের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকূল আলমের এই বক্তব্যে পরিস্কার, মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। কিন্তু তিনি নির্বাচনের নির্দিষ্ট কোনও সময় বা তারিখের কথা বলছেন না। তিনি এও জানাচ্ছেন না, তিনি কবে পদত্যাগ করবেন, বা এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ কবে শেষ হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, সরকার পতনের তিন মাসের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়, আর সেটা করবে নির্বাচন কমিশন।
এই বিধি অনুযায়ী, প্রথমে মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘোষণা করতে হবে এই তদারকি সরকারের মেয়াদ কবে শেষ হবে। সেটা যদি ৩১ ডিসেম্বর হয়, তাহলে পরের বছর মার্চের মধ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হবে। তবে যদি ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়, তাহলে ইউনূসকে সরে যেতে হবে চলতি বছরের অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মধ্যে। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূস এই একটি ব্যাপারে স্পিকটি নট। বাকি তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ করতে নির্দেশ দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে। এটাও একটা প্রহসন বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা) আরও বলেছেন নির্বাচন ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলে হবে। এর অর্থ হলো যে, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোসহ যা কিছু দরকার সেটা এখন থেকেই শুরু করতে হবে। এরমধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ১৭ হাজার সদস্যের নিয়োগ। মূলত নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই এই নিয়োগ হবে বলে জানান শফিকুল আলম। পাশাপাশি তিনি জানান, প্রায় ৮ লক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এই নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবেন। তাঁদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
শফিকুল আলমের এই বক্তব্য শুনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া বেশ মজার। অনেকেই বলছেন, যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা পুলিশের হাত থেকে মারণাস্ত্র কেঁড়ে নিয়েছে, তাঁদের আবার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে কঠোরভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য। আবার প্রশিক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, মুহাম্মদ ইউনূস একাই সব ঠিক করছেন। যা নির্বাচন কমিশনের করার কথা। তাঁদের যুক্তি, যদি রোজার আগে ভোট শেষ করার টার্গেট থাকে, তাহলে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করার কোনও অর্থ হয় না। কারণ, আগামী বছর রোজা শুরু হতে পারে ফেব্রুয়ারির ১৭ কি ১৮ তারিখে। সেক্ষেত্রে মূল নির্বাচনের জন্য সময় পাওয়া যাবে মাত্র মাস দেড়েক। যা কার্যত অসম্ভব। আবার যে ৮ লক্ষ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা প্রধান উপদেষ্টা বলছেন, সেটাও কার্যত অসম্ভব। পাশাপাশি নির্বাচনের সময় জনপ্রশাসন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে। গত তিনটি বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনে যেসব প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। কিন্তু তাঁদের বাদ দিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা পাওয়া যাবে কি না, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ফলে মুহাম্মদ ইউনূসের কথায় ও কাজে বড় ফাঁক রয়েছে। এটা স্পষ্ট।












Discussion about this post