ম্যাচের শুরু থেকে আইসিসি বল যেভাবে ডেলিভারি করছিল, তাতে বাংলাদেশের অনেক আগেই আউট হওয়ার কথা ছিল। হাওয়া ভালো ছিল। আর মাঠে ভালো হাওয়া থাকলে যে কোনও দক্ষ বোলারের পোয়া বারো। বোলার সেই সুযোগে বল ঘোরান। ‘টিম আসিফ নজরুল’ চেষ্টা করেছিলেন যদি বেনিফিট অফ ডাউটে কোনও রকমভাবে মাঠে টিকে থাকা যায়। তারা কার বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছে সেটা ভুলে গিয়েছিল – আইসিসি। বাংলাদেশ গুডলেংথ বল কীভাবে সামাল দেয় সেটা দেখতে চেয়েছিল। যখন বুঝে নিল, বাংলাদেশ ক্রিজে থেকে যেতে চাইছে, দিল একটা ফুলটস বল। বাংলাদেশ সেই বলের লাইন আর লেংথ বুঝতে পারেনি। এলোপাথাড়ি ব্যাট চালাতে গিয়ে আইসিসির হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছে। এই ক্যাচ কি কোনওভাবে মিস করা যায়? আইসিসি সেটা করেওনি। ওই একটা ক্যাচ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
বাংলাদেশ বুঝতে ভুল করেছে। আইসিসির মতো একটি অভিজ্ঞ দলের সঙ্গে ২২ গজে যুদ্ধ করতে হলে দলে ভালো ব্যাটার যেমন রাখতে হয়, ভালো বোলার রাখতে হয়। দূর্বল বোলার, ব্যাটসম্যান নিয়ে যে শক্ত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মাঠে নামা যায় না, নামা উচিত নয় সেটা তাদের বোঝা উচিত ছিল। আসিফ নজরুল কোনওদিন গালি ক্রিকেট খেলেছেন কি না সন্দেহ। সে গ্লাভস আর প্যাড পড়ে মাঠে খেলতে নেমে গেল। প্রথম বলেই ক্লিন বোল্ড।
বাংলাদেশ শুধু একটি ম্যাচে হারেনি। তারা গোটা সিরিজটাই হারিয়ে ফেলল। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টিম-বাংলাদেশকে দেখা যাবে না। উল্টে তাদের দিতে হবে মোটা টাকা জরিমানা। আগে ওয়াকওভার দিলে এতটা বেইজ্জত হয়তো তাদের হতে হত না। কিন্তু আইসিসি যেভাবে দলটিকে ঘাঁড় ধাক্কা মাঠ থেকে বের করে দিল, তাতে মান সম্মান তো গেলই। আগামীদিনে বাংলাদেশ কোনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবে কি না, সেটাই এখন বড়ো প্রশ্ন।
তাদের দুঃখের দিনে, তাদের সহমর্মিতা জানাতে পাশে দাড়িয়েছে আবার পাকিস্তান। ইমরান, জাভেদ মিয়াদাঁদ, ওয়াসিম আক্রমদের সময়ে টিম পাকিস্তান আর এখনকার টিম পাকিস্তানের মধ্যে যে বিস্তর ফারাক, ক্রিকেট নিয়ে যাদের সামান্য চর্চা আছে, তারা সকলেই জানে। পার্থক্য শুধু দুই দলের অভিজ্ঞতায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের তুলনায় পাকিস্তান অভিজ্ঞতায় অনেকটা এগিয়ে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু যে ইস্যুতে তারা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেটা কিন্তু আইসিসির বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সামিল। যদিও তারা এর জন্য বিন্দুমাত্র ভাবিত নয়। পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাহউল্লাহ বলেন, পাকিস্তানের উচিত টি-টোয়েন্ট বিশ্বকাপ বয়কট করা। সানাহউল্লা বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত। দীর্ঘমেয়াদে এটা পাকিস্তানের স্বার্থেই কাজে আসবে। হয়তো কিছু অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে। কিন্তু তা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। ’
আর আগে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান তথা সেই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। তাতে বেজায় চটে যায় আইসিসি। ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, পিসিবিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল আইসিসি। এমনকী এশিয়া কাপ থেকে পাকিস্তানকে ব্যান করা হতে পারে বলে জানিয়ে রেখেছে আইসিসি। তারা এটাও জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি না খেললে তাহলে বিদেশি খেলোয়াড়দের পিএসএলে খেলতে যাওয়ার ক্ষেত্রে আইসিসি নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেবে না। এছাড়াও পাকিস্তানের সব আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করেছে আইসিসি। বাংলাদেশের দেখাদেখি তারাও ওয়াকওভার দেবে কি না জানতে চাওয়া হলে পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে। তিনি ফিরলে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।












Discussion about this post