বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ইউনুস আর্থনা সামিট ২০২৫ এ যোগদান করতে চার দিনের সফরে কাতারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সে দেশের প্রধান উপদেষ্টার কাতার সফরকে ঘিরে নানা রকম আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসকে সেখানে অসম্মান করা হচ্ছে কিনা অবহেলিত হতে হচ্ছে কিনা এমনকি তাদের দেশকে অসম্মান করা হচ্ছে কিনা এই ধরনের বিভিন্ন প্রশ্ন উঠে আসছে তার কাতার সফরকে ঘিরে। আর এই আশঙ্কাগুলি কে আরো কিছুটা উসকে দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
কাতারে একটি সম্মেলনে যোগদান করেছেন মোহাম্মদ আর সেই সম্পর্কেই তার পেস্ট শফিকুল আলম তার সমাজ মাধ্যমের পোস্টে বরাবরের মতোই এবারও আগ বাড়িয়ে বেশ কিছু মতামত প্রকাশ করেছেন আর সেখানেই বিভিন্ন আশঙ্কা আরো জোরালো হচ্ছে যেমন আদৌ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ইউনুসকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে কিনা, সে দেশের প্রধান উপদেষ্টার পেছনে কেন বাংলাদেশের পতাকা রইল না? এই ধরনের একটি ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সমাজ মাধ্যমে। শফিকুল আলম তার সমাজ মাধ্যমের পোস্টে লেখেন কাতারের প্রটোকল প্রধান রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম ফাঁক্র প্রধান উপদেষ্টা কে স্বাগত জানান এবং সেখানে মোহাম্মদ ইউনুছকে লাল কালিচা সম্বর্ধনা দেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে সম্বর্ধনা জানানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কখনোই একটি লাল গালিচা নয়, তাকে কোন পর্যায়ের রাষ্ট্রপ্রধান এবং আধিকারিক সংবর্ধনা জানাচ্ছেন সেটি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ।
আর আমরা দেখেছি যে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা কে সম্বর্ধনা জানিয়েছেন কাতারের প্রটোকল প্রধান রাষ্ট্রদ ূত ইব্রাহিম ফাঁকরু। অর্থাৎ তিনি মন্ত্রী পরিষদের কোন সদস্য নন তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবেই পরিচিত সেখানে এই পর্যায়ের কোন ব্যক্তি যদি কোন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে সমর্থনা জানায় সেটা কখনোই অসম্মানজনক নয় বলেই অভিমত বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা কাতারে পৌঁছে গিয়েছেন আর্থনা শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করার জন্য। কাতার আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির আমন্ত্রণে কাতার সফরে গিয়েছেন ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস । এই সফরে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। কিন্তু প্রশ্ন তোলা হচ্ছে এই শহরটি কি রাষ্ট্রীয় সফর কারণ একটি রাষ্ট্রীয় সফরে বেশ কিছু নিয়মাবলী থাকে। সেখান থেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাই এই প্রশ্ন গুলি তুলছে। কারণ এই ধরনের সফরে অন্তত একটি বৈঠক হতে হয় ওই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে। আর সেখানে পৌঁছে কাতারের আমিরের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার পরিকল্পনা শোনা গিয়েছে। কিন্তু সেটা কতটা সফল হবে বা আদৌ হবে কিনা সেটা নিয়ে সংশয় রোধে এই বিশ্লেষকদের মনে।
এবার আসা যাক বাংলাদেশের পতাকা না থাকার প্রসঙ্গে, বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস নামলেন, সেই মুহূর্তের একটি ছবি সমাজ মাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্চে কাতারের প্রটোকল প্রধান ইব্রাহিম ফাঁক্র বসে আছেন এবং তার পিছনে কাতারের পতাকা রয়েছে কিন্তু তার পাশেই বসে আছেন বাংলাদেশ র প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস কিন্তু তার পিছনে দেখা যাচ্ছে না বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। কিন্তু এটা তো তাদের নিজেদের দেশের রাষ্ট্রীয় আচার তাদেরই দায়িত্ব বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
যদিও মনে করা হচ্ছে কাতারের তরফ থেকে এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি কিন্তু বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা তারা কি করে ভুলে গেলেন যে প্রধান উপদেষ্টার পেছনে তাদের দেশের পতাকা নেই। প্রশ্ন উঠছে তবে কি এটা ইচ্ছাকৃত ভুল?
তবে এই সমস্ত বিষয়গুলি বারে বারে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে শুধুমাত্র সে দেশের প্রেস সচিব শফিকুল আলমের বিভিন্ন পোস্টে করা তারা নিজস্ব মাত্রাতিরিক্ত মতামত থেকে।












Discussion about this post