বাংলাদেশে শেষ ইউনুস জমানা? অন্তরবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস পদত্যাগ করলে কোন পথে এগোবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ? দেশের ক্ষমতা সেনার হাতে তুলে নিতে সমাজমাধ্যমে আর্জি সাধারণ জনগণের!
তবে কি সেনাশাসনই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ?
পদত্যাগের পরিকল্পনা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মহম্মদ ইউনূসের ৷ তবে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি ইউনুসের এই ভাবনাকে নিছকই নাটক বলে সন্দেহ প্রকাশ করলেও, মহম্মদ ইউনুস দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত তিনি নিজেও মনে করছেন দেশে অরাজক পরিস্থিতি চলছে। এবং সরকার পরিচালনের ব্যাপারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতের মিল না হওয়ায় তিনি পদত্যাগের কথা ভাবছেন বলে দাবী করেছে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ।
তবে ক্ষমতালোভী ইউনুস প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে শেষ পর্যন্ত সরে যাবেন কিনা তা নিয়ে এখনো রয়েছে ধোঁয়াশা। বাংলাদেশি সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর,
বৃহস্পতিবার রাতে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন । বৈঠক শেষে নাহিদ বলেন, ইউনূসের পদত্যাগের পরিকল্পনার আভাস দেন। এছাড়াও ওই দিন দিনভর মহম্মদ ইউনুস তার উপদেষ্টা, পদস্থ আমলা, কূটনীতিক, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অফিসারদের সঙ্গে আলোচনায় পদত্যাগ করার কথা উল্লেখ করেছেন। রাজনৈতিক দলগুলি ইউনুসের এই ভাবনাকে ‘নাটক’ বলে সন্দেহ করলেও তিনি যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁরা মনে করছেন মহম্মদ ইউনুস দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে হতাশ। তিনি নিজেও মনে করছেন দেশে অরাজক পরিস্থিতি চলছে।
ইউনুসের উপদেষ্টা মহলের তরফে জানানো হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা তার পদ থেকে সরে গেলে বাকিদের মিলে একটি নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে দেশের অবাধ নির্বাচনের ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন মহম্মদ ইউনুস। সেই সঙ্গে ইউনুস কেউ বলেছেন,বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নেই।
তবে কি এই পদত্যাগের জল্পনা সত্যি? বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী ইউনুসের এই বক্তব্য যদি নাটক না হয়, তিনি যদি সরে যান প্রধান উপদেষ্টা পর থেকে তবে এবার বাংলাদেশের অবস্থান কি হবে? বিশেষজ্ঞ মহলের দাবী, বাংলাদেশের যদি নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তবেরাষ্ট্রপতির ভূমিকা থাকবে গুরুত্বপূর্ণ । রাষ্ট্রপতি সেই সময় ফের সুপ্রিম কোর্টের মতামত নিয়ে আর একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরিকল্পনা করতে পারেন। যে সরকারের প্রধান লক্ষ্য আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংঘঠিত করা। আবার রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সংবিধানের ১৪১-ক অনুচ্ছেদ অনুসারে দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে দেশে সেনা শাসন শুরু করার প্রস্তাব দিতে পারেন। যদিও সংবিধান অনুযায়ী জরুরি অবস্থা জারির জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি স্বাক্ষর প্রয়োজন রাষ্ট্রপতির। কিন্তু সেদেশে এখন প্রধানমন্ত্রী না থাকায়, রাষ্ট্রপতি নিজের উদ্যোগেই জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন। আরে জরুরি অবস্থার ফলে রাজনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ হয়ে যাবে গোটা দেশে। তখন পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে দ্রুত নির্বাচন করানো হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটাই সঠিক সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছে বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও।
কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সদ্য অন্তর্ভুক্তিক সরকারের দ্বারা নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের প্রতিক্রিয়া নিয়ে নানা রকম জল্পনা শুরু হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা কয়েক মাস ধরেই দাবি করে আসছেন, দেশে একটি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে স্থায়ী সরকার আসুক। ঠিক যেমনটা পূর্ববর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় হয়েছিল। সেনা সমর্থিত সেই সরকার আওয়ামী লিগ-সহ সব দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হোক। শেখ হাসিনা-সহ দলের নেতাদের নিরাপত্তার সাথে দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হোক।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল চর্চিত নাম এখন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকাররুজ্জামান। বাংলাদেশের বহু সাধারণ মানুষ চাইছেন দেশের এই অস্থিরতায় সেনাবাহিনীই দেশের ক্ষমতা হাতে তুলে নিক । দেশ বিদেশ থেকে বহু বাংলাদেশিরা সে দেশে সেনা শাসনের আর্জি জানিয়ে সমাজমাধ্যমে ঝড় তুলছে । সেনা প্রধান ওয়াকার উজ জামান যে ক্ষমতা দখল করতে চান না তা বারে বারে তার বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বারংবার বলেছেন নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে ব্যারাকে ফিরতে চান সেনাবাহিনী। কিন্তু সাধারণ মানুষ মনে করছেন ইউনুস সরকারকে নিয়ে যে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে একমাত্র সেনাবাহিনীই পারে দেশে শান্তি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে।
কিন্তু এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন ইউনুস কি সত্যিই তার পদ থেকে সরে যাবেন নাকি সবটাই প্রহসন? বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনা প্রধানের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে দেশের করিডোর থেকে বন্দর, সেন্ট মার্টিন বা দেশের সংস্কারএই সব বিষয়েই সেনাপ্রধান সরাসরিঅন্তর্বর্তী সরকারের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষজ্ঞ মহল বলছে, সেনা প্রধানের প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে প্রকাশ্য এই অসন্তোষের পর প্রধান উপদেষ্টা পদে ইউনুসের থাকা নিয়ে সম্মানের প্রশ্ন উঠে এসেছে। এই কারণেই অনেকে মনে করছেন, প্রতিহিংসা থেকে পদত্যাগ করার কথা বলে ইউনুস আসলে প্রমাদ গুনছেন, তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় বাধা, দেশের সেনাপ্রধানকে সরানোর। এখন দেশের ভবিষ্যতে কে সসম্মানে বিরাজ করবেন এবং কে বিদায় নেবেন এখন তা সময় বলবে।












Discussion about this post