গত বছর ৫ অগাস্ট বাংলাদেশের সরকার পতনের সময় প্যারিসে ছিলেন মহম্মদ ইউনুস। এরপর ৮ অগাস্ট মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তরবর্তীকালীন সরকার গঠন হলে ইউনুস জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের কাছে এখন দারুন সুযোগ। কিন্তু তারই শাসনকালের দশ মাস কাটতে না কাটতেই সেই সুযোগের আলো যেন ধীরে ধীরে ম্লান হতে শুরু করল। শাসনকালের শুরুতে যদিও দেশের সকল নাগরিক ভেবেছিল এই সরকারই হবে নিরপেক্ষ অভিভাবক যিনি পক্ষপাতহীন ভাবে দেশকে পরিচালনা করবে এবং দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মোঃ ইউনূসের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। নির্বাচনের আগে দেশের সংস্কার এই দৃষ্টিভঙ্গি যেন আরও বিতর্কে সৃষ্টি করেছে জনমানষে।
সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর তরফে যেমন দেশের দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানানো হচ্ছে তেমনি অন্তর্ভুক্তি সরকারের তরফে নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে প্রতিনিয়ত অনীহা প্রকাশ করা হচ্ছে। কখনো তিনি বলেছেন ডিসেম্বরে নির্বাচন আবার কখনো বা জুন পর্যন্ত সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনুস। যার ফলেই শুধুমাত্র সে দেশের রাজনৈতিক দল বা সংগঠনগুলি নয় সাধারণ মানুষও এখন অস্তিত্বহীনতায় ভুগছে। ভোটের দাবিতেও এখন দেশের সাধারণ নাগরিক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজেদের ভবিষ্যৎ শঙ্কার মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী নিয়ে পক্ষপাতিত্ব করছেন। এমনকি বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নিজের স্বার্থ সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন ইউনুস এমনটাই দাবি উঠেছে।
প্রধান উপদেষ্টা তার এই শাসনকালে ১০ বার বিদেশ সফর করেছেন কিন্তু এই বিদেশ সফর থেকে তিনি কি নিয়ে এসেছেন বাংলাদেশের জন্য? তার হিসাব এখনো পর্যন্ত কেউ সামনে আনতে পারেনি। উপরন্ত এই সময়কালের মধ্যেই একের পর এক দেশ বাংলাদেশের জন্য ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। আর এখন নির্বাচন নিয়েও দেশের সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস।
উল্লেখ্য নির্বাচন নিয়ে বরাবরই নিজেদের দাবী জানিয়ে সরব হয়েছে বিএনপি।শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের এরপরই তৎক্ষণাৎ বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে সভাপতিত্ব করেন এই বৈঠকের। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া বক্তব্যে শব্দচয়ন রাজনৈতিক ভব্যতার সীমা অতিক্রম করেছে বলে অভিযোগ তুলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এমনকি এরপর ওইদিন মধ্যরাতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে। এ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণ পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতভাবে এই অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে যে, পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে প্রদত্ত তার বক্তব্য প্রসঙ্গকে অতিক্রম করে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পরিণত হয়েছে। এই দীর্ঘ ভাষণে তিনি বন্দর, করিডর ইত্যাদি এমন সব বিষয়ে অবতারণা করেছেন যা তারই ভাষায় অন্তর্বর্তী সরকারের ৩টি ‘ম্যান্ডেটের’ মধ্যে পড়ে না। ভাষণে তিনি শব্দচয়নে রাজনৈতিক ভব্যতার সীমা অতিক্রম করায় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টা এই ভাষণে নির্বাচন ইস্যুতে কথা বললে সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, চলতি বছর ডিসেম্বরে নির্বাচন হচ্ছে না। আর তখনই বিএনপির তরফে প্রশ্ন কেন চলতি বছর ডিসেম্বরে নির্বাচন সম্ভব নয়, এর কোন সুনির্দিষ্ট কারণ প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে স্পষ্ট হয়নি। বিএনপির তরফ থেকে জানানো হয় সভায় প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে সময়সীমা প্রস্তাব করেছেন তা পর্যালোচনা করে সভা মনে করে যে, এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন হলে একদিকে আবহাওয়ার সংকট এবং অন্যদিকে রমজানের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা ও কার্যক্রম এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, যা নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাফসীর বাংলাদেশ জুড়ে সরকার ও সেনাবাহিনীর দ্বন্দ্বের পাশাপাশি সরকারের বিপক্ষে অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলিকে। ইউনুসের হাত ধরে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোন পথে চালিত হয় এখন সেটাই দেখার।












Discussion about this post