বাংলাদেশের সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। জাতীয় নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য দায়িত্বপালনকারী সরকারই হলো ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’। ফলে বাংলাদেশ পেয়েছিল নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণের সুযোগ। কিন্তু আওয়ামী লীগের শাসনকালে এই ব্যবস্থা পাল্টে ফেলা হয়েছিল। গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়েছিলেন। সেই সময়ই বাংলাদেশে একটাই আলোচ্য বিষয় ছিল আবারও বাংলাদেশে কোনও তত্ত্বাবধায়ক সরকার বসানো হবে কি না। আওয়ামী সরকার পতনের সঙ্গে সঙ্গেই পুরানো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ফিরে যেতে মামলাটি পুনরায় আপিল বিভাগের শুনানিতে উঠেছিল। শুনানির পর যদি আবেদনকারীদের আরজি গৃহীত হয়, তাহলে পুরাতন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ফিরে যাবে বলেই মনে করছেন সে দেশের আইনজ্ঞরা। কারণ বাংলাদেশের সংবিধান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলে কোনও ব্যবস্থাই নেই। সেই মতে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারটাই অবৈধ। আর এই সরকারের অধীনে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হবে সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বাংলাদেশে। এই অবস্থায় নিরপেক্ষ একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার দাবি জোরালো হচ্ছে পদ্মাপাড়ে।
বাংলাদেশে এই বিতর্ক দানা বাধতোই না, যদি মুহাম্মদ ইউনূস দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করতেন। কিন্তু এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশে নির্বাচন করাতে গড়িমসি করতেই রাজনৈতিক দলগুলি ও নাগরিক সমাজের একটা বড় অংশের মধ্যে একটা অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউনূসের সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে যথন আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে বাংলাদেশে একটা সুষ্ঠ, অবাধ ও অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচন করানোর জন্য চাপ আসতে শুরু করেছে। অন্যদিকে দাবি উঠেছিল, ছাত্র উপদেষ্টারা সরকারের মধ্যে থাকলে নির্বাচন কোনও মতেই নিরপেক্ষ হবে না। কারণ তাঁরাই এখন রাজনৈতিক দল গড়েছে। প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে আপিল বিভাগের ২০১১ সালের রায় রিভিউ চেয়ে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট প্রথম আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজন নামে এক সংগঠনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার-সহ বাংলাদেশের পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি। পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০২৪ সালেরই ১৬ অক্টোবর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ২৩ অক্টোবর পৃথকভাবে এই বিষয়ে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছিলেন। ক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও একই ধরনের আবেদন জানান। ফলে সবমিলিয়ে মোট চারটি রিভিউ পিটিশন জমা পড়েছিল বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে। চলতি বছরের ২৭ আগস্ট আপিল বিভাগের শুনানিতে ওঠে রিভিউ আবেদনগুলো। শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দিয়ে সাময়িক সমাধান দিতে চায় না আপিল বিভাগ। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কার্যকর সমাধান চায় আপিল বিভাগ। যাতে এটি বারবার বিঘ্নিত না হয়। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে এটি যাতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব রাখে, সেটিই করা হবে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, যে ভাবে মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রহণযোগ্যতা কমছে। এবং বিএনপি-এনসিপি-জামাতের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসছে। তাতে ইউনূস সরকারের পতন কেবলমাত্র সময়ের অপেক্ষা। জানা যাচ্ছে, মার্কিন যুক্ররাষ্ট্রের তরফেই নাকি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে। এমনকি তাঁকেই ওই সরকারের দায়িত্ব নিতে হতে পারে বলেও মত দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ইউনূসের খেল খতম হতে বেশি সময় নেই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে আজও আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশে গত...
Read more












Discussion about this post