মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মিকে মানবিক করিডোর প্রদান করছে বাংলাদেশ। আনুষ্ঠানিক না হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার খবরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মিয়ানমারের জুন্টা সরকার।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, আরাকান আর্মির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সম্প্রতি এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়েছে মিয়ানমার সরকার। চিঠিতে কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে জুন্টা সরকার বলেছে, ‘আরাকান আর্মি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তারা নন-স্টেট অ্যাক্টর।’
সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারে রাখাইন প্রদেশে মানবিক সহায়তা করিডর তৈরি করতে চলেছে। গত মাস থেকেই মার্কিন সেনা কর্তারা বাংলাদেশ সেনা কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মার্কিন সেনাকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোয়েল পি ভোয়েলও বৈঠক করেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে। এরপর প্রায়শই দেখা গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদস্থ কর্তারা বাংলাদেশ সফর করেছেন। এমনকি তারা বৈঠক করছেন বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তারা।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে এও দাবি করা হচ্ছে ওই করিডর এর মাধ্যমে আরাকান আর্মিসহ আরো বিভিন্ন বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর এর জন্য তারা বাংলাদেশকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছে। অর্থাৎ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিকে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ করে সে দেশের সামরিক জুন্টা সরকারকে উৎখাত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,বিগত সময়ে আরাকান আর্মির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগ থাকলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিশেষ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান।
ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে খলিলুর রহমান বলেছিলেন, “বাংলাদেশ আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। যেদিন আরাকান আর্মি সীমান্তে তাদের পতাকা উত্তোলন করেছিল, সেদিনই বুঝতে পেরেছিলাম যে এটি একটি নতুন বিশ্ব। ফলে তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। আমি বুঝতে পেরেছিলাম আরাকান আর্মিকে একটি সংকেত পাঠানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। “
কূটনীতিকদের মতে, অতীতে আরাকান আর্মির সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ হয়েছে। তবে বিষয়টি গোপন রাখা হতো। আরাকান আর্মি স্বীকৃতি চায়। আর সেই কারণে আরাকান আর্মি বাংলাদেশের কাছে আসত যোগাযোগ করতে। জুন্টা সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আছে। সেই কারণে চলমান পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক— উভয় দিক বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশকে এগোতে হবে।
প্রসঙ্গত, অপরদিকে জুন্টা বাহিনীকে সরাসরি সাহায্য করতে সচেষ্ট চিন। আবার এই তালিকায় নাম রয়েছে শক্তি ধর দেশ রাশিয়াও। এই পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের জুন্টা বাহিনী বাংলাদেশে আক্রমণ চালাতে পারে বলেই গোয়েন্দা রিপোর্ট সামনে আসছে। ফলে সেই দিক থেকে মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশ সেনাকে যুদ্ধ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশও দিতে পারেন।












Discussion about this post