ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় যে হিংসার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেখা গিয়েছিল সেখানে আগেই বাংলাদেশের জঙ্গিযোগ ছিল বলে দাবি করেছিল কেন্দ্র বাহিনী। এবার বাংলাদেশের লস্কর ই তইবার আউটফিটেরা তাদের স্লিপার সেল গুলির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে মালদা ও মুর্শিদাবাদে হামলা চালিয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইন্টালিজেন্স ব্যুরোর রিপোর্টে।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আলোচনা সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কারণ সাম্প্রতিককালে লস্কর-তেইবার সদস্যদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে, তাই এখন তিনি বেশ কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস এর মন্ত্রিসভার একজন অন্যতম মন্ত্রী হলেন এই আসিফ নজরুল। সূত্র বলছে সম্প্রতি আসিফ নজরুল ঢাকায় একটি বৈঠক করেছেন লস্কর ই তৈবার প্রধানের সঙ্গে। লস্কর ই তইবার এই প্রধান পাকিস্তান থেকে দুবাই হয়ে বাংলাদেশের প্রবেশ করে ঢাকায় বৈঠকে বসে ছিলেন। আর এর পরই আসিফ নজরুল তিনি সমাজ মাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করেন।
এরপর ভারতের কাশ্মীরে ঘটে যাওয়া হামলার নিন্দা করেএকটি পোস্টেআসিফ নজরুল লিখেছিলেন, কাশ্মীরে পর্যটক হত্যার নিন্দা জানাই। তবে এর পেছনে কারা আছে তা জানা প্রয়োজন। আর বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী যখন এই ধরনের বিতর্কিত পোস্ট করেন তখন তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল পড়বে সেটাই স্বাভাবিক। ফলে কিছুক্ষণের মধ্যেই আসিফ নজরুল তাঁর ফেসবুক পোস্টটি ডিলিট করে দেন। দেখা গেল তার এই পোস্টের স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেও শুরু করলো। তারপরে আরো কিছুটা কোন ঠাসা হতে হলো ইউনূস সরকারকে।
গত মঙ্গলবার কাশ্মীরের পহেলগাঁও এ সশস্ত্র জঙ্গি পর্যটকদের উপর হামলা চালায়। হিন্দুদের চিহ্নিত করে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় ২৬ জন পর্যটককে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আত্মই গোটা বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রপ্রধানরা শোক প্রকাশ এবং সন্ত্রাস দমনে ভারতের পাশে থাকার বার্তা দেন তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির পুতিন সহ ভারতের প্রতিবেশী দেশ নেপাল, ভূটান, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা এমনকি পাকিস্তানের তরফেও এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি আসে। কিন্তু এই ঘটনায় বার্তা দিতে বিলম্ব করতে দেখা গেল বাংলাদেশকে। মুহাম্মদ ইউনূসের তরফে সেই বিবৃতি আসে ঘটনার২৪ ঘণ্টা পর।
উল্লেখ্য, পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার দায় পাকিস্তানের দিকেই ঠেলেছে ভারত। তাই হয়তো সদ্য বন্ধু হওয়া পাকিস্তানকে খুশি করতেই দায়সারা দুঃখপ্রকাশ করল ঢাকা। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে। তাতে লেখা হয়েছে, ‘‘ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে যে জঙ্গি হামলা হয়েছে, বাংলাদেশ তার তীব্র বিরোধিতা করছে। নিষ্পাপ মানুষের প্রাণ গিয়েছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এরপর সমাজমাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা মাহমুদ ইউনুছের পৃথক বিবৃতি দেখা যায় পহেলগাও এর ঘটনা প্রসঙ্গে । তিনি লিখেছেন, ‘‘কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা এবং প্রাণহানির ঘটনায় আমার গভীর সমবেদনা রইল। এই জঘন্য অপরাধের তীব্র বিরোধিতা করছি আমরা। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান বরাবর দৃঢ়, তা পুনর্ব্যক্ত করলাম। যে দেশে ক্ষমতায় আসার পর ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস শতাধিক জঙ্গিকে জেল থেকে মুক্তি দিয়েছেন। সেই ইউনূসই আবার বলছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান বরাবর দৃঢ়। ফলে তার এই বিবৃতি কতটা ভিত্তিহীন তা আবারও প্রমাণ করলো মোহাম্মদ ইউনুস। এবার দেখা গেল পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল কৌশলী কায়দায় একটি ফেসবুক পোস্ট করেন। তিনি পহেলগাঁও হামলার নিন্দার পাশাপাশি ভারতকে কাঠগড়ায় তুলতে দ্বিধাবোধ করলেন না। আসিফ নজরুল ওই পোস্টে লেখেন, এই হামলার পিছনে কারা আছে তা জেনে নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর পোস্টে উঠে এসেছে অমিত শাহ, অজিত ডোভালের নামও। অনেকটা এরকম যে পহেলগাঁওতে হামলা ভারতই করিয়েছে। যেটি পাকিস্তানের বক্তব্য। অর্থাৎ পাকিস্তানের ভাষায় কথা বলছেন বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা। এই পোস্ট বিতর্ক সৃষ্টি হলে তিনি পোস্টটি ডিলিট করে দেন। কিন্তু বিপদে পড়লেন মুহাম্মদ ইউনূস। কারণ বাংলাদেশ যে সন্ত্রাসবাদী মদতে পাকিস্তানের পাশে আছে তা এই পোস্ট থেকে প্রমাণিত হয়। তাই ভারত যদি সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়, তাহলে বাংলাদেশ যে ছাড় পাবে না তা হয়তো বুঝতে পারছেন সেদেশের প্রধান উপদেষ্টাও।












Discussion about this post