বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট আর মাত্র দিন পনেরো বাকি। গোটা দেশজুড়েই চলছে জোরদার ভোটপ্রচার। ঠিক এই আবহেই আবারও অস্থির হচ্ছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত। পরিস্থিতি যা, তাতে বড়সড় সংঘাতে জড়াতে পারে বাংলাদেশ এবং মায়ানমার। বলা ভালো মিয়ানমারের সামরিক জুন্টা প্রশাসন যে কোনও সময় হামলা চালাতে পারে বাংলাদেশে। মায়ানমারের তরফ থেকে বারবার অভিযোগ করা হচ্ছে, বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করছে মায়ানমারের সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলি। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠনগুলি মিয়ানমার সেনা এবং আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে বলে দাবি। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কক্সবাজার–টেকনাফ সীমান্ত, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকাগুলোতে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল— এই অঞ্চলের শত শত বাংলাদেশি পাহাড়ি যুবক আরাকান আর্মির পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে বলেই বিভিন্ন সূত্রের দাবি। এটা কোনও ভাবেই মেনে নিতে পারছে না মিয়ানমারের সামরিক শাসকরা। ফলে যে কোনও সময় যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলেই মনে করছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেশকদের একাংশ।
মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির সূত্রপাত দিন দশ-পনেরো আগে ঘটা একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং কয়েকটি সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠী মিলে বাংলাদেশে লাগোয়া এলাকায় মায়ানমার সেনাবাহিনীর উপরে ড্রোন হামলা চালায়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল, যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। মিয়ানমারের অভিযোগ, বিভিন্ন মায়ানমার বিরোধী গোষ্ঠী নাকি বাংলাদেশের জমি ব্যবহার করে তাঁদের সেনাবাহিনীর উপর হামলা চালাচ্ছে। আর এই সুযোগ করে দিচ্ছে খোদ মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার! মিয়ানমারের আরও অভিযোগ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমেই রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র এবং ড্রোন পাচ্ছে। যা তাঁরা মিয়ানমারে ব্যবহার করছে। মিয়ানমারের সামরিক জুন্টা সরকার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, এই ঘটনা একেবারেই বরদাস্ত করা হবে না। কারণ, ওই ড্রোন হামলায় নাকি বেশ কয়েকজন মিয়ানমার সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এরপরই নেপিদোতে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করে জুন্টা সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানিয়েছিল। মিয়ানমারে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে বলে দেওয়া হয়েছিল, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাতে মায়ানমারে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। অভিযোগ, ঢাকা নাকি এর কোনও জবাবই দেয়নি। তাতেই চটে গিয়েছে মায়ানমার। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, মিয়ানমারের সামরিক শাসকরা ধরেই নিয়েছে, বিগত দিনগুলিতে হওয়া হামলাগুলির পেছনে ইউনূস সরকারের হাত রয়েছে। এবার নাকি সে কারণেই বাংলাদেশের কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-সহ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিমান হামলার ছক কষছে মায়ানমার সেনাবাহিনী। এও জানা যাচ্ছে, মায়ানমারের জুন্টা সরকারের তরফে পূর্ণ নির্দেশ পেলেই বাংলাদেশে পুরোপুরি সামরিক অভিযান শুরু করে দিতে পারে মায়ানমার সেনা।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। কারণ, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বাংলাদেশের থেকে অনেক বেশি। তাঁরা অনেক বেশি সামরিক অস্ত্রশস্ত্র এবং আরও আধুনিত যুদ্ধবিমানে সজ্জিত। পাশাপাশি তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই আরাকান আর্মির মতো একাধিক সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেই অভিজ্ঞতা নেই। বাংলাদেশের চিন্তা আবার মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে নিয়েই নয়। আরাকান আর্মিও চটেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপর। কারণ, একাধিক রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আরাকান আর্মির ধারণা, তাঁরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর থেকেই আধুনিক অস্ত্র এবং প্রশিক্ষণ পাচ্ছে। ফলে তাঁরাও কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রামে হামলা চালাতে পারে বলে অনুমান। বাংলাদেশের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা প্রধান উপদেষ্টার দফতর-সহ অন্যান্য দফতরে রিপোর্ট পাঠিয়ে বলেছে, কক্সবাজার–টেকনাফ এলাকাকে একটি ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ নিরাপত্তা অঞ্চলে পরিণত করতে। সেই সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের স্থিতিশীলতা এবং সামগ্রিক সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুহাম্মদ ইউনূসের এখন শিঁরে সংক্রান্তি। একদিকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, অন্যদিকে মিয়ানমার সীমান্তে যুদ্ধের দামামা।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড বলে যাকে গোটা বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।...
Read more












Discussion about this post